E-Paper

ক্ষোভের চার্জশিট, প্রস্তুতি বিজেপির

রাজ্যে ভারী শিল্প, দুগ্ধজাত পণ্যের শিল্প, সড়ক, মহিলা কলেজ তৈরি, পরিবহণের কী কী উন্নতি হতে পারে, এই সব সামনে আনা হবে।

বিপ্রর্ষি চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণের পাশাপাশি রাজ্যে উন্নয়নের বার্তাও দিয়েছিলেন। সূত্রের দাবি, এই ধারাতেই প্রচারে জোর দেওয়ার জন্য রাজ্য বিজেপিকে পরামর্শও দিয়েছিলেন মোদী। ‘প্রচার-ভাষ্যে’র এই সূত্র ধরেই হিন্দুত্বের পাশাপাশি বিধানসভা ভিত্তিক তৃণমূলের ‘অপশাসন’, মানুষের না-পাওয়ার বিষয়গুলি নিয়ে ‘চার্জশিট’ তৈরি করে তা নিয়ে সমাজের একেবারে নিচুতলায় প্রচার করতে চাইছে রাজ্য বিজেপি। পাশাপাশি, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কী কী ইতিবাচক বদল হতে পারে, সেই সংক্রান্ত প্রচারেও জোর দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

বিজেপি সূত্রে খবর, ভিন্-রাজ্য থেকে আসা শতাধিক নেতা পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে স্থানীয় কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, মঠ, আশ্রম, পেশাদারদের সহায়তায় ছ’মাস ধরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ক্ষোভ, চাহিদা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এর ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে চার্জশিট। এই চার্জশিট আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্যের সব বিধানসভা কেন্দ্রে বাড়ি-বাড়ি পৌঁছনো ও সমাজমাধ্যমে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে দলের। যেমন, খড়দহ বিধানসভার ‘চার্জশিটে’ রয়েছে সেখানকার বেহাল নিকাশি, বন্দিপুর এলাকায় ২০০ বস্তা ছাই মেশানো মাটি ফেলার জেরে পরিবেশগত সমস্যা, পুকুর ভরাট, রেল উড়ালপুল না-হওয়া, এক মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত নানা কথা।

এর সঙ্গেই বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কী কী বদল হবে, সেই পরিকল্পনার প্রচারেও জোর দিচ্ছেন নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যে ভারী শিল্প, দুগ্ধজাত পণ্যের শিল্প, সড়ক, মহিলা কলেজ তৈরি, পরিবহণের কী কী উন্নতি হতে পারে, এই সব সামনে আনা হবে। পাশাপাশি, নেওয়া হয়েছে ‘পোস্টার বয়’ প্রকল্প। এর অংশ হিসেবে এলাকা-ভিত্তিক তৃণমূলের যে সব নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ছবি ও ‘কর্মকাণ্ড’ পোস্টারের আকারে এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। বিজেপির এক নেতার বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২৯৪টি কেন্দ্রে তিনিই প্রার্থী। অনেকে ভাবেন, এলাকার তৃণমূলের লোকটা খারাপ, কিন্তু দিদি ভাল। কিন্তু আমরা ভোটারকে বলব, আপনার ভোটের উপরে নির্ভর করছে ওই ‘খারাপ লোকটা’র জয়-পরাজয়।”

দলের এই প্রচার-কৌশল সম্পর্কে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, “বাংলাদেশে হিন্দু-নির্যাতন পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালিকে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু শুধু হিন্দুত্ব দিয়ে সমাজের নিচুতলা পর্যন্ত পৌঁছনো যাবে না। তাই স্থানীয় বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে।” সেই সঙ্গে, বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের বিশ্লেষণ, ২০২১-এর ভোটে তাঁদের পক্ষে হাওয়া থাকলেও, সমাজের একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত প্রভাব ছিল না। এ বার নজর দেওয়া হচ্ছে সমাজের একেবারে গোড়ায়।

বিজেপির এই প্রচার-কৌশলকে অবশ্য আমল দেয়নি তৃণমূল। রাজ্যে মেয়েদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি, ‘কন্যাশ্রী’র মতো প্রকল্প, শিল্পে বিভিন্ন বিনিয়োগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, “মানুষ ওই চার্জশিট খুলেও দেখবেন না। এই ১৫ বছরের ইতিহাস, উন্নয়নের ইতিহাস। কোনও দেশেই মানুষের ১০০% চাহিদা পূরণ হয় না। অগ্রগতি হচ্ছে কি না, সেটা বিবেচ্য। বছরে দু’কোটি চাকরি, বাংলাকে বঞ্চনা প্রসঙ্গে বিজেপি কী বলবে?”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP West Bengal Assembly Election 2026

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy