Advertisement
E-Paper

নানুরে পর্যটন সম্ভাবনার প্রস্তাব

দীর্ঘ দিনের দাবি মেনে নানুরকে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে ব্লক প্রশাসন। একগুচ্ছ প্রকল্প রূপায়ণের প্রস্তাব রাজ্যকে পাঠিয়েছে ব্লক। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে শুধু মাত্র নানুরই নয়, প্রস্তাবিত ওই পর্যটন-প্রকল্পে কীর্ণাহারকেও অর্ন্তভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৩৬
বাঁধানো হয়েছে রামীর কাপড় কাচার ঘাট।—নিজস্ব চিত্র।

বাঁধানো হয়েছে রামীর কাপড় কাচার ঘাট।—নিজস্ব চিত্র।

দীর্ঘ দিনের দাবি মেনে নানুরকে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে ব্লক প্রশাসন। একগুচ্ছ প্রকল্প রূপায়ণের প্রস্তাব রাজ্যকে পাঠিয়েছে ব্লক। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে শুধু মাত্র নানুরই নয়, প্রস্তাবিত ওই পর্যটন-প্রকল্পে কীর্ণাহারকেও অর্ন্তভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

প্রচলিত মত অনুযায়ী, একসময় নানুর ছিল বৈষ্ণব পদকর্তা চণ্ডীদাসের সাধনক্ষেত্র। আজও তার নানা সাক্ষ্য বহন করে চলেছে নানুর। রয়েছে তার আরাধ্যাদেবী বিশালাক্ষীর মন্দির, মন্দির লাগোয়া বাসস্থান চণ্ডীদাস পাঠ। অদূরে রক্ষাকালী মন্দির লাগোয়া দ্যাওতা পুকুর। ওই পুকুরেই নাকি একসময় চণ্ডীদাস প্রণয়িনী রামী কাপড় কাচতেন। আর তারই জন্য ছিপ ফেলে বসে থাকতেন চণ্ডীদাস। বর্তমানে রক্ষাকালী মন্দিরের কাছে রাখা একটি প্রস্তরখণ্ডকে রামীর কাপড় কাচার পাটা হিসাবে দাবি করে থাকেন এলাকার মানুষ।

চণ্ডীদাসের সুবাদেই পর্যটকদের কাছে নানুরের একটা ভিন্ন পরিচিতি রয়েছে। রয়েছে কৌতূহলও। সেই কৌতূহল মেটাতে বহু পর্যটকও আসেন নানুরে। কিন্তু সেই কৌতূহল ধরে রাখার জন্য নানুরকে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার জন্য তেমন একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ বিশালাক্ষী মন্দির এলাকা অধিগ্রহণ করেছে মাত্র। তা ছাড়া বিভিন্ন সময় তৈরি হয়েছে তোরণ, রামী চণ্ডীদাসের মূর্তি, অতিথি নিবাস। সম্প্রতি বিধায়কের এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে বাঁধানো হয়েছে রামীর কাপড় কাচার ঘাট। তার নাম এখন ‘রজকিনীর ঘাট’। পুকুর পাড়েই তৈরি হয়েছে ‘চণ্ডীদাস মঞ্চ’।

ঘটনা হল, ওই সব নির্মাণ বহিরাগত পর্যটকদের মন ভরানোর জন্য যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি সদিচ্ছার অভাবেই নানুরকে ঘিরে বড় পর্যটনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। পর্যটকেরাও সেই জন্য মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তাই নানুরকে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘ দিনের। কিন্তু সে দাবি উপেক্ষিতই থেকে গিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ।

ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে নড়েচড়ে বসে ব্লক প্রশাসন। সম্প্রতি বোলপুরে মহকুমাশাসকের দফতরে একটি বৈঠকে রাজ্যের পর্যটন বিভাগের মুখ্য সচিব এ আর বর্ধনের কাছে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি তখনই এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের প্রস্তাব জমা দিতে বলেন বলে ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। তার পরেই রাজ্যের কাছে মোট ৫২ লক্ষ টাকার প্রকল্প পাঠিয়েছে ব্লক প্রশাসন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে দ্যাওতা পুকুর এলাকায় আলো এবং সৌন্দর্যায়ন, ২৪ ঘণ্টা পরিস্রুত পানীয়জল এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা। কচিকাঁচাদের জন্য থাকছে বোটিং-সহ নানা বিনোদনের উপকরণ। বিশালাক্ষী মন্দির চত্বরে চণ্ডীদাসের ভিটে লাগোয়া এলাকাতেও রয়েছে পানীয়জল, শৌচাগার, আলো এবং সৌন্দর্যায়নের প্রস্তাব। কীর্ণাহারকেও ওই প্রকল্পের অর্ন্তভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। কীর্ণাহারে রয়েছে চণ্ডীদাসের সমাধিক্ষেত্র। তাঁর তিরোধান দিবসে সেখানে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। সেই কথা মাথায় রেখে ওই এলাকায় রান্না, খাওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা-সহ একটি শেড তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। রয়েছে পর্স্রুত পানীয়জল, শৌচাগার এবং প্রাচীর তৈরিরও পরিকল্পনাও।

স্বভাবতই এই খবরে খুশির হাওয়া নানুর-কীর্ণাহার জুড়ে। নানুরের সাহিত্যকর্মী অসীমকৃষ্ণ ভট্টাচার্য, রঘুরাজ সিংহ, কীর্ণাহারের স্কুলশিক্ষক অরুণ রায়, কীর্ণাহার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুবীর মণ্ডলদের বক্তব্য, ‘‘আমাদের দীর্ঘ দিনের ওই সব দাবি বাস্তবায়িত হলে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে নানুর এবং কীর্ণাহার এলাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। আমরা খুশি।’’

এ দিকে, নানুরের বিডিও মৃণালকান্তি বিশ্বাস জানান, ওই সব প্রকল্পের সবুজ সঙ্কেত মিলবে বলেই তাঁর আশা। পরবর্তী কালে নানুর ঘিরে ব্লক প্রশাসনের আরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অন্য দিকে, স্থানীয় বিধায়ক গদাধর হাজরার দাবি, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নানুরের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ আগ্রহী। তাই ওই সব প্রকল্পের অনুমোদন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy