E-Paper

ট্রেনে পাথর ছোড়া কমই পশ্চিমবঙ্গে

উত্তর রেলে সর্বাধিক ৩৬৩টি পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। তা মূলত উত্তরপ্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ, দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর, চন্ডীগড়ে ছড়িয়ে।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে রেল। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথে নিয়মিত টহলদারি ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে রেললাইনে এবং ট্রেনে ক্যামেরা বসানোর তোড়জোড়ও চলছে। গত বছরের জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে ১৬৯৮টি চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তর রেল এবং পূর্ব-মধ্য রেল। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পশ্চিমবঙ্গের পরিসরে পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব রেলে এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলে পাথর ছোড়ার ঘটনা কিছুটা কম। তবে অতীতে বন্দে ভারত চলাচলের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের কোনও অংশে পাথর ছোড়ার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক জলঘোলার নজির রয়েছে।

উত্তর রেলে সর্বাধিক ৩৬৩টি পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। তা মূলত উত্তরপ্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ, দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর, চন্ডীগড়ে ছড়িয়ে। এর পরেই রয়েছে পূর্ব-মধ্য রেল (২১৯টি)। বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশের একাংশে তা ছড়িয়ে। দক্ষিণ-মধ্য রেলে ১৪০টি এবং উত্তরমধ্য রেলে ১২৬টি পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের বড় অংশ নিয়ে দক্ষিণ-মধ্য রেল। উত্তর-মধ্য রেলের পরিসর উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং হরিয়ানার একাংশ।

পশ্চিম রেল (১১৬টি) এবং দক্ষিণ রেলেও (১০৮টি) পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। মধ্য রেল ( ৯৬টি), পূর্ব রেল (৭১টি), উত্তর-সীমান্ত রেল (৬৭টি), দক্ষিণ-পশ্চিম রেল (৮০টি), পশ্চিম-মধ্য রেলে (৭৭টি), পূর্ব উপকূল রেল (৫০টি) এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলে (৫১টি) পাথর ছোড়ার ঘটনা তুলনায় কম। এ ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব-মধ্য রেলে ৫১টি, উত্তর-পশ্চিম রেলে ৫৫টি, উত্তর-পূর্ব রেলে ২৫টি ঘটনা ঘটেছে। সব থেকে কম মাত্র তিনটি ঘটনা ঘটেছে কোঙ্কন রেলে। ওই সমস্ত ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ রাজ্যের পরিসরের মধ্যে পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের এলাকা রয়েছে। ওই তিনটি অঞ্চলের মধ্যে পূর্ব রেলে সবচেয়ে বেশি ৭১টি দক্ষিণ পূর্ব রেলে ৫১টি এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ক্ষেত্রে ৬৭টি ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আরও একাধিক রাজ্য ওই তিন রেলের পরিসরের মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় বিক্ষোভ ছাড়াও অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে বলে রেল সূত্রে খবর। বহু ক্ষেত্রে শিশু এবং কিশোররাও এমন কাণ্ড ঘটায়।

পাথর ছোড়া রুখতে রেল বিভিন্ন অঞ্চলে আরপিএফের মাধ্যমে বিশেষ প্রচার কর্মসূচি নিয়েছে। রাজ্যে খড়্গপুর ডিভিশনে গত বছর ২৬টি পাথর ছোড়ার ঘটনায় ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার একটা বড় অংশই নাবালক।

সচেতনতা বাড়াতে প্রচার চালানোর পাশাপাশি সৌরশক্তি চালিত ক্যামেরা বসানো হয়েছে, খড়্গপুর-হাওড়া এবং খড়্গপুর-টাটানগর রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনে। ক্যামেরা বসানোর ফলে পাথর ছোড়ার ঘটনা কমবে বলে আশা করছেন রেলকর্তারা। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনের দু’পাশে দু’টি করে মোট চারটি প্ল্যাটফর্ম ক্যামেরা রয়েছে। হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পাথর ছোড়ার ঘটনায় ওই ক্যামেরা অপরাধীদের চিহ্নিত করতে কাজে আসে। বিভিন্ন সময়ে কিষানগঞ্জ এবং মালদহে ওই ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Eastern Railways South Eastern Railway

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy