E-Paper

বিধায়ক তহবিলে নজর নেই, বরাদ্দের অপচয়েও চিন্তা কমিটির

বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য এ রাজ্যে বিধায়কেরা বছরে ৭০ লক্ষ টাকা পান। সেই টাকার খরচ ও কার্যকারিতা পর্যালোচনায় যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা মোটেই ‘সন্তোষজনক’ নয়।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৫

— প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে বিধায়ক তহবিলের অর্থ বরাদ্দ ও খরচে ‘নজরদারি’ চাইল বিধায়কদের কমিটিই। বিধানসভার শেষ অধিবেশনে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা করে কমিটি সরকারি অর্থের অপচয় ঠেকাতে এই নজরদারির পাশাপাশি প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই দুইয়ের অভাবেই সময় মতো কাজ শেষ হয় না। এবং বহু ক্ষেত্রেই বরাদ্দ অর্থের থেকেও প্রকল্পের খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে।

বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য এ রাজ্যে বিধায়কেরা বছরে ৭০ লক্ষ টাকা পান। সেই টাকার খরচ ও কার্যকারিতা পর্যালোচনায় যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা মোটেই ‘সন্তোষজনক’ নয়। বিধায়ক তহবিলের বরাদ্দ অর্থ খরচের পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা বিধায়কদের নিয়ে তৈরি কমিটিই এই অসন্তোষের কথা জানিয়ে সরকারের কাছে ১৩ দফা সুপারিশ করেছে। সদ্য বিধানসভায় জমা দেওয়া ওই রিপোর্টে অবশ্য বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজনও উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজের গতি বজায় রাখার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান তথা আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী।

শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়কদের নিয়ে গঠিত বিধানসভার এই কমিটি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ছাড়াও দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়া জেলা ঘুরে ওই তহবিলে চালু প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা করেছে। তারই রিপোর্টে পর্যবেক্ষণ হিসেবে কমিটি উল্লেখ করেছে, ‘ব্লক থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদানে ঘাটতি থাকার কারণে প্রকল্পের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলে অন্ধকারে থেকে যান’। এবং সেই অন্ধকারের পরিণতি চিহ্নিত করে কমিটি বলেছে, ‘প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও কর্ম সম্পাদনকারী সংস্থা নির্বাচন’ দেরি হয়। এই সমন্বয় ও নজরদারির অভাবে কাজ শেষে দেরি হলে প্রকল্পের খরচও বেড়ে যায় বলে কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিধায়কের যোগাযোগের অভাবে ছোটখাটো কারণে অনেক প্রকল্প আটকে আছে বলেও কমিটির নজরে এসেছে। পাশাপাশি, প্রত্যেক বিধায়কের এই তহবিলে বার্ষিক বরাদ্দ ৭০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকা করার সুপারিশও করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি।

বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থের পিছনে বাস্তব ধারণার একাধিক দিকও তুলে ধরেছে কমিটি। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনও সংস্থা যখন খুব কম টাকায় কাজের বরাত পায়, তখন কাজে ‘অসাধু উপায়’ অবলম্বন করে। এ সব ক্ষেত্রে বরাতের সময়ে কাজের মান সংক্রান্ত শর্ত দেওয়া জরুরি বলে মনে করছে কমিটি। সুপারিশে সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই সরকারি অর্থ নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী আম্বুল্যান্স কেনার ক্ষেত্রে এনজিও বা ক্লাবের জন্য বরাদ্দ হয় মাত্র ৮ লক্ষ টাকা। ওই টাকায় অ্যাম্বুল্যান্স নিম্নমানের হয় এবং তা কিছু দিনের মধ্যে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যায়’।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal government MLA fund

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy