Advertisement
E-Paper

সাইকেল পেল না দুই স্কুলের পড়ুয়ারা, ক্ষোভ

সবুজ সাথী প্রকল্পে সাইকেল পাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে পুরুলিয়া জেলার দু’টি স্কুলের পড়ুয়াদের মধ্যে। এই দু’টি স্কুলের মধ্যে পাড়া ব্লকের ভাঁওরিডি হাইস্কুলের পড়ুয়ারা সাইকেল না পেয়ে প্রথমে স্কুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। পরে ওই দাবিতে বিডিও-র দ্বারস্থ হয় তারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৪৪

সবুজ সাথী প্রকল্পে সাইকেল পাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে পুরুলিয়া জেলার দু’টি স্কুলের পড়ুয়াদের মধ্যে।

এই দু’টি স্কুলের মধ্যে পাড়া ব্লকের ভাঁওরিডি হাইস্কুলের পড়ুয়ারা সাইকেল না পেয়ে প্রথমে স্কুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। পরে ওই দাবিতে বিডিও-র দ্বারস্থ হয় তারা। কিন্তু, এখনও সাইকেল পায়নি তারা। বৃহস্পতিবার আনাড়া গার্লস হাইস্কুল থেকে তাদের সাইকেল দেওয়া হবে জানতে পেরে ১৫-১৬ কিলোমিটার পথ উজিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে হাজির হয়েছিল ভাঁওরিডি হাইস্কুলের ছাত্রদের একাংশ। সাইকেল অবশ্য মেলেনি। একই ছবি রঘুনাথপুর ১ ব্লকের মধুতটি হাইস্কুলে। সেখানেও সাইকেল পায়নি নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা। এই নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক সঞ্জয় পাল এ দিন বলেন, ‘‘পর্যাপ্ত সংখ্যায় সাইকেল প্রশাসনের কাছে এখনও না আসায় মহকুমার কয়েকটি ব্লকের কিছু স্কুলে সাইকেল দেওয়া সম্ভব হয়নি। কত সংখ্যক সাইকেল প্রয়োজন, সেই তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও-রা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরে পাঠিয়েছেন। সাইকেল এলেই দ্রুত ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হবে।”

Advertisement

ভাঁওরিডি হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, এমনিতেই ব্লকের প্রায় সমস্ত স্কুল সাইকেল বিলি করে দিয়েছে। কিন্তু ভাঁওরিডির কর্তৃপক্ষ কবে সাইকেল দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। ছাত্রছাত্রীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ আগে একবার সাইকেল দেওয়ার দিন স্থির করেছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে স্কুলে এসেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এ দিন আনাড়া গার্লস হাইস্কুলে সাইকেল নিতে যাওয়া ভাঁওরডির ছাত্রদের মধ্যে সঞ্জিত মাহাতো, বুলেট মাহাতো, পার্থ মাঝিরা বলে, ‘‘সকালে স্কুলে গিয়ে শুনেছিলাম আনাড়া গার্লস স্কুলে সাইকেল দেওয়া হবে। কিন্তু, ওই স্কুলে পৌঁছে জানতে পারি, আমাদের জন্য এখনও সাইকেল আসেনি। খামোকা আমাদের হয়রানি হল।’’

দশম শ্রেণির ওই ছাত্রদের আরও ক্ষোভ, সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। কিন্তু, বারবার সাইকেল দেওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় কখনও নিজেদের স্কুলে, কখনও বা অন্য স্কুলে ছুটতে হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত হচ্ছে। ভাঁওরিডি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এ দিন আনাড়া গার্লস হাইস্কুল থেকে যে ভাঁওরিডির ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া হবে, সে কথা বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে ব্লক প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছিল। সেইমতো তিনি ছাত্রদের আনাড়া যেতে বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘ব্লকের এক কর্মী ফোনে জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার আমাদের ৫০ জন ছাত্রকে সাইকেল দেওয়া হবে। এমনিতেই সাইকেল নিয়ে সমস্যা চলছে। তাই ওই কর্মীকে বলি, সব ছাত্রছাত্রী এক সঙ্গে সাইকেল না পেলে নতুন করে বিভ্রান্তি হবে। পরে আবার ব্লক থেকে বলা হয়, সমস্ত পড়ুয়াকেই সাইকেল দেওয়া হবে।” সাইকেল দেওয়া নিয়ে ব্লক প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষর মধ্যে বোঝাবুঝির একটা সমস্যা তৈরি হওয়ায় এই বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে বলে দাবি ভাঁওরডি স্কুলের শিক্ষকদের একাংশের। তাঁদের বক্তব্য, এ দিন সমস্ত পড়ুয়াকে সাইকেল দেওয়া যাবে না, সে কথা ব্লক স্পষ্ট করে জানালে প্রধান শিক্ষক ছাত্রদের আনাড়া যেতে বলতেন না। পাড়ার বিডিও-র সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অন্য দিকে, মধুতটি হাইস্কুলের ছাত্রদের একাংশের অভিযোগ, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের কেউই এখনও সাইকেল পায়নি। কিছু ছাত্রের কথায়, ‘‘কেন সাইকেল পাওয়া যাচ্ছে না, স্কুল কর্তৃপক্ষ তার সদুত্তর দিতে পারছে না। আবার প্রশাসনের কাছে গেলেও কবে সাইকেল পাব, তা জানতে পারছি না।’’ মধুতটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নরেশচন্দ্র চৌধুরী জানান, প্রশাসনের কাছে সাইকেল চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাইকেল না থাকায় এখনই দেওয়া সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছে। জেলা প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, যে সংস্থা সাইকেল সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে, তারা এক সঙ্গে এত সংখ্যক সাইকেল তৈরি করতে সমস্যায় পড়াতেই এই সঙ্কট।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy