E-Paper

বিএলও-শিক্ষকেরা পরীক্ষার আগে ফিরবেন কি, প্রশ্ন

এ বার মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯,৭১,৩৪০। মোট ২৬৮২টি স্কুলে পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার ঘরে নজরদারি থেকে শুরু করে থানা থেকে প্রশ্নপত্র আনা, প্রশ্নপত্র বিলি করা, উত্তরপত্র পর্ষদে পৌঁছে দেওয়ার কাজে এক দিকে যেমন প্রচুর শিক্ষককে প্রয়োজন, তেমনই শিক্ষা দফতরের প্রচুর আধিকারিকও প্রয়োজন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৯

— প্রতীকী চিত্র।

মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু আগামী সোমবার থেকে। তার তিন দিন আগেও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ জানে না যে মোট কত জন শিক্ষক বিএলও-র কাজে গিয়েছেন! তাঁরা মাধ্যমিকের আগে বিএলও-র ডিউটি থেকে স্কুলে ফিরতে পারবেন কি না, তা-ও জানা নেই পর্ষদের। ওই শিক্ষকেরা মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে বিএলও-র কাজ থেকে না-ফিরলে পরীক্ষার কাজকর্ম সুষ্ঠু ভাবে হবে কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও পর্ষদের দাবি, পরীক্ষা সুষ্ঠু ভাবে শেষ করার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।পরীক্ষার আগে শিক্ষকেরা বিএলও-র কাজ থেকে ফিরবেন বলেও ‘আশাবাদী’ পর্ষদ।

এ বার মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯,৭১,৩৪০। মোট ২৬৮২টি স্কুলে পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার ঘরে নজরদারি থেকে শুরু করে থানা থেকে প্রশ্নপত্র আনা, প্রশ্নপত্র বিলি করা, উত্তরপত্র পর্ষদে পৌঁছে দেওয়ার কাজে এক দিকে যেমন প্রচুর শিক্ষককে প্রয়োজন, তেমনই শিক্ষা দফতরের প্রচুর আধিকারিকও প্রয়োজন। পর্ষদ সূত্রের খবর, মাধ্যমিক পরীক্ষায় নজরদারির জন্যই প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক প্রয়োজন। প্রশ্ন উঠেছে, বিএলও-র দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা ফিরে না-এলে নজরদারির পর্যাপ্ত শিক্ষক মিলবে তো? পরীক্ষা কেন্দ্রে ‘অফিসার ইন-চার্জ’ পদে সাব-ইনস্পেক্টর অব স্কুলের মতো আধিকারিকেরা থাকেন। প্রশ্নপত্র আনা, উত্তরপত্র পর্ষদে পৌঁছনোর কাজ তাঁদের তত্ত্বাবধানে হয়। শিক্ষা দফতরের এই আধিকারিকরা অনেকেই নির্বাচন কমিশনের নানা দায়িত্বে পেয়েছেন। তাঁরা ফিরে না-এলে পরীক্ষার দায়িত্ব কে সামলাবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসন, নির্বাচন আধিকারিককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি যে মাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষা পরিচালনা করতে পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং শিক্ষা দফতরের আধিকারিক দরকার। পরীক্ষা এবং বিএলও-র কাজের মধ্যে এমন সমন্বয় করা হোক যাতে পরীক্ষা পরিচালনায় অসুবিধা না হয়। এখনও উত্তর পাইনি।’’ পর্যাপ্ত শিক্ষক না মিললে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে পর্ষদের এক কর্তা বলেন, “যে সব স্কুলে মাধ্যমিকের সিট পড়বে না সেখান থেকে শিক্ষকদের নিয়ে আসা হবে। ইতিমধ্যেই সেই সব স্কুলের শিক্ষকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।’’ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, পরীক্ষার তিন দিন আগেও বিএলও-র কাজে যাওয়া শিক্ষকেরা ফিরবেন কি না, সেই উত্তর পর্ষদের কাছে না থাকলে শেষবেলায় অন্য স্কুল থেকে শিক্ষকদের আনা যাবে তো?তার কোনও উত্তর এখনও পর্ষদের কাছে নেই।

এ দিন পর্ষদ জানিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে। ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রশ্নপত্র বিলি হবে। লেখা শুরু করতে হবে বেলা ১১টা থেকে। ২টো পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। এ বছর ৯,৭১,৩৪০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ৪,২৬,৭৩৩ জন ছাত্র এবং ৫,৪৪,৬০৬ জন ছাত্রী। এক জন রূপান্তরকামী পড়ুয়াও আছে। পরীক্ষা শুরুর আগে শেষ মুহূর্তে ৯৫৪টি স্কুল মোট ১৯৬৬ জন পরীক্ষার্থীর নাম ‘এনরোল’ (নথিভুক্ত) করে অ্যাডমিট কার্ড নিয়েছে। ওই স্কুলগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পর্ষদ। পর্ষদের এক কর্তার কথায়, “দেরি করে নাম এনরোল করার সময় জরিমানা দিয়ে পার পেতে চেয়েছে। কিন্তু স্কুলগুলির মনোভাব ভাল চোখে দেখছি না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BLO Special Intensive Revision Madhyamik 2026

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy