প্রশাসকের হাতে চলে যাওয়া পুরসভায় ‘নজর’ রাখতে দলীয় স্তরে কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। স্থানীয় বিধায়ক, পুরসভার চেয়ারম্যান এবং দু’একজন গুরুত্বপূর্ণ দলীয় প্রতিনিধিকে রাখা হবে এই কমিটিতে। কোথাও প্রয়োজন হলে স্থানীয় সাংসদও থাকবেন এই কমিটিতে। নাগরিক জীবনে দৈনন্দিন প্রয়োজন সম্পর্কে প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে এই কমিটি।
রাজ্যের ১১টি মেয়াদ উত্তীর্ণ পুরসভাগুলির প্রশাসনিক কাজকর্ম প্রশাসকের হাতে চলে গিয়েছে। একই কারণে আরও কয়েকটি পুরসভায় প্রশাসক বসতে চলেছেন। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলির বিদায়ী পুরবোর্ডের হাতে আর কোনও ক্ষমতা থাকবে না। প্রশাসক হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকই হবেন সব সিদ্ধান্তের অধিকারী। সেক্ষেত্রে দলের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতেই এই কমিটি করার কথা ভেবেছে শাসকদল। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রশাসনিক কাজ হবে আইন মতো। কিন্তু দলেরও নাগরিক জীবনের সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব আছে। সেটাই করার কথা ভাবা হয়েছে।’’ দলের পুরবিষয়ক কাজের সঙ্গে যুক্ত এক নেতার কথায়, ‘‘ইতিমধ্যেই কিছু সমস্যা সামনে আসতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্যের মতো কয়েকটি বিভাগের কাজ প্রশাসনিক হাতে ছেড়ে দিলে মানুষকে ভুগতে হবে।’’
সূত্রের খবর, লোকসভা ভোটের আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ এই পুরসভাগুলির নির্বাচন নিয়ে সংশয়ে আছে শাসকদল। মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর নির্বাচন না হওয়ার একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা। আবার নির্বাচন হলে প্রার্থীপদ বন্টন, মনোনয়ন, নির্বাচনপর্ব নির্বিঘ্ন না হলেও দলকে সমস্যায় পড়তে হবে। সেই সঙ্গে প্রশাসক নিয়োগে দৈনন্দিন কাজকর্ম না হলে দায় তাদের উপরে আসবে বলেই মনে করছেন শাসক নেতারা। তৃণমূলের তরফে এই কমিটিকে ভারপ্রাপ্ত প্রশাসকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে বলা হচ্ছে।