Advertisement
E-Paper

গ্রন্থাগার নির্বাচনে তৃণমূল-সিপিএমকে টেক্কা দিল বিজেপি

পুরুলিয়ায় কলেজের পর এ বার বাঁকুড়ায় গ্রন্থাগার পরিচালন সমিতির নির্বাচনে চমক দিল বিজেপি। তৃণমুল ও সিপিএমের সঙ্গে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গ্রন্থাগার পরিচালন সমিতির ১০টি আসনের সবক’টিই তারা জিতে নিল। বাঁকুড়া ২ ব্লকের মগরা গ্রামের মানকানালি পঞ্চায়েত গ্রামীণ গ্রন্থাগারে রবিবার নির্বাচন হয়। গণনা করে ফল প্রকাশ হয় সোমবার। বাঁকুড়া শহর লাগোয়া মগরা গ্রামের এই গ্রন্থাগার পরিচালন কমিটি নির্বাচনের ফলাফলে আলোড়ন পড়েছে জেলা রাজনৈতিক মহলে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ ০২:১৬

পুরুলিয়ায় কলেজের পর এ বার বাঁকুড়ায় গ্রন্থাগার পরিচালন সমিতির নির্বাচনে চমক দিল বিজেপি। তৃণমুল ও সিপিএমের সঙ্গে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গ্রন্থাগার পরিচালন সমিতির ১০টি আসনের সবক’টিই তারা জিতে নিল। বাঁকুড়া ২ ব্লকের মগরা গ্রামের মানকানালি পঞ্চায়েত গ্রামীণ গ্রন্থাগারে রবিবার নির্বাচন হয়। গণনা করে ফল প্রকাশ হয় সোমবার।

বাঁকুড়া শহর লাগোয়া মগরা গ্রামের এই গ্রন্থাগার পরিচালন কমিটি নির্বাচনের ফলাফলে আলোড়ন পড়েছে জেলা রাজনৈতিক মহলে। বছর ছ’য়েক আগে এই গ্রন্থাগারে শেষ নির্বাচন হয়েছিল। তখন বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করে কমিটি গড়েন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল বামেদের সরিয়ে বোর্ড গঠন করে। পঞ্চায়েত সমিতিও তৃণমূলের। তাই এই অবস্থায় বিজেপি এই সাফল্যকে খাটো করে দেখতে চাইছে না।

তবে এই এলাকায় বিজেপি হঠাৎ উত্থান হয়েছে এমনটাও মানতে নারাজ এলাকার রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁরা জানান, ১৯৯৩ সালে মানকানালি পঞ্চায়েতে একক ভাবে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। তবে সে বার কংগ্রেসের সঙ্গে অলিখিত ভাবে তারা জোট গড়েছিল। তখন এই এলাকায় সংগঠন অনেকটাই শক্তিশালী করেছি বিজেপি। তবে ২০০৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে রায়বাঁধ অঞ্চলে গ্রাম সংসদ জয় ছাড়া তেমন কোনও সাফল্য আর দেখা যায়নি বিজেপির। সে বার পঞ্চায়েত দখল করেছিল তৃণমূল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও মানকানালি পঞ্চায়েতের ১৫টি আসনের মধ্যে ৯টি তৃণমূল জেতে। ছ’টি আসন পায় সিপিএম। এই পঞ্চায়েত এলাকার তিনটি পঞ্চায়েত সমিতির আসনের মধ্যে দু’টি পায় সিপিএম, একটি তৃণমূল।

তাই রাজ্যে পালাবদল হলেও মানকানালি যে তৃণমূলের ‘গড়’ হয়ে উঠতে পারেনি তা এই ফলাফলেই প্রমাণ।গত লোকসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে এই পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল ও সিপিএমের পরে বিজেপি স্থান পেয়েছিল। কিন্তু ওই নির্বাচনের রায়বাঁধ গ্রামের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে বিজেপিই অন্য দলগুলির থেকে এগিয়েছিল।

মানকানালি পঞ্চায়েত গ্রামীণ গ্রন্থাগারে এই রায়বাঁধ গ্রামেরই সদস্য সংখ্যা বেশি বলেই জানাচ্ছেন এলাকার রাজনৈতিক কর্মীরা। এ ছাড়াও তৃণমূলের দাবি, সিপিএমের একটা বড় অংশের ভোটও গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। তবে যাই হোক, গ্রন্থাগার নির্বাচনে জয়ে বিজেপির লোকসভার সাফল্য যে অব্যাহত রয়েছে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।

তবে গ্রন্থাগার নির্বাচনে বিজেপির এই সাফল্যকে মানুষের রায় বলে মানতে নারাজ তৃণমূল ও সিপিএম দু’দলই। তৃণমূলের মানকানালি অঞ্চল সভাপতি সত্যনারায়ণ ধুয়া দাবি করেন, “নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের শ’তিনেক পরিবারের লোকজনকে গ্রন্থাগারের সদস্য করে। কিন্তু আমরা বিষয়টিকে অতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখিনি। এতেই পাল্টে গিয়েছে ফলাফল।” সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য কিঙ্কর পোশাকের অভিযোগ, “নতুন সদস্য করার পাশাপাশি টাকা দিয়েও ভোট কিনেছে বিজেপি। সৎ পথে এই জয় হয়নি।”

যদিও এই সব অভিযোগ উড়িয়ে জয়ের জন্য এলাকার অনুন্নয়নকেই কারণ হিসেবে দাবি করছেন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের পর থেকে এই অঞ্চলে বিজেপিকে বেশ কয়েকবার পথসভা করতে দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তাদের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও নামতে দেখা গিয়েছে। দলের অন্যতম জেলা সম্পাদক মহাদেব রানা বলেন, “প্রচারে আমরা মানুষের কাছে অনুন্নয়নের কথা তুলে ধরেছিলাম।” তাঁর দাবি, এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার নেই, স্কুলগুলিতে তৃণমূলের পরিচালন সমিতি থাকলেও কোনও উন্নয়ন নেই। পঞ্চায়েতের প্রকল্প নিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতির অভিযোগও তাঁরা তুলে ধরেছিলেন। তাঁর সংযোজন, “এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে গ্রন্থাগারে আমাদের একটা সুযোগ দিতে বলেছিলাম। মানুষ সাড়া দিয়েছেন।”

বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি সুভাষ সরকার বলেন, “কলেজ ভোটগুলিতে সন্ত্রাস চালিয়ে আমাদের আটকে দিল তৃণমূল। যদি আমাদের ছাত্রেরা ভোটে দাঁড়াতে পারত, তাহলে কী হতো তার আঁচ পাওয়া গেল এই গ্রন্থাগার নির্বাচনে।” অন্য দিকে তৃণমূল নেতা তথা জেলা সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী এই গ্রন্থাগার নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক ভাবে আমরা এখানে প্রার্থীই দিইনি। এটা একটা গ্রামের নির্বাচন। রাজনৈতিক লড়াই হলে উল্টো ফলাফল হতো।”

তবে অরূপবাবু যাই বলুন গ্রন্থাগার নির্বাচনের ফলাফল তৃণমূল শিবিরে ধাক্কা দিয়েছে বলে মেনে নিচ্ছেন শাসকদলের বহু নেতাই। এই হারের কারণ পর্যালোচনা হবে বলেও তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মানকানালির একটি সমবায় সমিতিতে নির্বাচন রয়েছে। সেখানেও বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে। এর পরে ওই লড়াইকে আর হাল্কা ভাবে নিতে নারাজ তৃণমূল।

bjp bankura library election
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy