E-Paper

বাণিজ্যিক গাড়ির অবস্থান নির্ণায়ক যন্ত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা

অবস্থান নির্ণায়ক যন্ত্রের মূল সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা সি-ড্যাক গত বছর সরে দাঁড়ানোর পর থেকে সমস্যার সূত্রপাত।

ফিরোজ ইসলাম

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কেন্দ্রের সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী বাণিজ্যিক গাড়িতে অবস্থান নির্ণায়ক যন্ত্র (ভেহিক্‌ল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস বা ভিএলটিডি) বসানোর উপরে জোর দিতে চাইছে রাজ্য পরিবহণ দফতর। সেই লক্ষ্যে সোমবার কসবার পরিবহণ ভবনে বিভিন্ন পরিবহণ সংগঠনের প্রতিনিধি, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ওয়েবেল এবং যন্ত্র নির্মাণ সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বৈঠক হয়। এ দিনের বৈঠকে পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাণিজ্যিক গাড়ির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শংসাপত্র (সিএফ) নেওয়ার ক্ষেত্রেভিএলটিডি বসানো বাধ্যতামূলক। যদিও, তার পরেও বিষয়টি নিয়ে জটিলতা কাটেনি।

জানা যাচ্ছে, অবস্থান নির্ণায়ক যন্ত্রের মূল সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা সি-ড্যাক গত বছর সরে দাঁড়ানোর পর থেকে সমস্যার সূত্রপাত। ওই সংস্থা বাণিজ্যিক গাড়ির অবস্থান নির্ণায়ক যন্ত্র থেকে প্রাপ্ত সঙ্কেত বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন তথ্য রাজ্যকে পাঠাত। প্রায় দু’লক্ষ গাড়ি এই ব্যবস্থায় নথিভুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ওই খাতে প্রয়োজনীয় বকেয়া মেটানো নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরিষেবা বন্ধ করে দেয় সি-ড্যাক। এর পরে আচমকা সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সম্পূর্ণ পরিকাঠামো কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবহণ দফতর ভিএলটিডি সংক্রান্ত দায়িত্ব দেয় রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ওয়েবেল-কে। তারাই এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা তৈরি করেছে।

এ দিকে, অতীতে যে ৩০টির কাছাকাছি সংস্থা ভিএলটিডি নির্মাণ এবং সেগুলি গাড়িতে বসানোর পরে পরিষেবা প্রদানের দায়িত্বে ছিল, তার মধ্যে প্রায় ২৫টি সংস্থা রাজ্যের তরফে নানা অনিয়মের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে বলে খবর। বেশ কিছু সংস্থাকে জরিমানাও করা হয়েছে। এই অবস্থায় যে সব গাড়িতে আগেই অবস্থান নির্ণায়ক যন্ত্র বসানো হয়েছে, তার অনেকগুলিই কাজ করছে না অথবা বৈধতা হারিয়েছে।

এই অবস্থায় বিপুল খরচ করে ফের নতুন করে এই যন্ত্র বসাতে নারাজ বাস, মিনিবাস, অ্যাপ-ক্যাব এবং স্কুলগাড়ি সংগঠনের নেতৃত্ব। তাঁরা চান, আগের যন্ত্রগুলি সচল করা হোক। ওই যন্ত্রে বসানো দু’টি সিম কার্ড রিচার্জ করার জন্য ধার্য খরচ এবং পরিষেবার খরচটুকুই মেটাতে আগ্রহী বাণিজ্যিক গাড়ির মালিকেরা। হাতে গোনা যে কয়েকটি সংস্থার তৈরি ভিএলটিডি-র বৈধতা রয়েছে, তাদের দিয়ে পুরো ব্যবস্থা কতটা সামলানো যাবে, তা নিয়ে সংশয়ে বাস, ট্যাক্সি, অ্যাপ-ক্যাব এবং স্কুলগাড়ির মালিকেরা।

এ দিনের বৈঠকে ওই সব সংগঠনের নেতৃত্ব সমস্যা সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের কাছে। গোটা বিষয়টি সম্পর্কে পুলকার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুদীপ দত্ত বলেন, ‘‘এক বার টাকা খরচ করে যন্ত্র বসানোর পরে একই যন্ত্র আবার বসানোর জন্য কেন টাকা খরচ করতে হবে? পুরনো যন্ত্রগুলির কী হবে?’’ একই প্রশ্ন তুলেছেন অল বেঙ্গল বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় এবং সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা।

এ দিন রাহুল বলেন, ‘‘নির্মাণ সংস্থাগুলি সরকারি নিয়মের মধ্যে থেকে কাজ করবে। তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা রাজ্য পরিবহণ দফতরের কর্তব্য। আমরা তাকিয়ে রয়েছি পরিবহণ দফতরের দিকে।’’ পরিবহণ দফতর সূত্রের খবর, সমস্যার সমাধান খুঁজতে সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Vehicle Tracking Device

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy