ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়া অন্ধকার থাবা বসায় ফি বছর পর্যটন মরসুমেই। গাড়ির জোরালো হেডলাইটও সেই অন্ধকার কাটাতে পারে না। অনেক সময় কুয়াশার জেরে দুর্ঘটনার মুখে পড়েন যাত্রীরা। শুক্রবার সকালেও সেই কুয়াশার কারণেই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হল পাথর বোঝাই ট্রাকের। বাঁকুড়া-মেদিনীপুর ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বিষ্ণুপুর থানার মড়ার এলাকায়। বরাত জোরে ঘটনায় প্রাণহানি হয়নি। তবে, জখম হয়েছেন বাসের চালক-সহ ১৭ জন যাত্রী। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করায়। দুর্ঘটনার পরেই ট্রাক ফেলে চম্পট দেয় চালক। পুলিশ ট্রাকটিকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাত জন মহিলা। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে বাসের চালক সজল মণ্ডল জানান, বাসটি খড়্গপুর থেকে ভোর চারটে নাগাদ ছাড়ে বহরমপুরের উদ্দেশে। এ দিন ভোর থেকেই কুয়াশায় ঢাকা ছিল চারপাশ। হেডলাইট জ্বেলেও গাড়ির এক হাত দূরের কিছুও দেখা যাচ্ছিল না। ফলে খুবই ধীরে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছিলেন সজলবাবু। হঠাৎই উল্টো দিক থেকে আসা পাথরবোঝাই ট্রাক তীব্র বেগে এসে ধাক্কা মারে বাসটিকে। সজলবাবুর কথায়, “পলকের মধ্যে ঘটে গেল ঘটনাটা। হঠাৎই অন্ধকার ভেদ করে এসে ধাক্কা মারল ট্রাক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাস টলমল করতে করতে দাঁড়িয়ে পড়ল।’’ পায়ে চোট পেয়েছেন সজলবাবু। বাসটিতে সাকুল্যে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। জখম যাত্রীদের মধ্যে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা উজির হোসেন, মুরশিদ আলি, আলাউদ্দিন সেখরা জানান, খড়্গপুরে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজে এসেছিলেন তাঁরা। এ দিন ওই বাস ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁরা বললেন, “ভিতরের সিটে বসেছিলাম। বাসটি আস্তে আস্তেই চলছিল। হঠাৎই প্রচণ্ড ঝঁাকুনিতে ছিটকে গিয়ে পড়লাম সামনে। খুব জোর বেঁচে গিয়েছি।’’
তবে আতঙ্ক শুধু দুর্ঘটনার শিকার যাত্রীদের মধ্যেই নয়, গাড়ির চালক থেকে পর্যটক সকলের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে কুয়াশার কারণে। ভোরবেলায় বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রুটে বাস চালান তারক পাল। মাঝে মাঝে চুক্তিতে পর্যটকদের নিয়েও পাড়ি দেন বিভিন্ন এলাকায়। তিনি জানাচ্ছেন, কুয়াশার অন্ধকারে সামনের রাস্তা দেখাই যায় না। বিশেষ করে যে সব রাস্তায় বেশি বাঁক রয়েছে, সেগুলিতে সমস্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অথচ এই জেলার বাঁকুড়া-দুর্গাপুর, শালতোড়া-বাঁকুড়া রাস্তাগুলিতে পরতে পরতে বাঁক রয়েছে। তারকবাবুর কথায়, “কুয়াশার জন্য ভোরের দিকে গাড়ি চালানোটা খুবই ঝুঁকির। যতটা সম্ভব সতর্ক হয়ে চালাই। যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকেন।’’ জেলা বাস মালিক সমিতির সম্পাদক দীপক সুকুল বলেন, “শীতে ভোরের বাসগুলিকে নিয়ে আমরা খুবই চিন্তায় থাকি।’’ যদিও এই ঘটনার জন্য বাসের সময় সূচি কখনওই পরিবর্তন করা হয় না বলে জানিয়েছেন তিনি।
শীতের খামখেয়ালিপনায় চলতি মরসুমে কুয়াশার দাপট তেমন দেখা যাচ্ছে না। যেমন বাঁকুড়া রেল স্টেশনের ম্যানেজার শান্তব্রত বিশ্বাস জানাচ্ছেন, এ বার কুয়াশার প্রভাব তেমন পড়েনি ট্রেন চলাচলে। অন্যান্য বছর সকালের দিকের ট্রেনগুলি নিয়মিত দেরি করে চলে কুয়াশার কারণে। ট্রেন বাতিলও করতে হয়। তবে, এ বার ট্রেন বাতিল তো হয়ইনি, সকালের দিকের ট্রেনগুলিও নির্দিষ্ট সময়েই চলেছে বেশিরভাগ দিন।