আসন্ন বাজেট অধিবেশনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে ঝড় তুলতে চায় তৃণমূল। সেই ইঙ্গিত তারা দিয়ে রেখেছে মঙ্গলবার সর্বদল বৈঠকে। বাজেট অধিবেশনে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা চেয়েছে রাজ্যের শাসকদল, তা সমাজমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানান তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। তাতেই তিনি জানিয়েছেন, এসআইআর নিয়ে আসন্ন বাজেট অধিবেশন আলোচনা হোক বলে দাবি করা হয়েছে। এই নিয়ে তৃণমূলের পাশে রয়েছে বিজেপি-বিরোধী দলগুলি। এসআইআরের পাশাপাশি ভিবি-জি রাম জি নিয়েও আলোচনা চেয়েছে বিরোধীরা। যদিও অধিবেশন থেকে বেরিয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই দু’টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে না, কারণ তা নিয়ে আগেই আলোচনা হয়ে গিয়েছে।
বুধবার সংসদে শুরু হচ্ছে বাজেট অধিবেশন। তার আগের দিন, মঙ্গলবার সংসদ ভবনের কমিটি রুমে হয় সর্বদল বৈঠক। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সভাপতিত্বে হয় বৈঠক। ছিলেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। বৈঠকে যোগ দেন বিভিন্ন দলের লোকসভা, রাজ্যসভার সাংসদেরা। তৃণমূলের তরফে সর্বদলে যোগ দেন লোকসভায় উপদলনেতা শতাব্দী রায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা। সংসদ সূত্রের খবর, সেই সর্বদলেও সরকারকে নিশানা করে তোপ দেগেছে বিরোধী দলগুলি।
সাগরিকা এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘‘এসআইআর প্রক্রিয়া, বাংলার বকেয়া পাওনা, ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে ইডি, কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা এবং বিরোধীদের কথা শোনা ও তাদের কথা বলার সময় দেওয়ার দাবি তুলেছি আমরা। সংসদ একমুখী সড়ক নয়। সংসদ সরকারের বিজ্ঞপ্তি প্রদানের জন্য কোনও বোর্ডও নয়।’’
তৃণমূলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে অন্য বিরোধী দলগুলিও। বৈঠক থেকে বেরিয়ে কংগ্রেসের সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি জানান, বাজেট অধিবেশনে বিরোধীরা নিজের দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হবে। তিনি সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, ‘‘সংবিধান যা অধিকার দিয়েছে, এই সরকার তা ছিনিয়ে নিচ্ছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করে দিচ্ছে ওরা। সেই জায়গায় নিয়োগ করা হচ্ছে নির্দিষ্ট ভাবধারার কিছু মানুষকে। গণতন্ত্রের জন্য এটা হুঁশিয়ারি।’’ ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) সাংসদ ইটি মহম্মদ বশির বলেন, ‘‘সংসদ এখন পরিহাসের জায়গা হয়েছে। আমি দাবি করেছি, এসআইআর নিয়ে আলোচনা করতেই হবে।’’ আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংহ জানিয়েছেন, এসআইআর নিয়ে আসন্ন অধিবেশনে আলোচনা চেয়ে তিনিও সর্বদলে সরব হয়েছেন।
রিজিজু সর্বদল থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘‘যে আইন হয়েছে, তা সকলকে মানতে হবে। পিছনে চলে যাওয়া যাবে না।’’ এসআইআর নিয়ে আলোচনার দাবি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘‘গত অধিবেশনে সংসদের দুই কক্ষেই নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে কথা হয়েছে। সেখানে এই ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই নিয়ে আরও একটি বিতর্কের দাবি উঠলে তা অযাচিত।’’
১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশ করা হবে। অধিবেশনের প্রথম দফ ২৮ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। দ্বিতীয় দফা ৯ মার্চ শুরু হয়ে ২ এপ্রিল শেষ হবে। সংসদের অধিবেশনে কৌশল ঠিক করতে বুধবার সকাল ১০টায় রাজ্যসভার বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের কক্ষে বৈঠকে বসবেন বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা।