দু’বছর আগের ডিসেম্বর থেকে বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লকে সোশ্যাল অডিট বা সামাজিক নিরীক্ষার কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন ৪০ জন। সম্প্রতি সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১৮ জন কর্মী। এই নিয়ে মঙ্গলবার ক্ষোভ ছড়াল ব্লক অফিস চত্বরে। বিডিও-র চেম্বার অবরোধ করে এ দিন সকাল দশটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখান নাম বাদ পড়া কর্মীরা। বেঞ্চ পেতে আটকে রাখা হয় চেম্বারে ঢোকার পথ।
ফলে ওই সময়ে নিজের ঘরে ঢুকতে পারেননি জয়পুরের বিডিও ধ্রুবপদ শাণ্ডিল্য। ব্লকের কর্মীদেরও অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পাশেই পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে বসে কিছুক্ষণ কাজ চালাতে হয় তাঁকে। বিভিন্ন কাজে আসা অনেক সাধারণ মানুষও পরিষেবা না পেয়ে নাকাল হন বলে অভিযোগ। শেষ অবধি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেড়টা নাগাদ নিজের অফিসে ঢোকেন তিনি।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সাহেব আলি খাঁ বলেন, ‘‘জয়পুর ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় আমাদের মতো ৪০ জন কাজ করছিলেন ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে। এত দিনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ১৮ জন কেন বাদ পড়লাম, বুঝতে পারছিনা। তা জানার জন্যই এ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি। প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। কাজ না ফিরে পেলে এই আন্দোলন লাগাতার চালিয়ে যাওয়া হবে।’’ বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান এলাকার বাসিন্দা তথা কোতুলপুরের বিধায়ক শ্যামল সাঁতরা। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হবে। বিডিও বলেন, ‘‘ব্লকের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে বেনিফিশিয়ারি সার্টিফিকেটের কাজ করেন এই সব সোশ্যাল অডিট কর্মী। এঁদের নতুন করে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে। তাতেই কয়েক জন বাদ পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসককে চিঠি লিখব বলে জানানোয় দুপুরেই তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।’’