Advertisement
E-Paper

১৫ মিনিটের কথোপকথন, ‘ঘুষ ভাগাভাগির’ দ্বন্দ্ব! সিবিআইয়ের সেই চার্জশিটের সূত্র ধরেই তলব অভিষেককে, কী ছিল নথিতে

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে। এ ছাড়া, তৃণমূলের প্রাক্তন যুবনেতা শান্তনু, কুন্তলকেও গ্রেফতার করেছিল সিবিআই।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১২:০৭
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোমবার তলব করেছে ইডি। তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ইডি সূত্রে খবর, এই মামলায় সিবিআইয়ের দেওয়া তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটের সূত্র ধরেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেখানে ১৫ মিনিটের একটি কথোপকথনের উল্লেখ রয়েছে। তাতে একাধিক বার জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এসেছে। চাকরি বিক্রি, ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের কথা শোনা গিয়েছে সেই কথোপকথনে। সে বিষয়ে অভিষেককে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে। এ ছাড়া, তৃণমূলের প্রাক্তন যুবনেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। ২০১৭ সালে সুজয়কৃষ্ণের বেহালার বাড়িতে এই তিন জনের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছিল। তদন্ত করতে নেমে সেই সময়কার একটি অডিয়ো রেকর্ডিং হাতে পায় সিবিআই। চার্জশিটে তিন অভিযুক্তের ১৫ মিনিটের কথোপকথন উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে বার বার অভিষেকের নাম এসেছে। অভিষেককে চাকরি বিক্রির টাকা দেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেই অভিষেকই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক কি না, স্পষ্ট নয়। ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ছাড়া, কথোপকথনে এসেছে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও।

অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের সূত্র ধরে সুজয়কৃষ্ণের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। ওই অডিয়োর কথোপকথন অনুযায়ী অভিযোগ, প্রাথমিক নিয়োগের জন্য বিপুল অর্থ দাবি করেছিলেন অভিষেক। তাঁকে কী ভাবে সেই টাকা তুলে দেওয়া যায়, কত জন প্রার্থীর কাছ থেকে সে ক্ষেত্রে কত টাকা করে তুলতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন কুন্তল, শান্তনু এবং সুজয়কৃষ্ণ। অভিযোগ, ঘুষের টাকা না-পেলে নিয়োগ আটকে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন অভিষেক। ভুয়ো মামলায় চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

ঘুষের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দিচ্ছেন পার্থ, জানতে পেরেছিলেন অভিষেক। তার পরেই সুজয়কৃষ্ণের কাছে তিনি ১৫ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন বলে তিন অভিযুক্তের কথোপকথনে শোনা গিয়েছে। অভিষেককে সন্তুষ্ট করতে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোট ১০০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা করেন সুজয়কৃষ্ণ। সেই টাকা তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয় কুন্তল ও শান্তনুকে। বলা হয়েছিল, এই ১০০ কোটি টাকার মধ্যে অভিষেক, পার্থ, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে ২০ কোটি টাকা করে দেওয়া হবে। বাকি অর্থ তাঁরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেবেন। যে অভিষেকের নাম এই কথোপকথনে শোনা গিয়েছে, তিনিই তৃণমূলের অভিষেক কি না, তাঁর সঙ্গে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, প্রমাণ সংগ্রহ করছে ইডি। সুজয়কৃষ্ণ, কুন্তলেরা আপাতত জামিনে রয়েছেন।

অভিষেকের সংস্থা লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের কর্মচারী ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। সেই সংস্থার আর্থিক লেনদেনও ইডির নজরে রয়েছে। তা নিয়ে এর আগে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। পাশাপাশি অভিষেকের অন্য সংস্থাগুলিকেও ইডি এ বার তদন্তের আওতায় আনতে চাইছে। সোমবার তা নিয়েও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

Abhishek Banerjee ED Primary Recruitment Case
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy