Advertisement
E-Paper

সরকারি কর্মীর সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’

অফিসে ঢুকে তৃণমূল কাউন্সিলরের সহকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে ঘণ্টাখানেক কর্মবিরতি পালন করলেন ব্লক কর্মীরা। পরে বিডিও এবং পুরপ্রধানের মধ্যস্থতায় ওই কর্মবিরতি ওঠে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নলহাটি ১ ব্লক অফিসের ঘটনা। এ নিয়ে কোথাও লিখিত অভিযোগ হয়নি। তৃণমূল কাউন্সিলরও অভিযোগ অস্বীকরা করেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:৪৩

অফিসে ঢুকে তৃণমূল কাউন্সিলরের সহকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে ঘণ্টাখানেক কর্মবিরতি পালন করলেন ব্লক কর্মীরা। পরে বিডিও এবং পুরপ্রধানের মধ্যস্থতায় ওই কর্মবিরতি ওঠে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নলহাটি ১ ব্লক অফিসের ঘটনা। এ নিয়ে কোথাও লিখিত অভিযোগ হয়নি। তৃণমূল কাউন্সিলরও অভিযোগ অস্বীকরা করেছেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ নলহাটি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সুব্রত দত্ত ব্লক তথ্য আধিকারিক প্রসূন দত্তের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বানীওর পঞ্চায়েতের খয়েরবনি সংসদের সদস্য এবং ওই গ্রামের এক বিধবাভাতা প্রাপকও। ব্লক অফিসের কর্মীদের অভিযোগ, সুব্রতবাবু বার্ধক্যভাতার কিছু তথ্য জানতে এসে প্রসূনবাবুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা শুরু করেন। এমনকী, জুতো খুলে মারতেও উদ্যত হন। বৃহস্পতিবার ওই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই একজোট হন অফিসের কর্মীরা। শাসকদলের ওই নেতার অভব্য আচরণের প্রতিবাদে কর্মবিরতিও শুরু করেন। এ দিন প্রসূনবাবু বলেন, ‘‘যে উপভোক্তাকে নিয়ে সুব্রতবাবু এসেছিলেন, তাঁর ব্যাঙ্কের নতুন পাসবইয়ের অ্যাকাউন্ট নম্বরে গণ্ডগোল ছিল। তা দিন কুড়ি আগেই সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সুব্রতবাবু সে কথা না শুনেই আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।’’ পরে অবশ্য বিষয়টি মিটে গিয়েছে বলে প্রসূনবাবু এ দিন জানিয়েছেন।

ঘটনা হল, সরকারি অফিসে তৃণমূল নেতাদের দাদাগিরির অভিযোগ নতুন নয়। গত ২৮ ডিসেম্বর বন্যায় ক্ষতিপূরণের চেক বিলি করে তৃণমূল নেতা-সমর্থকদের হাতে মার খেয়েছিলেন নানুরের ব্লক কৃষি আধিকারিক ফজলুর হক। অভিযোগ, ওই ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন নানুরের তৃণমূল বিধায়ক গদাধর হাজরার অনুগামী বলে পরিচিত হোসেনপুর এলাকার নেতা ‌কেদারনাথ মণ্ডল। মারের চোটে অফিসেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ওই আধিকারিক। দফতরের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে এক মাসের ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন আতঙ্কিত ওই সরকারি আধিকারিক। ঘটনার কথা সংবাদমাধ্যম তুলে ধরতেই চাপে পড়ে সক্রিয় হয় পুলিশ। মূল অভিযুক্ত কেদারনাথ-সহ দু’জনকে ধরে পুলিশ।

Advertisement

এ দিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্টে, ওই সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধেই তিনি পাল্টা দুর্ব্যবহারের নালিশ ঠুকেছেন। এ দিন তাঁর দাবি, ‘‘আমি কোনও রকম দুর্ব্যবহার করিনি। কাউকে জুতোও দেখাইনি। এক বছর ধরে এক জন বিধবাভাতার টাকা পাচ্ছেন না কেন, এই ব্যাপারেই খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। উল্টে প্রসূনবাবুই আমার সঙ্গে রুঢ় ভাবে কথা বলেন।’’ অন্য দিকে, বিডিও (নলহাটি ১) কিংশুক রায় জানান, ঘটনার দিনি তিনি কিসান মান্ডির ঘরবিলির লটারি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। পরে অফিসে এসে ঘটনার কথা জানতে পেরে নলহাটির পুরপ্রধানকে জানান। এ দিন তাঁকে জানিয়েই অফিসের কর্মীরা ওই ঘটনার প্রতিবাদে কিছুক্ষণের জন্য কর্মবিরতি পালন করেছেন বলেও কিংশুকবাবু জানিয়েছেন।

গোটা ঘটনাটিকেই দু’পক্ষের মধ্যে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলেই দাবি করেছেন নলহাটির পুরপ্রধান রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিংহ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এ দিন বিডিও অফিসে গিয়ে দু’পক্ষের সঙ্গে বসে ওই ভুল বোঝাবুঝি মেটানো হয়েছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy