E-Paper

চালু ‘মা আহার’, তবে আসেনি মাছ কেনার নির্দেশ

করোনা-পরবর্তী সময়ে তৃণমূল সরকার পাঁচ টাকায় দুপুরের খাবার খাওয়ার ‘মা ক্যান্টিন’ চালু করে। পুরসভার মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের দিয়ে এই খাবার রান্না করানো হয়। সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি শহরের একাধিক জায়গায় শিবির করে এই খাবার দেওয়া শুরু হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ০৮:৪১
এসএসকেএম হাসপাতালে ‘মা আহার’-এর শিবিরে ভিড়। বুধবার।

এসএসকেএম হাসপাতালে ‘মা আহার’-এর শিবিরে ভিড়। বুধবার। ছবি: রণজিৎ নন্দী।

‘মা ক্যান্টিন’-এর নাম পাল্টে হল ‘মা আহার’। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠকের পরে বুধবার এমনটাই জানানো হয়েছে। আগের চেয়ে আরও বেশি জায়গায় পাঁচ টাকার এই খাবার পাওয়া যাবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও সপ্তাহে দু’দিন পাঁচ টাকায় মাছ-ভাত দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলেও কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি এ দিন। কলকাতায় এমন পাঁচ টাকার খাবার তৈরির কাজে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মীদের যদিও দাবি, চলতি মাস থেকেই মাছ-ভাত দেওয়ার কথা ঘোষণা হয়ে যাওয়ায়, খাবার নিতে আসা লোকজন জানতে চাইছেন, কবে থেকে মাছ মিলবে! কিন্তু কলকাতা পুরসভার তরফে কোনও নির্দেশ এখনও আসেনি। মেয়র পারিষদ (সমাজকল্যাণ) মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সরকারি কোনও নির্দেশিকা এখনও আমাদের কাছে আসেনি। ফলে এখনই মাছ কেনা যাচ্ছে না।’’

করোনা-পরবর্তী সময়ে তৃণমূল সরকার পাঁচ টাকায় দুপুরের খাবার খাওয়ার ‘মা ক্যান্টিন’ চালু করে। পুরসভার মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের দিয়ে এই খাবার রান্না করানো হয়। সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি শহরের একাধিক জায়গায় শিবির করে এই খাবার দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু, বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে কয়েক দিন বন্ধ ছিল মা ক্যান্টিন। ফলে, এই খাবার আর মিলবে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। নতুন সরকার এসে অবশ্য ঘোষণা করে, কোনও জনমুখী প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে, এ দিন প্রকল্পের নাম বদল করল সরকার। এ-ও জানানো হল, আগে ৩৯০টি জায়গায় পাঁচ টাকার এই খাবার পাওয়া যেত। এ বার আরও ১১০টি নতুন জায়গা যুক্ত হচ্ছে।

এ দিন দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঁচ টাকার এই খাবার খেতে আসা মানুষের পাতে সয়াবিন-ডালের মিশ্রণের সঙ্গেই সিদ্ধ ডিম দেওয়া হয়েছে। বর্ধমান থেকে আসা সরমা সরকার নামে এক মহিলা ভাতের থালা নিয়ে বলেন, ‘‘নাম যা-ই হোক, এই খাবারের গুরুত্ব অনেক।’’ সরমার পাশেই দাঁড়ানো, হাসনাবাদ থেকে আসা দীনেন রায় নামে এক বৃদ্ধ বললেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহে এক দিন করে ডাক্তার দেখাতে আসতে হয়। এত খরচের মধ্যে আলাদা করে খাবার কিনে খাওয়া খুব কঠিন। এই খাবারটুকু পাওয়া যায় বলে নিশ্চিন্তে থাকি।’’

চেতলা এলাকার শ্যাম বসু রোডের একটি কমিউনিটি রান্নাঘর থেকে দক্ষিণ কলকাতার ১৫টি ওয়ার্ড-ভিত্তিক জায়গায় মা ক্যান্টিনের খাবার যায়। কমিউনিটি রান্নাঘরটি চালায় যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সেটির প্রধান শাশ্বতী সাহির দাবি, ‘‘যেখানেই খাবার যাচ্ছে, মানুষ মাছের খোঁজ করছেন। চলতি মাস থেকে শুরু হওয়ার কথা। ফলে এ দিনও যখন পাতে মাছ পড়েনি, অনেকেই আমাদের দায়ী করছেন।’’ এর পরে তাঁর দাবি, ‘‘পুরসভা মাছ কেনার অনুমতি দেয়নি।’’ উত্তর কলকাতার টালা থানা সংলগ্ন একটি রান্নাঘর থেকে মা ক্যান্টিনের খাবার যেত এত দিন। সেই খাবার তদারকির দায়িত্বে থাকা, কলকাতা পুরসভার এক নম্বর বরোর চেয়ারম্যান তরুণ সাহা বলেন, ‘‘সরকারি কোনও নির্দেশ না আসায় মাছ কিনে রান্না এখনও শুরু করা যায়নি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP maa canteen West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy