আগামী মার্চ মাসের মধ্যে স্কুলগুলিকে উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় সিমেস্টার নিতে বলেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। কিন্তু কোন সময়ের আগে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না, তা বলেনি তারা। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্কুল নিজের মতো করে পরীক্ষায় সময় বেছেছে। কেউ স্থির করেছে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই পরীক্ষা হবে, কেউ বলেছে ফেব্রুয়ারি প্রথম সপ্তাহে। কেউ আবার মার্চের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে পরীক্ষা নেবে বলেছে। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, আলাদা আলাদা স্কুলে ভিন্ন সময়ে পরীক্ষা হওয়ায় মূল্যায়নে বৈষম্য আসতে পারে। সংসদকে পরীক্ষার নির্দিষ্ট রুটিন করে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলছেন, “সমস্যা হচ্ছে শুনেছি। শুধু তৃতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টারের রুটিন সংসদ করে। এই শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় সিমেস্টারের রুটিন করা সংসদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, অনেক স্কুল রুটিন করে ফেলেছে। পরের শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় সিমেস্টারের রুটিন করার পরিকল্পনা আছে।”
প্রসঙ্গত, নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক চারটি সিমেস্টারে বিভক্ত। প্রথম সিমেস্টার সেপ্টেম্বরে, দ্বিতীয় সিমেস্টার মার্চে, তৃতীয় সিমেস্টার ফের সেপ্টেম্বরে এবং চতুর্থ সিমেস্টার পরের বছর ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টার মিলিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের মূল্যায়ন হয়।
ডোমজুড়ের কেশবপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর দাস জানান, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক শুরু হচ্ছে। যে সব স্কুলে মাধ্যমিকের সিট পড়েছে সেখানে জানুয়ারির শেষেই দ্বিতীয় সিমেস্টার হচ্ছে। যে সব স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সিমেস্টারের সিট পড়েছে সেখানে মার্চে পরীক্ষা হচ্ছে। যে সব স্কুলে জানুয়ারির শেষে পরীক্ষা হচ্ছে তাদের পড়ুয়াদের অভিযোগ, পাঠ্যক্রম শেষ না-হতেই পরীক্ষা চলে আসছে। যে সব স্কুলে মার্চে পরীক্ষা হচ্ছে তাদের অভিযোগ, তৃতীয় সিমেস্টারের জন্য পড়ার সময়কম পাচ্ছে পড়ুয়ারা।
দীপঙ্কর বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় সিমেস্টার মিলে একাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রম। পরীক্ষার নির্দিষ্ট সূচি না থাকায় পুরো পাঠ্যক্রম পড়ানো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির রুটিন পুরোপুরি না বলে দিলেও কোন মাসের কত তারিখ থেকে কত তারিখের মধ্যে নিতে হবে, তা বলে দেয়। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মতো প্রথম ও দ্বিতীয় সিমেস্টার নির্দিষ্ট করে কোন সময়ে নিতে হবে তা বলে দিলে স্কুলগুলোর সুবিধা হয়।”
অভিভাবকদের একাংশের দাবি, বিভিন্ন স্কুলে বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা হওয়ায় ছেলেমেয়েদের প্রাইভেট টিউশনে অসুবিধা হচ্ছে। এক অভিভাবক বলেন, “আমার ছেলে যে কোচিং ক্লাসে পড়ে সেখানে বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়ারা পড়ে। আমার ছেলের দ্বিতীয় সিমেস্টার জানুয়ারির শেষে শুরু হচ্ছে। ওই কোচিং ক্লাসের অন্য পড়ুয়াদের পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শেষে। কোচিং ক্লাসে দ্বিতীয় সিমেস্টারের পড়া শেষ হতে এখনও অনেক বাকি। স্কুলেও তাড়াহুড়ো করে দ্বিতীয় সিমেস্টারের পাঠ্যক্রম শেষ করে দিয়েছে। ছেলেকে ভাল করে প্রস্তুতি না নিয়েই দ্বিতীয় সিমেস্টারেবসতে হচ্ছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)