Advertisement
E-Paper

বিডিও-কে কুকথা, ভুল স্বীকার সিপিএম নেতার

কু-কথার রাজনীতি অব্যহত জেলায়। অভিযোগের তীর এ বার অনুব্রত মণ্ডল, মনিরুল ইসলামের পর জেলার সিপিএমের জোনাল কমিটির সম্পাদকের দিকে। এবং সম্ভবত তিনি ছাপিয়ে গেলেন কু-কথার যাবতীয় সীমা-পরিসীমা!

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০১:২২

কু-কথার রাজনীতি অব্যহত জেলায়। অভিযোগের তীর এ বার অনুব্রত মণ্ডল, মনিরুল ইসলামের পর জেলার সিপিএমের জোনাল কমিটির সম্পাদকের দিকে। এবং সম্ভবত তিনি ছাপিয়ে গেলেন কু-কথার যাবতীয় সীমা-পরিসীমা!

সোমবার ডেপুটেশন দিতে গিয়ে বিডিওকে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালাগালি করলেন শাসক দলের কোনও ডাকসাইটের নেতা নয়, সিপিএমের মহম্মদবাজার জোনাল কমিটির সম্পাদক প্রভাষ মাল। ঘটনার সময় স্থানীয় বিধায়ক ধীরেন বাগদিও উপস্থিত ছিলেন। এ দিন ঘটনাটি ঘটে মহম্মদবাজার বিডিও তারাশঙ্কর ঘোষের দফতরের সামনে। মহম্মদবাজারের পঞ্চায়েত সমিতিকে বাদ দিয়ে ব্লক প্রশাসন তৃণমূল নেতৃত্বের কথামতো কাজ করছে।— এরই প্রতিবাদ-সহ মোট ৬ দফা দাবিতে সোমবার স্থানীয় বিডিওকে স্মারকলিপি দেয় বামফ্রন্ট। স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি বিডিও কার্যালয় চত্বরে ছোট মঞ্চ করে একটি সভাও করে তারা। ওই সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই এর নিখিল মণ্ডল, ফরোয়ার্ড ব্লকের সুনীল রায়, সিপিএমের শ্রীজিৎ মুখোপাধ্যায়, নিয়ামত আলি, প্রভাষ মাল, সাঁইথিয়ার বিধায়ক ধীরেন বাগদি-সহ কয়েকজন বাম নেতা।

ঠিক কী ঘটেছিল এ দিন?

Advertisement

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহম্মদবাজারের পঞ্চায়েত সমিতিকে তাদের আওতাধিন নানা বিষয়ে না জানিয়ে ব্লক প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়। এই অভিযোগ বামফ্রন্ট বা সিপিএমের অনেক দিনের। ওই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিডিও ও শাসকদলকে কু-কথা বলেন মহম্মদবাজারের জোনাল সম্পাদক প্রভাষবাবু। তিনি বিডিওকে বলেন, ‘‘আপনি কিসের ভিত্তিতে গীতাঞ্জলি বাড়ি তৃণমূল নেতাদের হাত দিয়ে বিলি করেছেন। তা জানাতে হবে।’’ বিডিও দফতর সূত্রে দাবি, এরপরই ছাপার অযোগ্য শব্দ ব্যবহার করেন তিনি। পরে বলেন, ‘‘মনে রাখবেন, আমরা যদি মনে করি তৃণমূলের মতো গুন্ডারাজ কায়েম করব, আমরা যদি আমাদের কর্মীদের একমাত্র একটা আদেশ দিই, তৃণমূলের ওই অফিসটা আর থাকবে না। তৃণমূলের নেতৃত্বে দাদাগিরি চলতে দেব না।’’

অন্য দিকে ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তারাশঙ্করবাবু বলেন, ‘‘কার্যালয় চত্বরে একাধিক প্রকল্পের ট্রেনিং চলছে। ওই সময় এত জোরে মাইক বাজিয়ে বক্তব্য রাখায় ট্রেনিং-সহ কাজের অসুবিধে হয়। এবং যে নোংরা ভাষায় গালাগালি করে তা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।’’ ঘটনা হল, স্মারকলিপি দিতে গিয়ে এমন ঘটনার কথা জানেন না ধীরেনবাবু। তিনি বলেন, ‘‘ওই সময় আমি বিডিওকে স্মারকলিপি দেওয়ার টিম গঠন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। প্রভাষবাবু কি বলেছেন ঠিক শুনিনি। যদি এরকম বলে থাকেন তবে নিশ্চিয় ঠিক করেননি। আমাদের দল এরকমটা সমর্থন বা অনুমোদন করে না।’’ ঘটনার কথা জানেন না সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, তথা প্রাক্তন জেলা সম্পাদক ও সাংসদ রামচন্দ্র ডোমও। বলেন, ‘‘বিষয়টা আমার ঠিক জানা নেই। প্রশাসনের সমালোচনা করা যাবে, সতর্ক করা যাবে। কিন্তু কখনোই অশালিন মন্তব্য করা যাবে না।’’

মহম্মদবাজারের তৃণমূলের যুগ্ম সভাপতি তাপস সিংহ বলেন, ‘‘আমাদের নেতা অনুব্রত মণ্ডল যথেষ্ট শালিনতা বজায় রেখে মন্তব্য করলেও সিপিএম হুমড়ি খেয়ে পড়ে। যা খুশি তাই বলে। আর সিপিএম নেতারা যে ভাষায় সরকারি আধিকারিক ও বিরোধী দলকে আক্রমণ করছে তা মুখে উচ্চারণ করতে আমাদের লজ্জা হয়।’’

থানায় অভিযোগ করার প্রসঙ্গে বিডিও বলেন, ‘‘আমি সারাজীবনে এইরকম কু-কথা শুনিনি। এটাই আমার পাওনা ছিল। এসডিওকে জানিয়েছি। তিনি যেমন নির্দেশ দেবেন, তাই হবে।’’

কী বলছেন প্রভাষবাবু?

প্রথমে অস্বীকার করলেও পুরো বক্তব্য রেকর্ড করা আছে জানালে বলেন, ‘‘উত্তেজনার বশে ভুল করে ফেলেছি। আমি দুঃখিত!’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy