পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের বোসের ইস্তফা সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগের খবরে আমি স্তম্ভিত এবং গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন।’
এর পরেই বোসের ইস্তফার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে তাঁর (বোস) পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন তবে আমি অবাক হব না।’
সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তিতে আঘাত করে। কেন্দ্রকে সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতিগুলিকে সম্মান করতে হবে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মানতে হবে এবং রাজ্যগুলির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে শ্রী আরএন রবিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু প্রচলিত নীতি মেনে তিনি এ বিষয়ে আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি।’
আরও পড়ুন:
মমতা সরাসরি এর বেশি কিছু না বললেও তাঁর দল তৃণমূলের তরফে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করা হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা এবং সময়মতো বিধানসভা ভোট করানোর বিষয়ে অমিত শাহের উদ্যোগে সায় না-দেওয়ার কারণেই কি সরে যেতে হল রাজ্যপাল বোসকে? ওঁর উপরে কি কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপি চাপ সৃষ্টি করেছিল।’’ চন্দ্রিমার অভিযোগ, ‘‘এপ্রিলে রাজ্যে বিধানসভা ভোট রয়েছে। তার এক মাস আগে তারা রাজ্যপালকে পদত্যাগ করাচ্ছে। কারণ, বিজেপি চায় না যে, সময়মতো নির্বাচন হোক।’’ এসআইআর পর্বে পূর্ণাঙ্গ এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সময়মতো প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে, বোসের ইস্তফা প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানান, অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ বলে তিনি জানতে পেরেছেন।