E-Paper

বিহারে পাচার হওয়া সার্কাসের হাতির মৃত্যু, নিশানায় বন দফতর

নটরাজ সার্কাসের তাঁবুতে নির্যাতনের পরে বিহারে বেআইনি ভাবে হাতিগুলি পাচার হয়ে গিয়েছিল বলে আদালত জানতে পারে। তিনটি হাতি হল, ভোলা, বাসন্তী এবং সুমন। এদের মধ্যে ৩৫ বছরের সুমন বিহারের সিওয়ানের মেলায় মারা গিয়েছে।

ঋজু বসু

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৪

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বার বার হাই কোর্টের নির্দেশের পরেও বেআইনি ভাবে বিহারে পাচার এ রাজ্যে সার্কাসের কয়েকটি হাতিকে পশ্চিমবঙ্গে ফেরানো যায়নি। শনিবার সিওয়ানের একটি মেলায় একটি হাতি মারা গিয়েছে বলে বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। এ রাজ্যের বন দফতরের গা-ছাড়া ভাবে ক্ষুব্ধ পশু অধিকার রক্ষা কর্মীরা।

নটরাজ সার্কাসের তাঁবুতে নির্যাতনের পরে বিহারে বেআইনি ভাবে হাতিগুলি পাচার হয়ে গিয়েছিল বলে আদালত জানতে পারে। তিনটি হাতি হল, ভোলা, বাসন্তী এবং সুমন। এদের মধ্যে ৩৫ বছরের সুমন বিহারের সিওয়ানের মেলায় মারা গিয়েছে। বছর দশেক আগে উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ থেকে হাতিগুলিকে বিহারে পাচার করা যায়। এর আগেও নটরাজ সার্কাসে ধারাবাহিক ভাবে হাতিদের অযত্নের অভিযোগ এসেছিল। নটরাজের একটি মাহুত হাতির আক্রমণে মারাও যায়।

২০১৯-এর ১৯ জুন নটরাজ সার্কাসের তিনটি হাতিকে এ রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে নির্দেশও দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। কিন্তু বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার এবং বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের সেই নির্দেশ এত বছরেও কার্যকর করা যায়নি। উল্টে, বিহারের গোপালগঞ্জের একটি আশ্রমে হাতিগুলিকে বেআইনি ভাবে নানা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আদালতে জানিয়েছেন সমাজকর্মীরা। বন দফতরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাও করা হয়। গোপালগঞ্জের আশ্রমের মোহান্ত সতদেও দাস সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন। কিন্তু শীর্ষ আদালত কলকাতা হাই কোর্টকেই বিষয়টি শুনতে বলে।

শেষ বার ২৩ জুন ২০২৫ হাই কোর্টের বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় এবং বিচারপতি রবি কৃষ্ণ কপূর তিনটি হাতিকে ফেরাতে বলেন। কিন্তু এর পরেও বন দফতর নড়ে বসেনি বলে অভিযোগ। রাজ্যের মুখ্য বন সংরক্ষক রাজেশ কুমারের কাছে এ বিষয়ে সদুত্তর মেলেনি। তবে তিনি নিজে হাই কোর্টের নির্দেশে হাতিগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখতে বিহারের গোপালগঞ্জের দানসির দরিয়া আশ্রমে গিয়েছিলেন। রবিবার রাজেশ কুমার শুধু বলেন, ‘‘হাতিটির মৃত্যুর খবর ফোনে পেয়েছি। সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।’’ যদিওমৃত হাতিটির ময়না তদন্তও হয়ে গিয়েছে বলে বিহারের বন দফতরসূত্রে খবর।

দশ বছরেরও বেশি হাতিগুলির সুরক্ষায় লড়াই করছেন অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সদস্য তথা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী রাধিকা বসু। এর আগে অন্য সার্কাসের আরও দু’টি হাতিও উত্তরপ্রদেশে চোরাপথে বিক্রি হয় বলে অভিযোগ। হাই কোর্টের মামলার ভিত্তিতে এ রাজ্যের সার্কাসের কিছু হাতি গরুমারায় এবং গুজরাতের জামনগরে পুনর্বাসন পেয়েছে। রাধিকা বলেন, ‘‘বাকি হাতিগুলিকে ফেরাতে কলকাতা ও পটনা হাই কোর্টে যাব। বন দফতর তৎপর হলে হাতিটিকেবাঁচানো যেত।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Elephant Bihar Forest Departemnt

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy