মুখ বদলে ফেরার রাস্তা চওড়া করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস।
আসন্ন বিধানসভা ভোটে দলের হাতে থাকা অন্তত ৭৫ আসনে মুখ বদলের সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। মূলত ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার জেরে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা মোকাবিলায় এই বদলের কথা ভাবছেন দলীয় নেতৃত্ব। দলীয় স্তরে একাধিক সমীক্ষার উপরে ভিত্তি করে এই প্রস্তাব নিয়ে দলের সর্বোচ্চ স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, কয়েকটি জেলার বকেয়া সমীক্ষা শেষ করার পরেই এই বদলের সংখ্যা চূড়ান্ত হবে।
শাসক শিবিরের অন্দরের একটি সূত্রের বক্তব্য, সরাসরি আর্থিক সাহায্য বা স্থানীয় স্তরে পরিকাঠামোগত উন্নতির পরেও একেবারে নিশ্চিন্ত থাকার মতো অবস্থা নেই। বরং, তিন বারের সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার হাওয়ার সামনে মুখ বদলের পথই নিতে হচ্ছে তৃণমূলকে। এখনও পর্যন্ত দলের তরফে আসনভিত্তিক যে পর্যালোচনা হয়েছে, তাতে নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা নেই— এই দু’ভাগে হাতে থাকা ২২০টি আসনকে আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোন কেন্দ্রে বিধায়ক বা দলের স্থানীয় নেতৃত্বের কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তারও সবিস্তার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরামর্শদাতা সংস্থা ছাড়াও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর নানা কোণ থেকে এই সমীক্ষার পরে এই বদলের বিষয়টি চূড়ান্ত করার কাজে হাত দিয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এ বারও নিজের যোগাযোগে তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করেছেন তৃণমূল নেত্রী নিজেও।
মুখ বদলের এই পরিকল্পনায় দলনেত্রীর অনুমোদন মিললে তৃণমূলের শক্ত মাটি দুই ২৪ পরগনা ও কলকাতাতেও বড় ছাপ পড়বে। এই তিন জেলায় এক দফায় সমীক্ষা হয়ে গেলেও চূড়ান্ত স্তরে পর্যালোচনা চলছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুই ২৪ পরগনার মোট ৬৪টি আসনের জন্য অন্তত এক ডজন নতুন মুখের কথা ভাবা হচ্ছে। কলকাতারও বেশ কয়েকটি আসনে বদলের প্রয়োজন দেখছেন দলীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি, এই তিন জেলা ছাড়াও রাজ্যের কয়েকটি জেলায় বিজয়ী বিধায়কদের জন্য আসন বদলের প্রস্তাব রয়েছে দলের কাছে। বিজয়ীদের অনেকেও দলের কাছে আসন বদলের আর্জি জানিয়েছেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার (এসআইআর) প্রেক্ষিতে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন তাঁরা। গত নির্বাচনে হেরে যাওয়া আসনের মনোনয়নেও বড় রকমের বদল হচ্ছে এ বার।
বয়স নিয়ে সংগঠন ও নির্বাচনী রাজনীতিতে আগেই নিজের মত স্পষ্ট করেছিলেন অভিষেক। গত লোকসভা ভোটের আগে তা নিয়ে দলের মধ্যে যথেষ্ট টানাটানির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এ বারও বয়সের কারণে কিছু কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের প্রস্তাব থাকলেও মনোনয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কাজকর্মকে। দল যে হিসেব করেছে, তাতে এই মুহূর্তে সত্তরোর্ধ্ব মন্ত্রী-বিধায়কের সংখ্যা প্রায় ৬০। কয়েক জনের বয়স আরও একটু বেশি। আবার এই তালিকায় এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা যথেষ্ট কর্মক্ষম। সে ক্ষেত্রে বয়স বিবেচনায় থাকলেও কর্মক্ষমতা বা গত পাঁচ বছরের ‘কর্মদক্ষতা’ দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় সরকারি প্রকল্প রূপায়ণে ভূমিকা এবং বিধানসভার অধিবেশনে সক্রিয়তাও যাচাই করা হয়েছে। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘প্রস্তাব আছে। কিন্তু সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন সাপেক্ষ।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)