৭ ডিসেম্বর রাতেই উলেন রায়ের দেহ আনা হয়েছিল উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের মর্গে। সেই রাতেই ময়না-তদন্ত করা হয়। তার পর থেকে আইন আদালতের মধ্যে পরে চার দিন কেটে গিয়েছে। এখনও দেহ রয়ে গিয়েছে একই জায়গায়। চার দিন ধরে উলেনের আত্মীয়রা অপেক্ষা করে থাকছেন মর্গের বাইরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেহ নিয়ে যাওয়ার রায় বার হচ্ছে না। শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলা জজ দ্বিতীয় বার ময়না-তদন্তের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সিজেএম আদালতকে ফের শুনানি চালাতে বলেছেন। এই পরিস্থিতি হাইকোর্টে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে বিজেপি।
ফলে শেষ পর্যন্ত সব মিটে দেহ কবে হাতে পাবেন আত্মীয়রা, তা এখনও কেউ বলতে পারছেন না। শুক্রবারও দিনভর হাসপাতালে ছিলেন আত্মীয়রা।
অন্য দিকে, দিনভর আদালত চত্বরে বসেছিলেন উলেনের দিদি শান্তিবালাদেবী। সেখানেও দৃশ্যত ক্লান্ত পরিজনেরা। শান্তিবালাদেবী বলেন, ‘‘ভাইটা মারা গিয়েছে চার দিন হল। মরা মুখটাও আর দেখার যো নেই। কবে যে দেহ হাতে পাব আর অন্ত্যেষ্টি করতে পারব, তা বলা মুশকিল।’’ এ দিন মর্গের সামনে এক জন বলেন, ‘‘এ ভাবে একটা মৃত মানুষকে নিয়ে অনেক দিন ধরেই টানাটানি চলছে। তা আর কত দিন চলবে বুঝতে পারছি না। তবে তা রাজনৈতিক কারণেই করা হচ্ছে।’’
এ দিন জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের রায়ের পরে দেহের সৎকারের ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলেন উলেনের নিকট আত্মীয়রা। তাঁদের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে আসা একজন বলেন, ‘‘দেখা যাক এখন নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেন। তবে এ ভাবে কত দিন দেহ ফিরে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকতে হবে, তাই এখন চিন্তার।’’
এ দিন জেলা আদালতের রায়ের পরে বিজেপি নেতারাও কিছুটা ধন্দে ছিলেন উলেনের পরিজনদের মত নিয়ে। তাই রায় জানার পরেই তাঁরা পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। ঠিক এই ভাবে ৮ তারিখ সকালে উলেনের স্ত্রী মালতীদেবী ও পরিবারের অন্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় বসেছিলেন রাজু বিস্তারা। সে দিনও পরে মালতীদেবী বলেন, ‘‘যে চলে গিয়েছে, সে কী আর ফিরে আসবে!’’ কিন্তু দল এগিয়ে আসায় তিনি আপত্তি তোলেননি। এ দিনও আলোচনায় ঠিক হয়, হাইকোর্টেই যাওয়া হবে।