Advertisement
E-Paper

দুই ছেলে বেকসুর, উল্লাসে পাড়-খড়িবাড়ি

টিভিতে ভেসে উঠেছে খবরটা। কামদুনি ধর্ষণকাণ্ডে বেকসুর খালাস রফিকুল গাজি ও নুর আলি। শুনেই গোটা গ্রাম যেন ভেঙে পড়ল রাস্তায়। শুরু হল উল্লাস।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:২২
আনন্দ আর দুঃখের কান্না। রফিকুলের মা ও আমিনের ছেলে। বৃহস্পতিবার পাড়-খড়িবাড়ি গ্রামে। — নিজস্ব চিত্র।

আনন্দ আর দুঃখের কান্না। রফিকুলের মা ও আমিনের ছেলে। বৃহস্পতিবার পাড়-খড়িবাড়ি গ্রামে। — নিজস্ব চিত্র।

টিভিতে ভেসে উঠেছে খবরটা। কামদুনি ধর্ষণকাণ্ডে বেকসুর খালাস রফিকুল গাজি ও নুর আলি। শুনেই গোটা গ্রাম যেন ভেঙে পড়ল রাস্তায়। শুরু হল উল্লাস।

কামদুনি থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরের গ্রামটির নাম পাড়-খড়িবাড়ি। বেকসুর খালাস পাওয়া রফিকুল আর নুর এখানকারই বাসিন্দা। দোষী সাব্যস্ত আমিন আলিও এই গ্রামেরই। তারও বেকসুর খালাস হওয়া উচিত ছিল বলে দাবি উল্লাসকারীদের। বস্তুত, এখানকার অনেকেই মনে করেন, শুধু তৃণমূল করার অপরাধেই গ্রামের ছেলেদের মামলায় জড়ানো

হয়েছে। ঘোমটা দেওয়া অল্পবয়সি বউটিও ঝাঁঝিয়ে উঠছেন, ‘‘এই জমানায় কে তৃণমূল নয়, বলুন দেখি! ও সব বাজে কথা না বলে বিনা দোষে আটক মানুষগুলোর আড়াইটা বছর ফেরত দিক কামদুনির প্রতিবাদীরা। মানুষ বুঝুক, কতটা লোকদেখানো ওদের আন্দোলন।’’

Advertisement

আগে কখনও প্রচারে আসেনি কীর্তিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এই গ্রাম। পরিচয় দিতে বরং খানিকটা গুটিয়েই যেতেন বাসিন্দারা। এ দিনটা তাঁদের কাছে অনেকটা রাহুমুক্তির মতো। রায় শোনামাত্র এত দিনের পুষে রাখা বিদ্বেষ উগরে দিচ্ছিল পাড়-খড়িবাড়ি— ‘‘সবাই কামদুনি নিয়ে নেচেছে, সব সুবিধা ওরা পেয়েছে। আমরা কিচ্ছু পাইনি। তবে উপরওয়ালা আছেন। নির্দোষরা বিচার পেল। দেখলেন তো, কামদুনি আন্দোলনের এখন এমন হাল যে টুম্পা-মৌসুমীদের সঙ্গে গ্রামের কেউ আদালতে গেলই না!’’

কিন্তু তৃণমূল সমর্থক হওয়ার জন্যই রফিকুল-নুরের বিরুদ্ধে তদন্ত ঠিকমতো করেনি পুলিশ— এখন তো এমন আলোচনাই শুরু হয়েছে? ভিড়টা প্রায় গর্জে উঠল, ‘‘হ্যাঁ আমরা তৃণমূল, লিখে দিন। আমরা গরিব। যে দল ক্ষমতায় আসে আমাদের সেই দলের হতে হবে। না হলে বাঁচতে পারব না। এর সঙ্গে খালাস পাওয়ার সম্পর্ক নেই। সব কামদুনির লোকদের রটনা। তৃণমূল করার জন্য খালাস পেলে, আগেই পেত। আড়াই বছর জেল খাটল কেন?’’

এই সময় রে-রে করে ছুটে এসেছেন কয়েক জন— ‘‘কেউ কথা বলবে না, মিডিয়ার লোককে ছবি তুলতে দেবে না। যা বলার পার্টির প্রধান বলবেন।’’ নুরের ভাঙাচোরা বাড়ির সামনে সাংবাদিক-আলোকচিত্রীদের ঘিরে দাঁড়ালেন তাঁরা। এ বার দোহারা চেহারার মাঝবয়সি এক জন এসে হাতজোড় করে বললেন, ‘‘আজ আমাদের অতি আনন্দের দিন। নির্দোষ ছেলেগুলো মুক্তি পেয়েছে।’’ তিনি কে জানতে চাইলে বললেন, ‘‘আমার নাম মহম্মদ হায়দার আলি। এখানকার তৃণমূলের ২ নম্বর অ়ঞ্চল কমিটির সদস্য। নুর-রফিকুল দু’জনেই তৃণমূল সদস্য, এটা ঠিক। কিন্তু দল করার জন্য নয়, দোষ করেননি বলেই ওঁরা ছাড় পেলেন। কামদুনি ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে ওঁদের ফাঁসিয়েছিল।’’ হায়দারের দাবি, নির্দোষদের ছাড়াতে কামদুনির পাল্টা আন্দোলনের কথা ভাবেন তাঁরাও। নেতাদের নিষেধে তা হয়নি।

দোষী আমিন আলির পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়েছেন এলাকার তৃণমূল নেতারা। হায়দার আলি বলেন, ‘‘আমিনের কোনও দোষ নেই।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy