Advertisement
E-Paper

যুগ্ম বিডিওদের ছাড়তে নারাজ প্রশাসন

নির্দেশ ছিল সোমবারের মধ্যেই বদলি হওয়ায় যুগ্ম বিডিও-দের ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন মঙ্গলবারও ওই ১৩ জন যুগ্ম বিডিও-কে ছেড়ে দেননি।

শুভ্রপ্রকাশ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:১৪

নির্দেশ ছিল সোমবারের মধ্যেই বদলি হওয়ায় যুগ্ম বিডিও-দের ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন মঙ্গলবারও ওই ১৩ জন যুগ্ম বিডিও-কে ছেড়ে দেননি। রিলিভার (পরিবর্ত যুগ্ম বিডিও) না পাওয়া পর্যন্ত বিডিওরা যাতে যুগ্ম বিডিওদের না ছাড়েন, জেলাশাসকের নির্দেশে ই-মেল পাঠিয়েছে জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে পুরুলিয়ায়।

যুগ্ম বিডিও-দের একাংশের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন ব্লকে যোগ না দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ফলে সোমবারের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরেও পুরনো ব্লক থেকে অব্যাহতি না পেয়ে নির্বাচন কমিশন বা পঞ্চায়েত দফতরের শাস্তির কোপে পড়তে পারেন বলে তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন।

এ ছাড়া পুরুলিয়া থেকে যুগ্ম বিডিওরা সময়মতো নতুন ব্লকে যোগ না দিলে রাজ্য জুড়েই বদলির পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তবে রিলিভার না এলে ওই যুগ্ম বিডিওদের ছাড়লে নির্বাচনের কাজ-সহ অন্যান্য কাজে সঙ্কট তৈরি হবে বলে কারণ দেখাচ্ছেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক তন্ময় চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘‘যুগ্ম বিডিওদের বদলি নিয়ে রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের নির্দেশ পেয়েছি। পুরো পরিস্থিতি জানিয়ে বদলি হওয়া যুগ্ম বিডিওদের পরিবর্ত আধিকারিক পঞ্চায়েত দফতরের কাছে চাওয়া হয়েছে। পেলেই যুগ্ম বিডিওদের ছেড়ে দেওয়া হবে।”

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ রয়েছে, রাজ্যগুলিতে জেলায় যে সমস্ত আধিকারিকদের তিন বছরের কাজের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাঁরা নির্বাচনী প্রক্রিয়াতে অংশ নিতে পারবে না। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতেই রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রধান সচিব সৌরভ দাস গত ১০ ফ্রেবুয়ারি ১৩৮জন যুগ্ম বিডিওর বদলির নির্দেশিকা জারি করেছিন। ওই নির্দেশিকাতেই রয়েছে, পুরুলিয়ার ১৩ জন যুগ্ম বিডিওকেও বদলি করতে হবে। নির্দেশিকায় ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বদলির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু গোটা রাজ্যেই বিভিন্ন কারণে বদলির প্রক্রিয়া শ্লথ গতিতে চলায় পঞ্চায়েত দফতরের বিশেষ সচিব (স্পেশ্যাল সেক্রেটারি) দিলীপকুমার পাল পরবর্তী সময়ে অন্য একটি নির্দেশকায় সময়সীমায় কিছুটা ছাড় দিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারির বদলে ২২ ফেব্রুয়ারি করেন।

সোমবারই ওই সময়সীমা শেষ হয়েছে। কিন্তু পুরুলিয়ার আড়শা, বলরামপুর, ঝালদা ২, জয়পুর, মানবাজার ১ ও ২, পুরুলিয়া ১ ও ২, রঘুনাথপুর ১ ও ২,বাঘমুণ্ডি, নিতুড়িয়া, বরাবাজার ওই ১৩টি ব্লকের যুগ্ম বিডিওদের বদলির নির্দেশ জারি হওয়ার পরেও তাঁদের ব্লক থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেননি সংশ্লিষ্ট বিডিওরা। প্রশাসন সূত্রের খবর, জেলাশাসকের নির্দেশে জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর বিডিওদের ই-মেল করে জানিয়ে দেয়, বদলি হওয়া যুগ্ম বিডিওদের রিলিভার না আসা পর্যন্ত তাঁদের যেন না ছাড়া হয়। তবে ওই নির্দেশিকায় জেলাশাসক বা পঞ্চায়েত দফতরের কোনও আধিকারিকের স্বাক্ষর নেই। আর এই প্রেক্ষিতেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিডিওরা জেলাশাসকের অনুমতিস্বপক্ষে যুগ্ম বিডিওদের রিলিজ করেন। কিছু বিডিও জানাচ্ছেন, পঞ্চায়েত দফতরের ওই মেল পাওয়ার পরে তাঁদের পক্ষে যুগ্ম বিডিওদের ছাড়া সম্ভব নয়।

এ দিকে যুগ্ম বিডিওদের একাংশের আশঙ্কা, ‘‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য পঞ্চায়েত দফতর। ওই দফতরের বিশেষ সচিব পরবর্তী সময়ে দেওয়া নির্দেশে সময়সীমার মধ্যে নতুন ব্লক যোগ না দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এ দিকে, জেলা প্রশাসন আমাদের অব্যাহতি না দেওয়ায় নতুন ব্লকেও যোগ দিতে পাচ্ছি না। শাস্তির কোপে পড়তে হবে কি না বুঝতে পারছি না।’’

তবে যুগ্ম বিডিওদের রিলিভার না আসা পর্যন্ত তাদের ছাড়তে একেবারেই নারাজ পুরুলিয়ার জেলাপ্রশাসন। এই প্রেক্ষিতে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের একাংশের ব্যাখ্যা, বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বদলি হওয়া ১৩ জন যুগ্ম বিডিওর মধ্যে ছ’জন রিলিভার পেয়েছেন। নির্বাচনের প্রক্রিয়াও পুরোদস্তুর শুরু হয়ে দিয়েছে। ফলে এই অবস্থায় রিলিভার না আসা পর্যন্ত যুগ্ম বিডিওদের ছেড়ে দিলে নির্বাচন-সহ উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ ব্যাহত হবে। যেমন, রঘুনাথপর ১ –এর বিডিও সদ্য বদলি হয়েছেন। ওই বিডিওর দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম বিডিও। তাঁর নাম নাম রয়েছে বদলির তালিকায়। এই অবস্থায় তাঁকে কী ভাবে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব?— প্রশ্ন তুলছেন শীর্ষ কর্তাদেরই একাংশ।

প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জেলার ২০টি ব্লকের মধ্যে দু’টি ব্লকে যুগ্ম বিডিওর পদ ফাঁকা। ১২টি ব্লকে পঞ্চায়েত দফতরের আধিকারিক নেই। বাকি ১৮টি ব্লকের মধ্যে ১৩টি ব্লকের যুগ্ম বিডিও বদলি হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু রিলিভার আসছে মাত্র ছ’টিতে। ফলে ন’টি ব্লকে যুগ্ম বিডিওর পদ ফাঁকা পড়ে থাকছে। এই অবস্থায় নির্বাচনের মুখে ওই ব্লকগুলিতে কাজ চালানো কার্যত অসম্ভব।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy