Advertisement
E-Paper

পক্ষপাতের নালিশ, তৃণমূল নেত্রীর ক্ষোভ

পুরসভায় ক্ষমতায় রয়েছে তাঁরই দল। তবু তাঁর অভিযোগের তির নিজেদেরই দলের পুরবোর্ডের দিকেই। অন্য ওয়ার্ডে উন্নয়ন হলেও তাঁর এলাকায় উন্নয়নের কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সরাসরি পুরভবনে ঢুকে বিক্ষোভ দেখালেন পুরুলিয়ার এক তৃণমূল কাউন্সিলর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০১৬ ০৭:৫৫
পুরুলিয়া পুরভবনে সোচ্চার তৃণমূল কর্মীরা। —নিজস্ব চিত্র।

পুরুলিয়া পুরভবনে সোচ্চার তৃণমূল কর্মীরা। —নিজস্ব চিত্র।

পুরসভায় ক্ষমতায় রয়েছে তাঁরই দল। তবু তাঁর অভিযোগের তির নিজেদেরই দলের পুরবোর্ডের দিকেই। অন্য ওয়ার্ডে উন্নয়ন হলেও তাঁর এলাকায় উন্নয়নের কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সরাসরি পুরভবনে ঢুকে বিক্ষোভ দেখালেন পুরুলিয়ার এক তৃণমূল কাউন্সিলর। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কাউন্সিলর পার্বতী বাউরি বৃহস্পতিবার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পুরসভায় এসে বিক্ষোভ দেখানোয় অস্বস্তিতে পড়েছে শহর তৃণমূল নেতৃত্ব।

এ দিন দুপুরে তাঁর এলাকা থেকে কমবেশি শ’দুয়েক কর্মী-সমর্থক নিয়ে পুরসভায় আসেন পার্বতী দেবী। তাঁদের মধ্যে মহিলাদের ভিড়ই ছিল বেশি। তাঁরা পুরসভা চত্বরে ঢুকেই গলা চড়িয়ে অভিযোগ করতে থাকেন, অন্য ওয়ার্ডে উন্নয়নের কাজ হচ্ছে অথচ তাঁদের এলাকায় কিছু হচ্ছে না। ওই এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বাউরির অভিযোগ, কেতিকা-সহ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যতটা এলাকা রয়েছে দেখলেই বোঝা যাবে সেখানে উন্নয়নের কাজ সে ভাবে হচ্ছে না। অথচ অন্যান্য ওয়ার্ডে কাজ হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘সব ওয়ার্ডেই পথে বাতি লাগানো হয়েছে, ব্যতিক্রম শুধু ৯ নম্বর ওয়ার্ড। ওই এলাকায় বস্তি রয়েছে, অথচ সেখানে ত্রাণের জিনিসপত্র কম দেওয়া হয়।’’ বিক্ষোভকারীদের দাবি, বাড়ি সংস্কারের কাজ হচ্ছে অথচ কাউন্সিলর জানতেই পারছেন না। দুলমিবাঁধ বহু মানুষ ব্যবহার করেন, অথচ সংস্কার করা হচ্ছে না, ঘাটেরও সংস্কার হয়নি। কাউন্সিলররের স্বামী দীপক বাউরিও ছিলেন তাঁদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘কাজ হচ্ছে না বলেই সবাই প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন।’’

এলাকার বাসিন্দা চপলা বাউরি, কল্পনা বাউরি, ছবি বাউরি, স্বান্তনা বাউরিদের কথায়, তাঁদের এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার হয়নি দীর্ঘদিন। পানীয় জলেরও সমস্যা কাটেনি। রাস্তায় আলো নেই। কেন কাজ করা হচ্ছে না তাঁদের এলাকায়, তার প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা এসেছেন।

Advertisement

পুরপ্রধান কে পি সিংহ দেওকে না পেয়ে উপ পুরপ্রধান সামিমদাদ খানের চেম্বারে ঢোকেন কাউন্সিলর-সহ এলাকার কিছু লোকজন। উপপুরপ্রধান তাঁদের ক্ষোভ শুনে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু উল্টে তাঁর সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন কাউন্সিলর ও তাঁর সঙ্গীরা। পার্বতীদেবী বলেন, ‘‘এলাকায় উন্নয়নের কাজ সে ভাবে হচ্ছে না বলে মানুষজনের প্রশ্নের মুখে আমাকে প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে। অথচ আমাকে পুরসভা থেকে শুনতে হয় তহবিল নেই। পুরপ্রধানকে পাচ্ছি না, তাই এ দিন লোকজন এসে নিজেরাই উপপুরপ্রধানকে সব বললেন।’’

তবে উপপুরপ্রধান সামিমদাদ খান দাবি করেছেন, ‘‘কাজ আদায় করে এলাকায় কাজ করানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের। আর জলের সমস্যা গোটা শহরেই রয়েছে। পানীয় জলের জোগান দিতে আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গভীর নলকূপ খনন করছি। কিন্তু ৯ নম্বর ওয়ার্ডে খনন করে জল মেলেনি বলেই বিশেষজ্ঞেরা আমাদের জানিয়েছেন।’’

তিনি জানান, নতুন করে আরও তিনটি হাইমাস্ট আলো শহরের বিভিন্ন এলাকার জন্য বরাদ্দ হয়েছে। তার মধ্যে একটি ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বসানো হবে। তিনি আশ্বাস দেন, এলাকার কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ধরে বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা করাতে হবে। তাহলে নিশ্চয়ই কাজ হবে। তাঁর আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা ফিরে গেলেও হুঁশিয়ারী দিয়ে যান, কিছুদিন তাঁরা দেখবেন। কাজ না হলে ফের তাঁরা পুরভবনে আসবেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy