জন্ম থেকেই পোলিও আক্রান্ত। হাঁটাচলা করতে পারেন না। ৩৫ বছর বয়সেও বাবা-মায়ের কোলে চড়েই খাওয়া-দাওয়া থেকে প্রাতঃকৃত্য— সব। ২০০৫ সালে সরকারি ভাবে ১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সুধা কারক এখনও প্রাপ্য সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি সাহায্যের আশায় পঞ্চায়েতের দরজায়-দরজায় ঘুরেছেন। কিন্তু কিছুই জোটেনি। বৃহস্পতিবার মায়ের কোলে চড়ে এ বার তিনি বিষ্ণুপুরের বিডিও-র দ্বারস্থ হলেন। আর্জি সেই একটাই— ‘‘সরকারি সুবিধাটুকু দিন।’’
সুধাদেবীর বাড়ি বিষ্ণুপুর থানার বাঁকাদহ অঞ্চলের মাজুরিয়া গ্রামে। তাঁর মা বিষ্ণুপ্রিয়া কারকের অভিযোগ, ‘‘‘আমরা অত্যন্ত দুঃস্থ। স্বামী দিন মজুরি করেন। দুই ছেলে আলাদা। জন্ম থেকেই পোলিও আক্রান্ত মেয়েটিকে নিয়ে খুব অসহায় ভাবে দিন কাটছে। ভেবেছিলাম প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি সাহায্য অন্তত মেয়ে পাবে। কিন্তু তাও জোটেনি।’’
তাঁর আক্ষেপ, গত এক দশক ধরে মেয়েকে প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি সুবিধা দেওয়ার জন্য তিনি দফায় দফায় পঞ্চায়েতে গিয়েছেন। গ্রাম সদস্য থেকে পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে তদ্বির করেছেন। মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন, লিখিত আবেদনও করেছেন। পঞ্চায়েতের ক্ষমতায় নতুন মুখ এলেও লাভ হয়নি তাঁর।
তাঁর কথায় ‘‘পঞ্চায়েতে কাজ না হওয়ায় এ বার বিডিও-র কাছে আসা। যদি কিছু সাহায্য মেলে।’’ বিষ্ণুপুরের বিডিও জয়তী চক্রবর্তীর আশ্বাস, ‘‘এই প্রতিবন্ধী মহিলার আগের কোনও আবেদন আমার কাছে আসেনি। আমি নতুন করে আবেদন করতে বলেছি। বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’’
বাঁকাদহ পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান রঘুমণি সাহার দাবি, ওই প্রতিবন্ধীর আবেদন তিনি ঠিক সময়েই বিডিও-র কাছে পাঠিয়েছিলেন। তবে আগের বিডিও বদলি হয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘খোঁজ নিয়ে দেখব এখন সেই আবেদন কী অবস্থায় রয়েছে।’’