Advertisement
E-Paper

বই হাতে খুশির ঝিলিক দীপ্তিদের

কারও হাতে শরৎচন্দ্রের ‘রামের সুমতি’। কার হাতেও বঙ্কিমের ‘দুর্গেশনন্দিনী’। আবার কেউ উল্টে পাল্টে দেখছেন ধর্মগ্রন্থ কিংবা ভ্রমণকাহিনি। শুরুর দিনেই ময়ূরেশ্বরের কোটাসুর বইমেলা ঘিরে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ল স্টলে স্টলে। সোমবার ময়ূরেশ্বর ২ ব্লক আয়োজিত ওই বইমেলার উদ্বোধন করেন এসআরডিএ-র চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল। ছিলেন জেলাশাসক পি মোহন গাঁধী, বিডিও সৈয়দ মাসুদুর রহমান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্যাণী দাস প্রমুখ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:০৯
বইমেলায় চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সোমবারের নিজস্ব চিত্র।

বইমেলায় চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সোমবারের নিজস্ব চিত্র।

কারও হাতে শরৎচন্দ্রের ‘রামের সুমতি’। কার হাতেও বঙ্কিমের ‘দুর্গেশনন্দিনী’। আবার কেউ উল্টে পাল্টে দেখছেন ধর্মগ্রন্থ কিংবা ভ্রমণকাহিনি। শুরুর দিনেই ময়ূরেশ্বরের কোটাসুর বইমেলা ঘিরে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ল স্টলে স্টলে। সোমবার ময়ূরেশ্বর ২ ব্লক আয়োজিত ওই বইমেলার উদ্বোধন করেন এসআরডিএ-র চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল। ছিলেন জেলাশাসক পি মোহন গাঁধী, বিডিও সৈয়দ মাসুদুর রহমান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্যাণী দাস প্রমুখ।

এক সময় স্থানীয় দিদিভাই আশ্রমের উদ্যোগে কোটাসুরে লোকমেলার আয়োজন করা হতো। দূর-দূরান্তের মানুষ সেই মেলায় সামিল হতেন। পরে নানা প্রতিকুলতায় সেই মেলা বন্ধ হয়ে যায়। তার পর থেকেই একটি মেলার জন্য দাবি ওঠে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সেই দাবি মেটাতেই বছর চারেক আগে প্রথম ব্লক স্তরের ওই বইমেলার সূচনা করেন তৎকালীন বিডিও বাবুলাল মাহাতো। তিনি পদোন্নতিতে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরে একসময় বইমেলাও বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদায় বছর দুয়েক আগে ফের ওই বইমেলা চালু করেন বর্তমান বিডিও সৈয়দ মাসুদুর রহমান। স্বভাবতই ওই মেলা ঘিরে বইপ্রেমিদের উৎসাহ তুঙ্গে। শুধু বইপ্রেমীরাই নন, অন্যান্য স্থানীয় মানুষ জনের কাছেও এখন আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই বইমেলা।

এ দিন সেখানে গিয়ে দেখা গেল বিভিন্ন স্টলে স্কুলপড়ুয়া থেকে প্রবীণদের বই নাড়াচাড়া করতে। শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র, তারাশঙ্কের বিভিন্ন বই নাড়াচাড়া করছে বহড়া গ্রামের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দীপ্তি মণ্ডল, রাজচন্দ্রপুরের অন্নপূর্ণা পালেরা। তাঁরা বলে, ‘‘এত দিন আমাদের শহুরে আত্মীয়স্বজনদের কাছে বইমেলার গল্প শুনে এসেছি। এখন আমাদের বাড়ির কাছেই সেই মেলা হচ্ছে। পছন্দসই বই কেনার জন্য পয়সা জমিয়ে রেখেছি। সব তো কিনতে পারব না। তবে তিন দিনই বই নাড়াচাড়া করে দেখব।’’

Advertisement

কোটাসুরের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শুভজিৎ সরকার, ষষ্ঠ শ্রেণির অরিজিৎ মণ্ডলেরা আবার স্টলে স্টলে খুঁজে বেড়াচ্ছে, হাঁদাভোঁদা কিংবা গোপাল ভাঁড়ের গল্প। তাদের অভিব্যক্তি, টিভিতে কার্টুন দেখে ওই সব গল্প পড়ার খুব ইচ্ছা জাগে। কিন্তু, হাতের কাছে সেই সব বই পাইনি। এ বার কিনেই পড়ব। দুই স্টল মালিক প্রবীর সিকদার এবং স্বপনকুমার কর্মকার বলেন, ‘‘বিক্রি যাই হোক না কেন, ব্লক স্তরে বইপ্রেমীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই আমরা মেলায় আসি।’’ বিডিও জানিয়েছেন, বইমেলা উপলক্ষে তিন দিনই নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। পরবর্তী কালে এই মেলাকে আরও বড় আকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy