জঙ্গলের গাছ পাচার রুখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজের মোবাইল নম্বর বিলি করলেন পুরুলিয়ার ডিএফও। বাঘমুণ্ডির মাঠায় সম্প্রতি বনসুরক্ষা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় মানুষজনদের সঙ্গে বৈঠকে পুরুলিয়ার ডিএফও কুমার বিমল নিজের মোবাইল নম্বর সকলকে দিয়ে সরাসরি বলেন— ‘‘জঙ্গলের গাছ পাচার হচ্ছে জানলে প্রয়োজনে আপনারা আমাকে ফোন করতে পারেন।’’
রাতের অন্ধকারে অযোধ্যা পাহাড়ের জঙ্গল থেকে গাছ কেটে দুষ্কৃতীরা পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে বলে এতদিন বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ আসছিল। তবে মাসখানেক হল বন দফতর পাচার বন্ধে সক্রিয়তা দেখাচ্ছে। বন কর্মীদের নিয়ে আধিকারিকরা হঠাৎ পরিদর্শনে পেরিয়ে বেশ কয়েকজনকে গাছ কাটা ও পাচারের অভিযোগে বাঘমুণ্ডি ও আড়শা থেকে ১২ জনকে গ্রেফতার করে। তার আগে এই এলাকার করাত কলগুলিতে হানা দিয়ে অবৈধ কাঠ বাজেয়াপ্তও করা হয়। কী ভাবে সেই কাঠ করাতকলে পৌঁছল তার ব্যাখ্যা চেয়ে করাতকল মালিকদের শো-কজও করে দফতর। মামলাও করা হয়েছে কয়েকটি ক্ষেত্রে। সব মিলিয়ে অযোধ্যা পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে কাঠ পাচার হচ্ছে তা বুঝে এ বার জঙ্গল রক্ষায় স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চাইছেন বনকর্তারা।
বন দফতর সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন এলাকায় রেঞ্জ স্তরের সমন্বয় বৈঠক হয়নি। ফলে বনসুরক্ষা কমিটিও ঢেলে সাজানো হয়নি। পুরুলিয়ার ডিএফও কুমার বিমলের কথায়, ‘‘দীর্ঘদিন এই ধরনের সমন্বয় বৈঠক না হওয়ার ফলে বনসুরক্ষা কমিটিগুলিকে ঢেলে সাজানো যায়নি। দীর্ঘদিন আগে যে কমিটি ছিল সেই কমিটির কেউ হয়তো বর্তমানে বাইরে থাকেন, কেউ এখন নেই। নতুন করে কমিটি গঠন না হওয়ায় এলাকার নতুন সদস্যদের কমিটিতে ঠাঁই দেওয়া যায়নি। ফলে একটা ফাঁক তৈরি হয়েছিল। সেই ফাঁকেরই সুযোগ নিচ্ছিলেন কিছু মানুষ। আমরা নতুন করে এলাকায় ৩২টি বনসুরক্ষা কমিটি তৈরি করেছি। এ বার তাঁরা কাজ করবেন।’’ বৈঠকে বাঘমুণ্ডি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অবনীভূষণ সিংহবাবু জানান, জঙ্গলই এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা স্থানীয় মানুষজনকে বলেছি জঙ্গলকে রক্ষা করতে হবে নিজেদের স্বার্থেই। তাঁরাও আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন।’’ বৈঠকে থাকা বাসিন্দারা তুলসীচরণ মাহাতো, বাহামণি বাস্কে, রাজবালা মাঝি প্রমুখ দাবি করেছেন, ‘‘জঙ্গলের যে সমস্ত সম্পদ যেমন হরিতকী, বহড়া ইত্যাদি কুড়িয়ে কুড়িয়ে সংগ্রহ করা হয় তা দালালের মাধ্যমে বিক্রি করলে তেমন দাম মেলে না। অথচ বিক্রির জন্য দালালই একমাত্র ভরসা। তাই এখানে বিক্রির ব্যবস্থা করলে ভাল হয়।’’ ডিএফও জানান, বাসিন্দাদের সমস্যার কথা শুনে তিনি একটি কেন্দ্র খোলার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছেন। সেখানেই বাসিন্দারা বন দফতরকে সরাসরি বনজ দ্রব্য বিক্রি করতে পারবেন।