বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এলাকার নানা প্রকল্পে হাত দিচ্ছে শাসকদল পরিচালিত রামপুরহাট ১ পঞ্চায়েত সমিতি। এমন অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার বিডিও অফিসের সামনে সমিতির নির্বাচিত ৯ বামফ্রন্ট সদস্য অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন। রামপুরহাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ফরওয়ার্ড ব্লক দলের হুমায়ুন চৌধুরীর অভিযোগ, ‘‘পঞ্চায়েত সমিতিতে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকতেই পারেন। সেখানে দলমত নির্বিশেষে উন্নয়নমূলক কাজগুলি করা উচিত। কিন্তু তৃণমূল পরিচালিত রামপুরহাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির উন্নয়নমূলক কাজে বিরোধীদের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। সমস্ত সিদ্ধান্ত ওরা নিজেরাই নিয়ে নিচ্ছেন।’’
এর আগে সমিতির নির্বাচিত বামফ্রন্ট সদস্যরা একাধিকবার বিডিও-সহ রামপুরহাট মহকুমাশাসকের কাছে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। তাতে প্রশাসনিক স্তরে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এ দিন তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের উদাসীন মনোভাবের জন্যই এই প্রতিবাদ। তাঁরা ফের সমিতির দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হলেন। এর আগে, তাঁরা লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভের হুমকি ও দিয়েছিলেন তারা। এ দিন আন্দোলনে সামিল ছিলেন সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর অন্যতম দুই সদস্য সঞ্জীব বর্মণ-সহ গোকুল ঘোষ এবং ফরওয়ার্ড ব্লক দলের নেতা আবদুল হান্নান-সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।
বামেদের অভিযোগ, জেলা থেকে উন্নয়নমূলক কাজের তালিকার প্রস্তাব চেয়ে পাঠালেও বিরোধীদের তা জানানো হচ্ছে না। বিরোধী সদস্যরা তার এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অ্যাকশন প্লান জমা দিলেও সেগুলিকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে এলাকার বাসিন্দারা উন্নয়ন মূলক কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সঞ্জীব বর্মণ বলেন, ‘‘তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতিতে দলতন্ত্র কায়েম করে বামফ্রন্ট সদস্যদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ থেকে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। এবং এর প্রতিবাদ করে বিরোধীদের পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী মান্যতা দেওয়ার কথা প্রশাসনকে জানিয়েও প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এর জন্য আজকের অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি।’’
রামপুরহাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পম্পা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী সমিতিতে সমস্ত কাজের অনুমোদন নেওয়া হয়।’’ রামপুরহাট ১ ব্লকের বিডিও নীতিশ বালা বলেন, ‘‘বিরোধীদের অভিযোগ ঠিক নয়। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের কাজ প্রত্যেকটি বিরোধীদের সংসদে করা হচ্ছে।’’