রাজ্যসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কারণে মানুষের ‘হয়রানি’ নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তার বক্তৃতায় রাজ্যের পাশাপাশি ধরা দিল দেশ এবং দুনিয়া।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপক বক্তৃতা ছিল মঙ্গলবার। সেই বক্ততার শুরুতে ঋতব্রত তুলে ধরলেন পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য মানুষকে কতটা ‘হয়রান’ হতে হচ্ছে। ভারতরত্ন তথা নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে এসআইআর শুনানিতে ডাকা নিয়ে ঋতব্রত যখন সংসদে বলছেন, সেই সময় বিজেপির দিক থেকে বিপুল চিৎকার হতে থাকে। কিন্তু তা-ও নিজের কথা থামাননি তৃণমূল সাংসদ। এর পরেই তিনি জানান, রাজ্যে এসআইআরের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যে জীবিতকেও ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। কমিশনের খাতায় ‘মৃতেরা’ নয়াদিল্লিতে এসে কমিশনের সদর দফতরে পৌঁছে গিয়েছেন।
এর পরে রাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত চা-বাগানে শ্রমিকদের অবস্থা, চটকল শিল্পের ‘রুগ্ন দশা’, বন্দে ভারতে আমিষ নিষিদ্ধ হওয়া-সহ একাধিক বিষয় উত্থাপিত করেন তৃণমূল সাংসদ। রাজ্যের পরে তিনি চলে যান জাতীয় স্তরের বিষয়ে। অর্থনৈতিক অধোগতির প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে নোবেলজয়ী আর এক বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্ধৃত করেন তিনি। বলেন, ‘‘জিডিপি-তে কারসাজি করা গেলেও মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা যায় না।’’
বাংলাভাষী মুসলিমদের সম্পর্কে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার মন্তব্য নিয়ে সরব হন ঋতব্রত। কেন ‘বিশ্বগুরু’ মোদীর শাসনে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর আরও প্রশ্ন, গাজ়া ভূখণ্ড নিয়ে নয়াদিল্লি কেন নীরব। বক্তৃতায় একাধিক বার জওহরলাল নেহেরু, স্বামী বিবেকানন্দ-সহ বিভিন্ন মনীষীদের কথা উদ্ধৃত করে ভারতে বহুত্ববাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার শিকড়ের কথা উল্লেখ করেন। স্বভাবসিদ্ধ ঢঙেই বক্তৃতা শেষ করেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা দিয়ে।
আগামী এপ্রিলে ঋতব্রতের রাজ্যসভায় সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ। তাঁকে কি ফের সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে, না কি বিধানসভা নির্বাচনের কখা মাথায় রেখে রাজ্য রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে শাসকদলের অন্দরে।