E-Paper

মিড-ডে মিলে যুদ্ধের আঁচ, গ্যাসের অভাবে পাতে শুধুই ডিম

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও ভাবেই রান্নার গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করা যাবে না। তবু কেন এই অবস্থা? কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৬
মিড-ডে মিলে পাতে শুধুই ডিম। বুধবার, এস এন ব্যানার্জি রোডের রানি রাসমণি হাই স্কুলে।

মিড-ডে মিলে পাতে শুধুই ডিম। বুধবার, এস এন ব্যানার্জি রোডের রানি রাসমণি হাই স্কুলে। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।

এস এন ব্যানার্জি রোডের রানি রাসমণি হাই স্কুলে বুধবার মিড-ডে মিলে দেওয়ার কথা ছিল ভাত, আলু-সয়াবিনের তরকারি এবং ডিম সেদ্ধ। কিন্তু তার বদলে মিলল শুধুই ডিম! অভিযোগ, মিড-ডে মিল রান্নার জন্য বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার অপ্রতুল। তাই কাটছাঁট করতে হয়েছে মেনুতে। যার জন্য শুধুই ডিম পেল পড়ুয়ারা। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মহসিন ইমাম বলেন, ‘‘এই স্কুলে অনেকেই আছে, যারা দুপুরের খাবার হিসাবে মিড-ডে মিলটাই খায়। কারও পেট ভরল না। বিষয়টি আমরা শিক্ষা দফতরকে জানিয়েছি।’’

এই সমস্যা শুধু রানি রাসমণি হাই স্কুলের নয়। কলকাতার যে সব সরকারি স্কুলে রান্নার জায়গা নেই, তাদের মিড-ডে মিল আসে কমিউনিটি রান্নাঘর থেকে। ওই সব স্কুলগুলিতে এই সমস্যা এ দিন হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই কমিউনিটি রান্নাঘরগুলি চালায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এমনই কিছু সংস্থার দাবি, মিড-ডে মিল রান্নার জন্য প্রতিদিন যত গ্যাস সিলিন্ডার দরকার, ততগুলি তারা এ দিন পায়নি। তাই মেনুতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন চললে স্কুলগুলিতে কত দিন মিড-ডে মিল সরবরাহ করতে পারবে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি, তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এ দিন বলেন, ‘‘মিড-ডে মিলের জন্য যাতে কোনও ভাবেই গ্যাসের সঙ্কট দেখা না দেয়, তার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও ভাবেই রান্নার গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করা যাবে না। তবু কেন এই অবস্থা? কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে। রানি রাসমণি হাই স্কুলে যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মিড-ডে মিল সরবরাহ করে, সেটির কর্তা ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নই। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশের আওতায় পড়ি না। আমাদের সঙ্গে কলকাতা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন স্কুলে মিড-ডে মিল সরবরাহ করি। আমরা বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ব্যবহার করি। যে সব স্কুলেই রান্না হয়, সেখানে সাধারণ সিলিন্ডার ব্যবহার হয়। ফলে ওই সব স্কুলে সিলিন্ডার পেতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’’ ইন্দ্রনীল জানান, রোজ ৩৫০০ পড়ুয়ার মিড-ডে মিল সরবরাহ করেন তাঁরা। এর জন্য প্রতিদিন চারটি সিলিন্ডার লাগে। এ দিন তা পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া গিয়েছে, তা দিয়ে শুধু ডিম সেদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। ইন্দ্রনীলের দাবি, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সিলিন্ডার রাখা সম্ভব নয়।

কলকাতার অন্য একটি কমিউনিটি রান্নাঘরের কর্ণধার শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার পড়ুয়ার খাবার যায়। মাসে ১৫০টির মতো সিলিন্ডার লাগে। গতকাল থেকে সিলিন্ডার অনিয়মিত।’’ রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের একটি কমিউনিটি কিচেনের কর্ণধার মধুমিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিভিন্ন স্কুলের ৮ থেকে ১০ হাজার পড়ুয়ার জন্য আমাদের রান্না হয়। এখনও সমস্যা হয়নি। তবে এমন চললে কী হবে, সেই নিয়ে আশঙ্কায় আছি।’’ কেষ্টপুরের দেশপ্রিয় বালিকা বিদ্যামন্দিরের রয়েছে নিজস্ব রান্নাঘর। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাজ়রিন নাহার বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে রান্নাঘরে মিড-ডে মিল রান্না হয়। মাসে ১০ থেকে ১২টি সিলিন্ডার লাগে। সিলিন্ডার যাতে নিয়মিত মেলে তার জন্য আমাদের এজেন্টকে বলেছি।’’

এ দিকে সূত্রের খবর, খাদ্য দফতর থেকে গ্যাসের ডিলারদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মিড-ডে মিল, স্কুল-কলেজের ক্যান্টিনের জন্য সিলিন্ডারের জোগানে যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

mid-day meal LPG Gas

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy