২০১৩ সালে মঞ্চে অভিনয় করতে গিয়েই তাঁদের সম্পর্কের শুরু। অভিনেত্রী শ্বেতা ত্রিপাঠী এবং স্বামী চৈতন্য শর্মা—তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রেম, তার পরে বিয়ে। প্রায় ১৩ বছর পরে আবার একসঙ্গে মঞ্চে ফিরতে চলেছেন তাঁরা।
মঞ্চে আলাপ, তার পর ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। এই প্রথম তাঁরা মঞ্চে প্রেমিক-প্রেমিকার ভূমিকায় অভিনয় করবেন। নাটকে তাঁদের চরিত্রগুলো একটি সম্পর্কের শুরুর দিকের আবেগ, প্রথম ‘ডেট’ এবং ভালবাসার নতুন অনুভূতির মধ্য দিয়ে এগোবে।
মঞ্চে একসঙ্গে কাজের প্রসঙ্গ, প্রেমের শুরু নিয়ে শ্বেতা বলেন, “আমাদের প্রথম দেখা হওয়ার পর থেকেই একটা আলাদা যোগ অনুভব করেছিলাম। দিল্লি থেকে প্রথম শো করে ফেরার সময়ে, বিমানে পুরোটা পথ আমি শুধু হেসেই গিয়েছিলাম। তখনই বুঝেছিলাম, এই মানুষটাকে আমার জীবনে চাই।”
স্বামীর সঙ্গে শ্বেতা। ছবি: সংগৃহীত।
তিনি আরও জানান, নাটকের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তাঁর মনে পড়ে যাচ্ছে সম্পর্কের শুরুর দিনের কথা। শ্বেতার কথায়, “এখন আমাদের সম্পর্ক অনেক গভীর। তাই প্রথম ডেটের উত্তেজনা আর অনুভূতিগুলো যেন আবার খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”
নাটকের মহড়া প্রসঙ্গেও অনেক কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, দু’জনেই একে অন্যের সবচেয়ে বড় সমর্থক। অভিনয়, গল্প বলা, সঙ্গীত কিংবা সিনেমা—সব বিষয় নিয়েই তাঁদের আলোচনা চলে। শ্বেতা বলেন, “চৈতন্য খুব পরিশ্রমী ও শৃঙ্খলা মেনে চলা মানুষ। ওঁর সঙ্গে কাজ করতে করতে আমিও অনেক কিছু শিখেছি।”
মঞ্চে স্বামীর সঙ্গে কাজ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন পারস্পরিক আস্থা ও স্বস্তির জায়গাকে। তাঁর কথায়, “যখন আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষ সহ-অভিনেতা হন, তখন নির্ভয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায়। এখানে কোনও বিচার করার প্রশ্নই নেই, শুধু একে অন্যকে আরও ভাল করার চেষ্টা আছে।”
সিনেমা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একাধিক কাজ করলেও, থিয়েটার এখনও তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা বলেই জানিয়েছেন শ্বেতা। তিনি বলেন, “থিয়েটারের জন্যই আমি অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলাম। লাইভ পারফরম্যান্সের যে আলাদা শক্তি ও দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের আনন্দ আছে, সেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।”