আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নন্দীগ্রামে সমবায় নির্বাচনে বড় সাফল্য পেল তৃণমূল। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের আমদাবাদ সমবায় সমিতির ভোটে বিজেপি-কে সবক’টি আসনে হারিয়ে ১২-০ ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন শাসকদলের প্রার্থীরা। রাজ্য বিজেপি-র অন্যতম মুখ তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে তৃণমূলের এই জয়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। আর তৃণমূল এই জয়ের কৃতিত্ব দিচ্ছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। গত বৃহস্পতিবার তিনি নন্দীগ্রামে গিয়ে সেবাশ্রয় প্রকল্পের সূচনা করে আসাতেই এমন ফল হয়েছে বলেই দাবি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের।
আরও পড়ুন:
রবিবার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর ফলপ্রকাশে দেখা যায়, সমবায় বোর্ডের সমস্ত পদেই তৃণমূলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মানুষের উন্নয়নমূলক কাজ এবং সাম্প্রতিক সামাজিক পরিষেবা কর্মসূচির প্রভাবেই এই ফল সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিকে এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসাবে তুলে ধরছেন জেলা নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, সেবাশ্রয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ, প্রশাসনিক পরিষেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা গ্রামস্তরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। তার ফলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে শাসকদলের প্রতি আস্থা বেড়েছে। নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে এই কর্মসূচির বড় ভূমিকা রয়েছে বলেই দাবি তৃণমূলের। তাই সেই প্রকল্প মারফত আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী দলনেতাকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারবেন তাঁরা।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা পটাশপুরের তৃণমূল বিধায়ক উত্তম বারিক বলেন, “নন্দীগ্রামের সমবায় নির্বাচনের ফল বলে দিচ্ছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় প্রকল্প ম্যাজিক দেখাতে শুরু করেছে। আমরা আশা করব, এই সমবায় নির্বাচনের ফলের মতোই আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম আসন জিতে তাঁকে ও দলনেত্রীকে উপহার দিতে পারব।’’ জবাবে বিজেপি-র তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি বলেন, “নন্দীগ্রাম বিধানসভায় গত এক বছরে প্রায় ৭০টি সমবায়ের নির্বাচন হয়েছে। তার ৯৫ শতাংশ আসনেই আমরা জয় পেয়েছি। এটাও ঠিক যে তৃণমূল ২-৩টি সমবায় নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। সেই পর্যায়েই আমদাবাদ সমবায় সমিতির ভোটে ওরা জিতেছে।” তিনি আরও বলেন, “সমবায় নির্বাচনের জয় যদি অভিষেকের সেবাশ্রয় প্রকল্পের ফল হয়ে থাকে, তা হলে আমরা বলব আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুবাবুর বিরুদ্ধে অভিষেক বা তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী যেন প্রার্থী হন। ২০২১ সালের মতোই আবার নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়ে দেবেন।’’