Advertisement
E-Paper

ভিড়ে ঠাসা হাসপাতালে এ বার শুধুই নিয়ম ভাঙার ‘উৎসব’

আর জি কর, এন আর এস বা এসএসকেএম— সর্বত্রই সচেতনতা শিকেয় তুলে দিলেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২০ ০৩:২৫
ভিড়: দূরত্ব-বিধি শিকেয় তুলে আর জি কর হাসপাতালের বহির্বিভাগে জটলা রোগী ও তাঁদের পরিজনেদের। সোমবার। নিজস্ব চিত্র

ভিড়: দূরত্ব-বিধি শিকেয় তুলে আর জি কর হাসপাতালের বহির্বিভাগে জটলা রোগী ও তাঁদের পরিজনেদের। সোমবার। নিজস্ব চিত্র

আনলক ওয়ানের দ্বিতীয় পর্যায়ে দ্বিগুণ হয়ে গেল হাসপাতালের ভিড়। আর সেই সঙ্গেই সোমবার শহরের মেডিক্যাল কলেজগুলির বহির্বিভাগ থেকে হাসপাতাল চত্বর— সর্বত্রই যেন চালু হয়ে গেল বিধি ভাঙার ‘উৎসব’। যার সামনে কার্যত অসহায় কর্তৃপক্ষ।

আর জি কর, এন আর এস বা এসএসকেএম— সর্বত্রই সচেতনতা শিকেয় তুলে দিলেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। এই প্রবণতার সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে কতটা অসহায়, তা আর জি করের বহির্বিভাগে কর্মরত এক নিরাপত্তারক্ষীর বয়ানেই স্পষ্ট। তিনি জানান, এ দিন সকালে বহির্বিভাগের দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন সকলে। কারও মাস্ক নাকের নীচে, কারও থুতনির কাছে নামানো। দূরত্ব-বিধির বালাই নেই। হাসপাতাল চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি। বহির্বিভাগের মুখে শরীরের তাপমাত্রা মাপার পরে দশ জন করে ঢোকার অনুমতি পেয়েছেন। ওই দশ জনের টিকিট কাটা হলে পরের দশ জন। দোতলায় মেডিসিন এবং বক্ষরোগ বিভাগে এক-দু’জনের বেশি রোগী যাতে চিকিৎসকের কাছে না যান, তা নিশ্চিত করতে হাতে লাঠি নিয়ে ঘুরতে দেখা গিয়েছে এক কর্মীকে। বহির্বিভাগের ঘরে সামাজিক দূরত্ব সুরক্ষিত থাকলেও অলিন্দে দেখা গেল জটলা। একই ছবি জরুরি বিভাগের জনসংযোগ কেন্দ্রে। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীরা দড়ি টাঙিয়ে লক্ষ্মণরেখা টেনেছেন।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এ দিন আর জি করের বহির্বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৫০। লকডাউন চলাকালীন যা তিন-চারশোর মধ্যে ছিল। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নতুন ও পুরনো মিলিয়ে রোগীর সংখ্যা ছিল ১০৬৯। নতুন রোগী ৮৩২, পুরনো রোগী ২৩৭। এসএসকেএমে নতুন রোগী ৩২৩৭, পুরনো অন্তত ২০০০। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল ১১১৪। প্রায় এক মাস পরে এ দিন বহির্বিভাগ চালু হয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নতুন-পুরনো মিলিয়ে রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৫৯ জন। প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজেই লকডাউন চলাকালীন বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক ছিল।

এ দিন ভিড়ের পাশাপাশি যে ভাবে নিয়ম না-মানার প্রবণতা দেখা গিয়েছে, সেটাই বাড়িয়েছে চিন্তা। এসএসকেএমে মাইকে ক্রমাগত ঘোষণা করা হয়েছে, মাস্ক ছাড়া কেউ যেন প্রবেশ না করেন। এক জায়গায় জটলা যাতে না হয়, তা-ও বলা হয়েছে। কিন্তু যেখানে মাইকে ঘোষণা হচ্ছে, তার পাশেই ছোট ছোট জমায়েত চোখে পড়েছে। নীলরতনে হেমাটোলজির বহির্বিভাগ বা সুপারের কার্যালয়ের সামনে লোকজনের মুখে তো মাস্কটুকুও ছিল না।

এন আর এসে ভিড় কমাতে আউটডোর বিল্ডিংয়ে ঢোকার ও বেরোনোর পথ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ফিভার ক্লিনিক এবং এমএসভিপি-র কার্যালয় সংলগ্ন দু’টি গেট প্রবেশপথ। ফার্মাসির পাশের গেট বেরোনোর পথ। এক-একটি তলায় ২৫ জনের বেশি রোগীকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে না। রক্ষীদের মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় থাকছে ইন্টারকম। ওয়াকিটকি কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এসএসকেএমের উপাধ্যক্ষ তথা সুপার রঘুনাথ মিশ্র বলেন, ‘‘আমাদের ২৮টি আউটডোর রয়েছে। ফলে আর জি কর বা এন আর এসের মতো ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল। চিকিৎসকেরা যেখানে রোগী দেখছেন, সেখানে ভিড় হচ্ছে না। ঘরের বাইরের ভিড় কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা দেখা হবে।’’

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy