বিধানসভার চারটি নির্বাচিত কমিটিতে মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি শাসক ও বিরোধী— দুই পক্ষই। ফলে বিধানসভা সচিবালয়ের তরফে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি) এবং অন্য তিনটি কমিটিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ২১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই চার কমিটিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ৩০ জুন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও পক্ষই মনোনয়ন দাখিল করতে পারেনি। তাই বুধবার বিধানসভা সচিবালয় নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ২১ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। ২২ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই (স্ক্রুটিনি), ২৩ জুলাই মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ২৫ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যদিও বাস্তবে এই চার কমিটিতে সাধারণত ভোটাভুটি হয় না। যদি না কোনও অতিরিক্ত মনোনয়ন জমা পড়ে। শাসক ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে শাসকপক্ষের ১৪ জন এবং বিরোধী পক্ষের ৬ জন বিধায়ক মনোনয়ন জমা দেন। পরে তাঁদের থেকেই বিরোধী দলের একজন সদস্যকে কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেন স্পিকার। পিএসি ছাড়াও কমিটি অন পাবলিক আন্ডারটেকিংস, এস্টিমেট কমিটি এবং লোকাল ফান্ড কমিটি-র ক্ষেত্রেও মনোনয়নের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচন করা হয়।
অন্যদিকে, স্থায়ী ও অন্যান্য বিধানসভা কমিটি মিলিয়ে বাকি ৩৭টি কমিটিতে আলাদা করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ওই কমিটিগুলিতে ২৫০ জন বিধায়কের মধ্যে সদস্যপদ বণ্টন করা হয়। তবে মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিরোধী দলনেতা এবং শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের মুখ্য সচেতককে এই বণ্টনের বাইরে রাখা হয়।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, সদ্যসমাপ্ত বাজেট অধিবেশনে নতুন সরকারের বাজেট এবং বিধানসভায় অল্প সময়ের কাজের হিসাব-নিকাশ তুলে ধরতেই শাসকপক্ষ ব্যস্ত ছিল। অন্যদিকে, বিজেপি পরিষদীয় দলের পক্ষেও প্রয়োজনীয় বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে চারটি কমিটির কোনওটিতেই মনোনয়ন জমা দেওয়া যায়নি। ১৭ জুলাই বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলে বিজেপি বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে মনোনয়ন জমা দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রতিটি কমিটিতে বিজেপির পক্ষ থেকে ১৪ জন বিধায়কের মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা।
দ্বিখণ্ডিত তৃণমূল পরিষদীয় দলের অন্দরের পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত আইনি ও সাংগঠনিক লড়াই নিয়েই ব্যস্ত। ফলে তাঁদের পক্ষেও সময়মতো মনোনয়ন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের এক বিধায়কের। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে থাকা তৃণমূলের অপর অংশও এখনও মনোনয়ন নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বলে সূত্রের দাবি। তৃণমূল পরিষদীয় দল বাস্তবে দ্বিখণ্ডিত হলেও বিধানসভা সচিবালয়ের নথিতে এখনও সেটি একটিই পরিষদীয় দল হিসেবে স্বীকৃত। ফলে দুই শিবির পৃথক ভাবে মনোনয়ন দিলে তা গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে তৃণমূলের দুই শিবির। আর সেই কারণেই বিজেপি ও তৃণমূল— উভয় পক্ষের বিলম্বে বিধানসভার ওই চার নির্বাচিত কমিটির মনোনয়ন প্রক্রিয়াও পিছিয়ে গেল।