দিন কয়েক আগেই ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। তার পরেও মহিলার স্বামী-সহ গ্রামের আরও ১০-১২ জন জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে তিন জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। উদ্বেগে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে বাসিন্দাদের। অথচ ডেঙ্গি প্রতিরোধে প্রশাসনের কোনও হেলদোলই নেই। এমনই অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী থেকে বিডিও— প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্মারকলিপি দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার ময়ূরেশ্বরের কোটাসুর কাজিপাড়ার ঘটনা।
স্বাস্থ্য দফতর ও স্থানীয় সূত্রের খবর, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই গ্রামের এক বধূ রেখা দাসের। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পরের দিনই স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল এলাকায় গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিলি-সহ ব্লিচিং পাউডার ছড়ায়। তাসত্ত্বেও ওই গ্রামে একের পর এক জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা সাহিত্যকর্মী আদিত্য মুখোপাধ্যায়, সনৎ মণ্ডলদের ক্ষোভ, ‘‘প্রতিরোধে প্রশাসনের কোনও সর্দথক ভূমিকাই নেই। এলাকায় জল এবং আবর্জনা জমে জমে মশার আঁতুরঘর হয়ে রয়েছে। রক্ত পরীক্ষার জন্য ১০০০-১২০০ করে টাকা লাগছে। অধিকাংশেরই ওই টাকা দিয়ে পরীক্ষা করানোর সামর্থ্য নেই। তাই অনেকেই জ্বরের কথা চেপে যাচ্ছেন।’’ তাঁদের অভিযোগ, সিউড়ি সদর হাসপাতালেও চিকিৎসা মিলছে না। অভিযোগ করলে ‘রেফার’ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী-সহ প্রশাসনের সকল স্তরে স্মারকলিপি দিয়েছি বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
গ্রামবাসীর বিক্ষোভ আঁচ করে এ দিনই অবশ্য জেলা উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ত্রিদীপ মুস্তাফির নেতৃত্বে স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল ওই গ্রামে পৌঁছয়। তাঁরা আক্রান্তদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি গ্রামবাসীর ডেঙ্গি প্রতিরোধ সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। আগামীকাল থেকেই হটিনগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনা খরচে রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। অন্য দিকে, সংশ্লিষ্ট ময়ূরেশ্বর ২ বিডিও সৈয়দ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘ওই এলাকায় কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন ঘেরা জায়গায় আবর্জনা এবং জল জমে রয়েছে। ওই সব জায়গা মালিকদের দ্রুত পরিস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি জায়গাগুলি প্রশাসনের উদ্যোগে সাফাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’