Advertisement
E-Paper

হেনস্থার প্রতিবাদে মিছিল

সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মঙ্গলবার মহম্মদবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে নামিয়ে দেওয়া ও হেনস্থা করা হয়েছিল। তারই প্রতিবাদে বুধবার মিছিল করে বিডিওকে স্মারকলিপি দিল বামফ্রন্ট। নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় আড়াই ঘন্টা পর বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ আঙ্গারগড়িয়া ও মহম্মদবাজারের দিক থেকে দুটি মিছিল এসে পৌঁছায় বিডিও অফিসে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৫৩
বুধবার মহম্মদবাজার ব্লক অফিস চত্বরে তোলা নিজস্ব চিত্র

বুধবার মহম্মদবাজার ব্লক অফিস চত্বরে তোলা নিজস্ব চিত্র

সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মঙ্গলবার মহম্মদবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে নামিয়ে দেওয়া ও হেনস্থা করা হয়েছিল। তারই প্রতিবাদে বুধবার মিছিল করে বিডিওকে স্মারকলিপি দিল বামফ্রন্ট। নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় আড়াই ঘন্টা পর বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ আঙ্গারগড়িয়া ও মহম্মদবাজারের দিক থেকে দুটি মিছিল এসে পৌঁছায় বিডিও অফিসে। দুটি মিছিল মিলিয়ে প্রায় শ’চারেক মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। কয়েক মিনিট দলীয় শ্লোগান দিয়ে সিপিএমের জোনাল কমিটির সদস্য তথা শিক্ষক নেতা শ্রীজিৎ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বামফ্রন্টের কয়েকজন প্রতিনিধি বিডিওকে স্মারকলিপি দিতে যান। বাইরে তখন বাকি নেতারা মাইক্রোফোন হাতে নানা বিডিওকে আক্রমণ করে চলেছেন।

জোনাল কমিটির সম্পাদক প্রভাষ মাল, সিপিআইয়ের আক্তার আলি, ফব’র মানিক মণ্ডল, আরএসপির হরিতারন ভাণ্ডারী-সহ সকলেই জানান, বিডিওর পক্ষপাতমূলক আচরণ, শাসক দলের তাবেদারি ও নেতাদের কথায় কাজ করা, পঞ্চায়েত সমিতিকে আড়ালে রেখে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বিডিও। বাইরে যখন বিডিওর বিরুদ্ধে গলা চড়িয়েছেন বাম নেতারা, তখন ভিতরে বিডিও বাম প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপচারিতায় ব্যস্ত। সিপিএমের দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি মূল্যে গ্রাম সংসদ এলাকা থেকে ধান ক্রয়, বোরো চাষের জন্য তিলপাড়া ও হিংলো ব্যারেজ থেকে সেচের জল, ডাল তেল-সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে ব্যবস্থা-সহ কয়েক দফা দাবিতে এ দিন বিডিওকে স্মারকলিপি দেওয়ার আগাম কর্মসূচী ছিল।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার মহম্মদবাজারের টুরকু হাঁসদা-লপসা হেমব্রম কমিউনিটি হলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্লকের মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী তফশিলি জাতি ও উপজাতি ছাত্রছাত্রীদের ‘বাবা অম্বেদকর মেধা পুরস্কার’ প্রদানের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই জেলা ও ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ। মহম্মদবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সিপিএমের মাধবী বাগদির দাবি, ‘‘সরকারি অনুষ্ঠানে গুটি কয়েক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক আমাকে হেনস্থা করে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। ওরা বলে, ‘আপনি তাপসদাকে (তৃণমূলের ব্লক যুগ্ম সভাপতি) মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেছিলেন। তাই আপনিও মঞ্চে থাকতে পারবেন না’। এর পরেই আমাকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে একপ্রকার বাধ্য করা হয়।’’ এ সব যখন ঘটছে, মঞ্চে তখন অতিরিক্ত জেলাশাসক উমাশঙ্কর এস, মহকুমাশাসক অরুন্ধতি ভৌমিক, বিডিও তারাশঙ্কর ঘোষ। পরে এডিএমের অনুরোধে মাধবীদেবী ফের ওই সরকারি মঞ্চে ওঠেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

Advertisement

ঘটনা হল, দিন কয়েক আগেই ওই হলেই পাট্টা বিলির একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসে থাকা তৃণমূল নেতা তাপস সিংহকে নেমে যেতে বলেছিলেন মাধবীদেবী। ওই ঘটনার আক্রোশ থেকেই এ দিন ঘটানো হয়েছে বলে বামেদের অভিযোগ। যদিও এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তাপসবাবু বলেন, ‘‘ওখানে ঠিক কী ঘটেছে জানি না। তবে, এই ধরনের ঘটনাকে দল সমর্থন করে না।’’ প্রশাসনের কর্তারা অবশ্য ঘটনার সত্যতা মেনে নিয়েছেন। অনেকে নিন্দাও করেছেন। মঙ্গলবার পরে বিডিও বলেন, ‘‘যাঁরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁরা ঠিক করেননি।’’ বামেদের দাবি, অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। এছাড়া বামফ্রন্ট শাসিত কয়েকটি পঞ্চায়েতে শাসক দলের নির্দেশ মতো কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন বিডিও। প্রতিটি সংসদ এলাকায় ১০০ দিনের কাজ ও বকেয়া মজুরী দেওয়া, আদিবাসী পেনসন, বিধবা ভাতা ইত্যাদি নয় দফা দাবি জানানো হয় এ দিনের স্মারক পত্রে।

বিডিও তারাশঙ্কর ঘোষ বুধবার বলেন, ‘‘বাম প্রতিনিধি দলের স্মারকপত্র পেয়েছি। তাঁদের বুঝিয়ে বলেছি, সে দিনের ঘটনার সঙ্গে বিডিও বা প্রশাসনের কেউ কোনওভাবে যুক্ত নয়। এবং সে জন্য মঞ্চ থেকেই আমি দুঃখ প্রকাশ করেছি। পক্ষপাতিত্ব বা শাসক দলের নেতাদের কথায় কাজ করার অভিযোগ ঠিক নয়। বাকি যে সব দাবি আছে সেগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy