Advertisement
E-Paper

পঞ্চায়েতে দুর্নীতির নালিশ মানবাজারে

ইন্দিরা আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগে সরব হল সিপিএম। মঙ্গলবার বিকেলে এই অভিযোগে মানবাজার ২ ব্লক অফিসের সামনে সিপিএমের কয়েকশো কর্মী-সমর্থক অবস্থান বিক্ষোভ দেখালেন। বিডিও স্মারকলিপি নিতে চায়নি এই অভিযোগে শেষে তাঁরা কিছুক্ষণ রাস্তা অবরোধও করেন। ওই বিক্ষোভে ছিলেন বান্দোয়ানের সিপিএম বিধায়ক তথা মানবাজার ২ ব্লকের জামতোড়িয়ার বাসিন্দা সুশান্ত বেসরাও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৬
প্রতিবাদে পথে সিপিএম।—নিজস্ব চিত্র

প্রতিবাদে পথে সিপিএম।—নিজস্ব চিত্র

ইন্দিরা আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগে সরব হল সিপিএম। মঙ্গলবার বিকেলে এই অভিযোগে মানবাজার ২ ব্লক অফিসের সামনে সিপিএমের কয়েকশো কর্মী-সমর্থক অবস্থান বিক্ষোভ দেখালেন। বিডিও স্মারকলিপি নিতে চায়নি এই অভিযোগে শেষে তাঁরা কিছুক্ষণ রাস্তা অবরোধও করেন।

ওই বিক্ষোভে ছিলেন বান্দোয়ানের সিপিএম বিধায়ক তথা মানবাজার ২ ব্লকের জামতোড়িয়ার বাসিন্দা সুশান্ত বেসরাও। তাঁর দাবি, মানবাজার ২ ব্লকে কয়েকটি পঞ্চায়েতে ইন্দিরা আবাসের টাকা প্রকৃত উপভোক্তাদের পরিবর্তে অন্য লোককে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। জামতোড়িয়া-বড়গড়িয়া এবং বারি-জাগদা পঞ্চায়েতে এ ধরনের গরমিলের খবর পাওয়া গিয়েছে। এ রকম ৩২ জনের নামের তালিকা তাঁরা ব্লক অফিসে জমা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, না কি নেওয়া হবে এ সম্পর্কে আমরা জানতে পারিনি। এ জন্য সরাসরি বিডিওর কাছে জবাব চাইতে মঙ্গলবার স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনিও আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি।’’

ইন্দিরা আবাস যোজনায় বিপিএল তালিকাভুক্তদের গৃহ নির্মাণের সরঞ্জাম কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা, শৌচাগার তৈরির জন্য ১০ হাজার টাকা এবং নির্মাণ খরচ বাবদ ১৬ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। প্রকৃত উপভোক্তাকে বঞ্চিত করে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত নিজেদের লোকেদের ওই টাকা পাইয়ে দিচ্ছে বলে সিপিএমের অভিযোগ।

Advertisement

কী ভাবে হয়েছে দুর্নীতি? মানবাজার ২ ব্লকের সিপিএম নেতাদের অভিযোগ, এই ব্লকে কয়েকটি পঞ্চায়েতে ইন্দিরা আবাস যোজনায় রামের বদলে শ্যাম, যদুর বদলে মধুকে ইন্দিরা আবাসের টাকা পাইয়ে দিচ্ছে। প্রকৃত প্রাপকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। মানবাজার ২ ব্লকের জামতোড়িয়া-বড়গড়িয়া পঞ্চায়েতের বড়গড়িয়া গ্রামের সরলা সোরেন, অনিল মুদি, জামতোড়িয়া গ্রামের কার্তিক হেমব্রমের দাবি, ‘‘পঞ্চায়েতে খোঁজ নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি আমাদের নামে ইন্দিরা আবাসের গৃহ মঞ্জুর হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিপিএল কার্ডের নম্বর অন্য ব্যক্তির নামে ব্যবহার করে তাঁকে টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত অফিসে বারবার গেলেও কেউ আমাদের আপত্তির কথা শোনেননি।’’

সিপিএমের বিধায়কের অভিযোগ, উপভোক্তারা ইতিপূর্বে ব্লকে নালিশ জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এর আগে সিপিএমের তরফে পঞ্চায়েত অফিসে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তাতেও কিছু কাজ হয়নি। তাঁর দাবি, ‘‘পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসের কিছু কর্মী এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তাই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। উল্টে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’’ সুশান্তবাবুর হুমকি, বিডিও এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা সমস্ত নথিপত্র নিয়ে জেলা ভিজিল্যান্স অফিসারের সঙ্গে দেখা করবেন।

জামতোড়িয়া-বড়গড়িয়া পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান উত্তম পতির পাল্টা দাবি, ‘‘আমাদের পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে। যাঁদের নামে ইন্দিরা আবাস যোজনা মঞ্জুর হয়েছে, তাঁরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগ ঠিক নয়। রাজনীতি করার জন্য মিথ্যে অভিযোগ তোলা হয়েছে।’’ তবে সিপিএম বিধায়কের পাল্টা যুক্তি, ‘‘কারা সত্যি বলছে ভিজিল্যান্স হলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’

মানবাজার ২ বিডিও নির্মল চট্টোপাধ্যায় জানান, সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘‘মঙ্গলবার ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকায় আমি ওদের বলেছিলাম এ বিষয়ে পরে কথা বলব। অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছি। এখনই তাই এ নিয়ে কিছু বলা যাবে না।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy