Advertisement
E-Paper

মোবাইল ‘হারিয়েছেন’! ইডির কাছে দাবি পুলিশকর্তা শান্তনুর, অভিযোগ জানাননি কোথাও, তথ্য লোপাট করতেই কৌশল?

ইডি সূত্রে খবর, গোয়েন্দারা শান্তনুকে মোবাইল কোথায় জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, মোবাইল হারিয়ে গিয়েছে। যদিও সঙ্গত কারণে সেই কথা আদৌ বিশ্বাস করতে রাজি নন গোয়েন্দারা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১৫:৫৫
Shantanu ‘lost’ his mobile phone, didn’t even file a complaint — was it a tactic to erase information

শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। —ফাইল চিত্র।

বড়ঞার প্রাক্তণ তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা শিক্ষায় দুর্নীতি মামলায় প্রমাণ লোপাট করতে ইডি তল্লাশির সময় মোবাইল পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন। সেই একই ভাবে মোবাইল গায়েব করে প্রমাণ লোপাটের ছকে পুলিশ কর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসও? ইডি সূত্রে খবর, শান্তনু সিংহ বিশ্বাস ১৫ মে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে যখন এসে পৌঁছোন, তখন তাঁর কাছে তার দু’টি মোবাইলের একটিও ছিল না। ফলে তাঁকে গ্রেফতারের পরেও তার কাছ থেকে কোনও মোবাইল বাজেয়াপ্ত হয়নি।

ইডি সূত্রে খবর, গোয়েন্দারা শান্তনুকে মোবাইল কোথায় জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, মোবাইল হারিয়ে গিয়েছে। যদিও সঙ্গত কারণে সেই কথা আদৌ বিশ্বাস করতে রাজি নন গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দাদের ইঙ্গিত, বর্তমানে যে কোনও অপরাধের কিনারা করতে অভিযুক্তের মোবাইল একটা বড় হাতিয়ার। মোবাইলে লুকিয়ে থাকে অনেক তথ্যপ্রমাণ। পুলিশ কর্তা শান্তনু যে মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন, সেই জমি দখল মামলাতেই গ্রেফতার করে হয়েছে ব্যবসায়ী জয় ওরফে জয়েশ কামদারকে। তাঁর কাছ থেকেও উদ্ধার হয়েছে মোবাইল এবং সেই মোবাইল থেকে এই তদন্তের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি ইডি আধিকারিকদের। জয় কামদারের হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাট থেকে সোনা পাপ্পু এবং শান্তনুর সঙ্গে যোগাযোগ এবং জমি জোর করে দখল করা সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রমাণ উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা।

সম্প্রতি শান্তনু-ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুলিশের সাব ইনস্পেক্টর রহুল আমিনের বাড়ি তল্লাশি করার পরেও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাঁর ফোন। কিন্তু শান্তনুর মোবাইল শুরু থেকেই বেপাত্তা।

শান্তনুর ফার্ন রোডের বাড়িতে তল্লাশির পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা ছিলেন এই পুলিশ কর্তা। গোয়েন্দাদের অনুমান, ৯ মে সরকার বদলের পরেও ১৫ মে পর্যন্ত নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার অনেকটা সময় পান শান্তনু। পেশাদারি অভিজ্ঞতা থেকে শান্তনু জানেন, তাঁর দু’টি মোবাইল অনেক তথ্যপ্রমাণের খনি। কেবল এই মামলার নয়, আরও অনেক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হতে পারে তাঁর মোবাইল থেকে।

তিনি যদি মোবাইলের সমস্ত তথ্য ডিলিটও করে দেন, তা হলেও তা আধুনিক ফরেনসিক পরীক্ষায় ধরা পড়বে। মুছে যাওয়া তথ্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও যেমন থাকবে, সেই সঙ্গে তথ্য প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ জোরালো হবে শান্তনুর বিরুদ্ধে। তাই মোবাইল ছাড়াও ইডি আধিকারিকদের কাছে হাজিরা দেন শান্তনু।

তবে এত কিছু করেও, নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ খণ্ডাতে পারেননি তিনি। কারণ, ইডি আধিকারিকেরা জানতে চান, দুটো ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ জানিয়েছেন কি না শান্তনু? শান্তনুর দাবি তিনি অভিযোগও দায়ের করেননি।

ইডি আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছেন, শেষ কোন জায়গায় শান্তনুর মোবাইলগুলো সচল ছিল। সেই তথ্য ধরেই মোবাইল খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

Shantanu Sinha Biswas ED
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy