Advertisement
E-Paper

শিল্প-ঘোষণার কী হল এক বছরে, প্রশ্ন সূর্যের

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ বারই শেষ বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন। তার আগে শিল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ও বাস্তবের ফারাক দেখাতে আসরে নামল প্রধান বিরোধী দল সিপিএম। তাদের সরাসরি অভিযোগ, ঘটা করে শিল্প সম্মেলন করলেও রাজ্যে আসলে যা চলছে, তার নাম ‘বিশিল্পায়ন’! সেই সঙ্গেই ফের তাদের আশ্বাস, বামেরা ক্ষমতায় ফিরলে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের থেকে শিক্ষা নিয়ে জোর করে জমি না নিয়েই শিল্পের পথে এগোনো হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৬ ১৮:১৪

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ বারই শেষ বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন। তার আগে শিল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ও বাস্তবের ফারাক দেখাতে আসরে নামল প্রধান বিরোধী দল সিপিএম। তাদের সরাসরি অভিযোগ, ঘটা করে শিল্প সম্মেলন করলেও রাজ্যে আসলে যা চলছে, তার নাম ‘বিশিল্পায়ন’! সেই সঙ্গেই ফের তাদের আশ্বাস, বামেরা ক্ষমতায় ফিরলে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের থেকে শিক্ষা নিয়ে জোর করে জমি না নিয়েই শিল্পের পথে এগোনো হবে।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র বৃহস্পতিবার সরকারি তথ্য উল্লেখ করে বলেছেন, গত বছর জানুয়ারি মাসে এই রকমই শিল্প সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন দু’লক্ষ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে। বছর ঘুরে আরও একটি বাণিজ্য সম্মেলন পর্যন্ত ৬০০ কোটি টাকার লগ্নি-প্রস্তাব সই হয়েছে। সূর্যবাবুর অভিযোগ, তার মানে হাতে-কলমে বিনিয়োগ রূপায়ণ ধরলে অঙ্কটা শূন্য! শুধু শিল্প সম্মেলনই নয়, তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহার, মুখ্যমন্ত্রীর ‘ভিশন ডকুমেন্ট’-সহ নানা নথিতে প্রতিশ্রুতি ছিল, প্রতি মহকুমায় শিল্প তালুক হবে। মার্কেটিং হাব গড়া হবে ৫৬টা, যেখানে ৫৬ হাজার সংখ্যালঘু মানুষের কাজের ব্যবস্থা হবে। বিরোধী দলনেতার দাবি— আজ, শুক্রবার বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জবাব দিন, এ সব ঘোষণার কী হল?

সূর্যবাবুর কথায়, ‘‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। শিল্প তাড়িয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের না তাড়াতে পারলে আবার শিল্প আসা সম্ভব নয়! বাস্তব চিত্র দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, এখানে বিশিল্পায়ন চলছে। তারই সম্মেলন হচ্ছে। শিল্পের পক্ষে মনোভাব ওঁর (মুখ্যমন্ত্রী) কখনওই ছিল না।’’ এ বারের বিধানসভা ভোটে মমতার সরকারের শিল্পে ব্যর্থতাকে অন্যতম হাতিয়ার করতে চলেছে বামেরা। শিল্পের হতশ্রী দশার প্রতিবাদেই আগামী ১৬-২২ জানুয়ারি সিঙ্গুর থেকে শালবনি পদযাত্রার আয়োজন হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এ দিনও বলেছেন, ‘‘বামেরা ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুর-সহ সমস্যার সমাধান করেই এগোবে। সিঙ্গুরে ৯২% জমির মালিক জমি দিতে রাজি ছিলেন। বাকিদের মধ্যে কিছু অংশ আবার সেখানে অনুপস্থিত থাকতেন। তবু ৫% বা ৮% যা-ই হোক, তাঁদের নিয়ে তৃণমূল নেত্রী আন্দোলন করেছিলেন। তাঁদের এখন কী অবস্থা? কারখানা হল না, কেউ জমিও ফেরত পেল না!’’ পাশাপাশিই ফের তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ‘‘সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ছাড়া বাম আমলে জমি নিয়ে কোনও গোলমাল হয়নি। এখনও আমরা সতর্ক হয়েই এগোব। মানুষের সঙ্গে কথা বলেই শিল্প হবে।’’

Advertisement

পুরনো তথ্য উল্লেখ করেই সিপিএমের ফের দাবি, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ধাক্কা সত্ত্বেও বামফ্রন্ট সরকারের শেষ তিন বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছিল। এই সরকারের পাঁচ বছর হতে চলল, বিনিয়োগ পাঁচ হাজার কোটি হতেই হিমশিম! চটকল একের পর এক বন্ধ। চা-বাগানে মৃত্যুর মিছিল চলছে। সূর্যবাবুর মন্তব্য, ‘‘কৃষকের আত্মহত্যা, শ্রমিকের মৃত্যুর দায় মেলা-উৎসবের ঢাকের আওয়াজে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে! মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, উনি যা করে দিয়েছেন, চারশো বছরেও কেউ পারবে না। বাংলার নজিরবিহীন সর্বনাশ করার জন্যই লোকে তাঁকে মনে রাখবে!’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy