তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে ইডি-র তল্লাশির সময়ে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিকে বেআইনি বলে সরব হয়েছে বিজেপি-সহ বিরোধীরা। এই আবহে অন্য নানা ঘটনার সঙ্গে ইডি-তল্লাশির প্রতিবাদে মমতার মিছিল, দিল্লিতে দলীয় সাংসদদের অবস্থানের কোলাজকে সামনে রেখে প্রচারের অস্ত্র হিসাবে শনিবার ‘যতই করো হামলা আবার জিতবে বাংলা’ শীর্ষক ভিডিয়ো প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহারের অভিযোগে এ দিন ফের শাণ দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্দেশখালি-কাণ্ডে অভিযুক্ত শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশির সময়ের ঘটনার সঙ্গে মমতার পদক্ষেপের তুলনা করে তাঁকে ‘গুন্ডি’ বলে পাল্টা তোপ দেগেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি-তৃণমূল আঁতাঁতের অভিযোগে অব্যাহত রেখেছে সিপিএম, কংগ্রেস।
বাঁকুড়ার শালতোড়ায় দলীয় সভা থেকে অভিষেক বলেছেন, “বিজেপি ভাবে কী? ইডি, নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আটকাবে? দিল্লির কাছে বশ্যতা স্বীকার করব না।” আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর সংযোজন, “যদি সারা দেশ গেরুয়াময় হয়, তবু একা বাংলা রুখবে। আপনার যত ক্ষমতা আছে, আপনি ইডি, সিবিআই, আয়কর বিভাগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগান। যত অর্থবল আছে, প্রয়োগ করুন। আপনার সঙ্গে ইডি, আয়কর বিভাগ, সিবিআই, আইটি, আধা সেনা, সেনা, বিচার ব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যম। আর এক দিকে মমতা ও বাংলার ১০ কোটি মানুষ। দেখি কে হারে, কে জেতে।”
মমতার পদক্ষেপকে পুরুলিয়ার পাড়ায় দলীয় সভা থেকে পাল্টা নিশানা করেছেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু। রেশন-দুর্নীতি মামলায় সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে গিয়ে ইডি আধিকারিকদের হামলার মুখে পড়ার উদাহরণ টেনে এনেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী ফাইল, ল্যাপটপ কাড়ছেন। শাহজাহান গুন্ডা, মুখ্যমন্ত্রী গুন্ডি! শাহজাহান ইডি-র উপরে হামলা করেন, মুখ্যমন্ত্রীও তা-ই করেন। ওঁর নেতৃত্বে রাজীব কুমার (রাজ্য পুলিশের ডিজি), মনোজ বর্মারা (কলকাতার নগরপাল) হামলা করেছেন।” তাঁর আরও অভিযোগ, “কলকাতা হাই কোর্টে শুনানির সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস লিগ্যাল সেল কয়েকশো আইনজীবীকে জড়ো করে মুখ্যমন্ত্রীকে বাঁচাতে বিচারপতির এজলাসে অচলাবস্থা তৈরি করেছিল। মামলায় সিবিআই হস্তক্ষেপ দরকার।” শিলিগুড়িতে দলের সভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের হাত থেকে ফাইল কাড়ছেন কী জন্য? কয়লা চোর, হাওয়ালার লোকজনদের বাঁচানোর জন্য। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান সরকারি কর্মচারীর উপরে আক্রমণ করছেন।”
এরই মধ্যে বিজেপি-তৃণমূল আঁতাঁতের অভিযোগ তুলে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের ডাকে যদুবাবুর বাজার মোড়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদের অভিযোগ, “ধর্মীয় বিভাজনের পরে এখন লক্ষ্য রাজনৈতিক মেরুকরণ। তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোট পালে টানতে ইডি ও সিবিআই-কে ব্যবহার করছে বিজেপি।” মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও বলেছেন, “মমতা প্রতীকের অফিস থেকে ফাইল নিয়ে ছুটলেন কেন? জবাব দিতে হবে।” সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, “সিবিআই, ইডির তদন্ত-তল্লাশির নামে ন্যাকামি অনেক হল! ১১ বছরে সারদা, ১০ বছরে নারদ কেলেঙ্কারির কী হল? চিত্রনাট্য দেখে মানুষ ক্লান্ত। শুধুই ভোটবাজির খেলা?”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)