Advertisement
E-Paper

টোটো-কাণ্ডে সরব বিরোধীরা

টোটোর নাম নথিভুক্ত করার নামে রামপুরহাট পুরসভা বেআইনি ভাবে টাকা তুলছে বলে অভিযোগ করলেন বিরোধী কাউন্সিলাররা। মঙ্গলবার চার বিরোধী কাউন্সিলার পুরসভায় ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। ছিলেন, বিজেপির দুই কাউন্সিলার শুভাশিস চৌধুরী ও ভগিরথ লেট, কংগ্রেস কাউন্সিলার সুদেব দাস ও সিপিএম কাউন্সিলার সঞ্জিব মল্লিক। বিরোধীদের স্মারকলিপি দেওয়াকে কটাক্ষ করে ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘আমি কিছু বলতে পারব না, যা বলার চেয়ারম্যান বলবে।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ ০০:৫০
পুরসভার সামনে টোটোয় বসে চলছে ফর্ম পূরণ। —সব্যসাচী ইসলাম

পুরসভার সামনে টোটোয় বসে চলছে ফর্ম পূরণ। —সব্যসাচী ইসলাম

টোটোর নাম নথিভুক্ত করার নামে রামপুরহাট পুরসভা বেআইনি ভাবে টাকা তুলছে বলে অভিযোগ করলেন বিরোধী কাউন্সিলাররা। মঙ্গলবার চার বিরোধী কাউন্সিলার পুরসভায় ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। ছিলেন, বিজেপির দুই কাউন্সিলার শুভাশিস চৌধুরী ও ভগিরথ লেট, কংগ্রেস কাউন্সিলার সুদেব দাস ও সিপিএম কাউন্সিলার সঞ্জিব মল্লিক। বিরোধীদের স্মারকলিপি দেওয়াকে কটাক্ষ করে ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘আমি কিছু বলতে পারব না, যা বলার চেয়ারম্যান বলবে।’’

বিরোধীদের অভিযোগ, টোটো চালকদের কাছ থেকে নাম নথিভুক্ত করা ফর্মের দাম বাবদ পুরসভা ১৫০ টাকা করে নিচ্ছে। তৃণমূল ইউনিয়নের সদস্য ছাড়া অন্যরা সেই ফর্ম পাচ্ছেন না। একই অভিযোগ করেন কয়েকজন টোটোচালকও। রাজউদ্দিন সেখ, সমর মাহারা, মহঃ নাজিমুলেরা জানান, তাঁরা ইউনিয়নের সদস্য নয় বলে গতকাল তাঁদের ফর্ম দেওয়া হয়নি। পুরসভার এক কর্মী জানান, তৃণমুল পরিচালিত টোটো ইউনিয়নের মধ্যমে যারা আসছে তাদের আগে ফর্ম দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনা হল, সোমবার থেকে টোটোর নাম নথিভুক্ত করা শুরু করে রামপুরহাট পুরসভা। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুকান্ত সরকার ওই দিন জানান, সমস্ত টোটোর নাম নথিভুক্ত হয়ে যাওয়ার পর পুরসভা নম্বর দেবে। বিরোধীদের দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশকে আমান্য করে পুরসভা টোটোর নাম নথিভুক্ত করছে। পরিবহণ দফতরের জেলা সহ আধিকারিক মানস হালদার বলেছিলেন, ‘‘এ কাজ শুধুমাত্র পরিবহণ দফতরের এক্তিয়ারের মধ্যেই পড়ে।’’ টোটোর নাম নথিভুক্ত করার জন্য সোমবার সকালে পুরসভা থেকে মাইকে ঘোষণা করা হয়। সেই মতো পুরসভায় টোটো চালকেরা ফর্ম তুলেতে শুরু করেন। ১০০ টাকা দিয়ে টোটো চালকের ফর্ম তুলে অনেকে জমাও দিয়ে দেন। পুরসভা সূত্রে খবর, সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২০০-অধিক ফর্ম জমা পড়েছে।

এ দিন, বিরোধী কাউন্সিলারদের দাবি, শহরের সমস্থ টোটো চালককে ফর্ম দিতে হবে। শুধু মাত্র তৃণমূল ইউনিয়নের টোটো চালকদের ফর্ম দেওয়া যাবে না। তাঁদের আরও দাবি, টোটো চালকদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এমনভাবে কোনও টাকা নেওয়ার ক্ষমতা নেই পুরসভার। সুকান্ত সরকার বলেন, ‘‘আমরা ১৫০ টাকা নয় ১০০ টাকা নিচ্ছি।’’ ১০০ টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘‘আমি কিছু বলতে পারব না, যা বলার চেয়ারম্যান বলবেন।’’ এ দিন পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন না। তাঁকে ফোনেও পাওয়া যায়নি। টোটো চালক ফজল সেখ, সমর মাল, সুরজ রামেরা জানান, তাঁদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কার নিচ্ছে এই ১৫০ টাকা?

টোটো চালক কৈলাশ প্রসাদ, জগন্নাথ চোঙদার, পূর্ণ দাসের কথায়, ‘‘পুরসভা নিচ্ছে ১০০ টাকা আর তৃণমূল পরিচালিত ইউনিয়ন ৫০ টাকা করে নিচ্ছে।’’ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনুপ দাসের কথায়, টোটো চালকদের ফর্ম দিচ্ছে ইউনিয়নের সদস্যরা। টোটো চালক ইউনিয়নের এক সম্পাদক মিলন দাস একটা গাড়িতে বসে ফর্ম বিলি করছিল ও ১৫০ টাকার বিনিময়ে। টোটো ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা আব্দুল হামিদ অপু বলেন, ‘‘ইউনিয়নের ফান্ড তৈরির জন্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বকর্মা পুজোর সময় ইউনিয়ন কিছু ধার করেছিল। সেই ধারও মেটানো হবে এই টাকায়।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy