পঞ্চায়েতের লাগানো গাছ কেটে নিয়ে পালানোর ছক কষে ছিল কয়েকজন। খবর পেয়ে তাদের সেই ছক বানচাল করে দিয়েছিলেন বিডিও স্বয়ং। কিন্তু এখনও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনাটি দুবরাজপুরের বালিজুড়ি পঞ্চায়েত এলাকার। দুবরাজপুরের বিডিও সুশান্তকুমার বালা বলেন, ‘‘গাছ ট্রাক্টরে করে পাচার করার চেষ্টা করেছিল। তা আটকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে, সেই অংশটি ঠিক দুবরাজপুর থানা বা ব্লক এলাকায়, না কি খয়রাশোল থানা এলাকায়— তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরকে রিপোর্ট দিতে বলেছি। সেটা পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’’
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর কয়েক আগে বালিজুড়ি পঞ্চায়েত চুক্তির ভিত্তিতে ব্যক্তিগত জমিতে গাছ লাগিয়ে ছিল। ইউক্যালিপটাস, সোনাঝুরি এবং শিশু গাছ লাগানো হয়েছিল ওই পঞ্চায়েতের বেলসাড়া মৌজায় (সারিবাগানের কাছাকাছি হিংলো সেচ খালের ধার ঘেঁষা জমিতে)। অভিযোগ, গত ৫ মে বিকেলে কাউকে কিছু না জানিয়েই বেশ কয়েকটি গাছ কেটে পাচারের তালে ছিলেন জমির এক অশীদার মকর বাগদি এবং নকুল পাল। যখন একাজ করাচ্ছেন তাঁরা, তখনই বিডিওকে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিডিও এসে দেখেন বেশ কিছু গাছ কেটে একটি ট্রাক্টরে বোঝাই করা হয়েছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে আরও কিছু গাছ। বিডিওর কাছ থেকে খবর পেয়ে দুবরাজপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু এটি তাদের এলাকায় পড়ছে কি না তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বিডিও গাছগুলিকে পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। দিন কয়েক পরেই বিলিজুড়ি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব ঘোষ, অধীর দাস, প্রশান্ত মুখোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দা ওই দু’জনের নামে বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। মকর বাগদির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে নকুল পাল তাঁর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ মানেননি। তাঁর দাবি, ‘‘আমার জমিও নয়। গাছও আমি কাটিনি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আসলে বালিজুড়ি পঞ্চায়েতে একটা অচলাবস্থা চলছে। এই ঘটনা তারই জের।’’
প্রসঙ্গত, তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বালিজুড়ির প্রধান শিবঠাকুর মণ্ডলকে। পদ থেকে তাঁর ইস্তফা দেওয়ার দাবি তুলেছেন তৃণমূলের সদস্যরা। এ সব নিয়ে একটা টালমাটাল অবস্থা বেশ কয়েকমাস ধরেই চলছে। পঞ্চায়েত প্রধান শিবঠাকুর মণ্ডল অবশ্য এই প্রসঙ্গে বিশদে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘‘কী হয়েছে তা আমি ঠিক জানি না। তবে মকর বাগদি আমাকে মৌখিক ভাবে গাছ চুরির কথা বলেছিলেন।’’ অন্য দিকে, যাঁরা দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন সেই প্রশান্তবাবুরা বলছেন, ‘‘একটা অন্যায় হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্তদের শাস্তি দাবি করেছি। এখানে পঞ্চায়েতের অচলাবস্থাটা বিষয় নয়। গাছ নিয়ে এত কাণ্ড। অথচ বনদফতর গাছচুরি কাণ্ডের কিছুই জানে না।’’ বনদফতরের দুবরাজপুর রেঞ্জ অফিসার কুদ্দুস হোসেন বলেন, ‘‘এমন কোনও ঘটনার কথা আমার গোচরে নেই।’’