উন্নয়নের কাজে দুই বিডিও সহযোগিতা করছেন না বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিল তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতি। কয়েক মাসের মধ্যেই জামালপুর, সালানপুরের বিডিও-কে বদলির নির্দেশ দিল জেলা প্রশাসন।
মাত্র পাঁচ মাস আগে কাজে যোগ দিয়েছিলেন জামালপুরের বিডিও প্রমীলা দাস রায়। জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অরবিন্দ ভট্টাচার্যের দাবি, ওই বিডিও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে অর্থ খরচ করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান অরবিন্দবাবু। প্রশাসনের এক কর্তার অভিযোগ, জামালপুরের বিডিও নিয়মিত সরকারি গাড়ি নিয়ে দমদমের বাড়ি চলে যেতেন। এর জেরে সময়ে দফতরে আসতেও পারতেন না বলে অভিযোগ। ওই কর্তার দাবি, ‘‘যাতায়াতের তেল সরকারকে মেটাতে হতো। কয়েক দিন আগেই গাড়ির তেল বাবদ দেড় লাখ টাকা মেটাতে হয়েছে দফতরকে। এ ছাড়াও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে খরচের অভিযোগ রয়েছে।” জামালপুরের তৃণমূলের বিধায়ক উজ্জ্বল প্রামাণিকেরও দাবি, “উন্নয়নের কাজে ওই বিডিও অসহযোগিতা করছিলেন। উনি জামালপুরেও থাকছিলেন না। কাজে চরম ব্যাঘাত ঘটছিল। সে কারণেই সম্ভবত জেলা প্রশাসনের সুপারিশে ওই বিডিওকে সরানো হল।” এ দিন যদিও বিডিও-র মোবাইল বন্ধ থাকায় কথা বলা যায়নি। জবাব মেলেনি এসএমএসেরও।
সালানপুরে বিডিও পদে মাস খানেক আগে যোগ দিয়েছিলেন দেবকুমার চক্রবর্তী। প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবকুমারবাবু কাজে যোগ দেওয়ার দিন কয়েকের মধ্যেই বেশ কয়েকটি বিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এর জেরে ব্লকের উন্নয়নের কাজ ঠিক মতো করা যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ। যদিও বিডিও-র বদলির নির্দেশ নিয়ে সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল মজুমদারের প্রতিক্রিয়া, “সরকারি পদের রদলবদল হয়েছে। আমার কিছু বলার নেই।” দেবকুমারবাবু অবশ্য বলেন, ‘‘বদলির নির্দেশের কথা শুনেছি। আমার ব্লকের ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট নয়। তবে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।”
রবিবার বর্ধমানের জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন অবশ্য ওই দুই বিডিওকে ‘রুটিন বদলি’ করা হয়েছে বলে জানান। যদিও প্রশাসনের একাংশের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন কাজের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করছিলেন ওই দুই বিডিও।