E-Paper

জমিনীতিতে সতর্ক সরকার, হচ্ছে তালিকা

বড় শিল্পের জন্য প্রয়োজন হয় একলপ্তে অনেকটা জমি। দরকার থাকে জরুরি রেল-সড়ক, জল, বিদ্যুতের মতো শিল্প-সহায়ক পরিকাঠামো।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ০৯:০১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যে ১৫ বছর আগে বাম সরকারের পতনের নেপথ্যে জমি ছিল অন্যতম অনুঘটক। আবার তৃণমূল সরকারের আমলে উল্লেখযোগ্য শিল্প-বিনিয়োগ না আসার পিছনে এই জমিনীতিই হয়ে উঠেছিল অন্তরায়। বিজেপি সরকার এই জমিনীতিতেই সাবধানী অথচ ইতিবাচক বদল আনার ইঙ্গিত দিল। সব জেলা প্রশাসনের উদ্দেশে নবান্নের শীর্ষমহলের বার্তা—শিল্প এবং তার সহায়ক পরিকাঠামোকে নজরে রেখে জমির নিবিড় তথ্য তৈরি করতে হবে অবিলম্বে। সূত্রের দাবি, তাতে সরকারি সব ফাঁকা জমির তথ্য যেমন থাকবে, তেমনই তৈরি করতে হবে জবরদখল হয়ে থাকা সরকারি জমির তালিকা। যে শিল্প সংস্থাগুলিকে বিগত সরকার জমি দিয়েছিল, অথচ তা পড়ে আছে বছরের পর বছর, তালিকাভুক্ত হবে সেগুলিও।

বড় শিল্পের জন্য প্রয়োজন হয় একলপ্তে অনেকটা জমি। দরকার থাকে জরুরি রেল-সড়ক, জল, বিদ্যুতের মতো শিল্প-সহায়ক পরিকাঠামো। প্রশাসনের প্রাথমিক সমীক্ষা, গোটা রাজ্যে সরকারের হাতেই বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে, যা এমন কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। তবে বেশিরভাগ তেমন জমিতে রয়েছে জবরদখল। বিগত সরকারের আমলে হওয়া নানা প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক বার এই সমস্যা সামনে এলেও, জমিগুলি দখলমুক্ত করার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাই সে সময়ে যে জমি-ব্যাঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তাতে বিক্ষিপ্ত ভাবে টুকরো টুকরো জমির তথ্যই জায়গা পেয়েছিল। ফলে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের লক্ষ্যে কোনও শিল্প সংস্থা বেশি পরিমাণ জমি চাইলেও, তা একলপ্তে দেওয়া যায়নি। প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, এখন সরকারের স্পষ্ট অবস্থান—জোরজবরদস্তি, বলপ্রয়োগ করে জমি অধিগ্রহণ হবে না। তবে সরকারের দখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধার হবে। তার সঙ্গে আশেপাশে থাকা অন্য সরকারি জমিগুলি যুক্ত হবে। অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হলে, মালিকের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তা কিনে নেওয়ার চেষ্টা হবে শিল্পের স্বার্থে। জেলা-কর্তাদের পাশাপাশি, সব দফতরকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি। আবার, অনেক ধরনের শিল্প সংস্থা সরকারের থেকে জমি নিয়েও, তারা বছরের পর বছর ধরে তা ফেলে রেখেছে। সেই জমিগুলিও নজরে রাখা হচ্ছে। কোনও সংস্থা এখন সেখানে শিল্প গড়তে আগ্রহী থাকলে সমস্যা নেই। তবে পরিকল্পনাহীন ভাবে জমি যে ফেলে রাখা যাবে না, তা একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।

এক কর্তার কথায়, “অতীতে নানা প্রকল্পের ক্ষেত্রে জবরদখল হয়ে থাকা রেলের জমি পুনরুদ্ধার করা যায়নি তখনকার শাসক দল তৃণমূলের বাধায়। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। ফলে রেল, সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা যাচ্ছে সহজে। একই পদক্ষেপ হবে শিল্পের জমির প্রশ্নেও।” তাঁর দাবি, “প্রকল্প এলাকায় সম্পত্তির দাম যেমন বেড়ে যায়, তেমনই খুলে যায় তাকে ঘিরে আয়ের বিকল্প অনেক রাস্তা। তাই শিল্প এবং আর্থিক বৃদ্ধির স্বার্থেই সঠিক জমিনীতি দরকার।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nabanna Suvendu Adhikari

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy