Advertisement
E-Paper

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন খাতে এ বার দ্বিগুণ বরাদ্দ

বাজেটে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের উপরে জোর দিল রাজ্য সরকার। গত বছর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরকে ১৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করার সময় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানান, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন খাতে ৩৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।

কিশোর সাহা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ২১:০০

বাজেটে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের উপরে জোর দিল রাজ্য সরকার। গত বছর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরকে ১৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করার সময় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানান, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন খাতে ৩৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। অর্থাৎ আগের বছরের থেকে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই উত্তরবঙ্গকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ওই এলাকার জন্য পৃথক দফতরও (উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন) তৈরি করেন তিনি। তার পরে উত্তরবঙ্গের জন্য জলপাইগুড়িতে একটি শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যাও তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে সেখানে মন্ত্রিসভার বৈঠকও হয়েছে। এ দিন বাজেট বক্তৃতায় উত্তরকন্যার কথা বলার পাশাপাশি অমিতবাবু বলেছেন, দার্জিলিঙের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথাও। উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য ন্যায্য মূল্যের দোকান চালু করার কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে সরকার। চা-বাগান বন্ধ হয়ে গেলে রাজ্য সরকার নিজেই চা-বাগানের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারকে খাদ্যশস্য সরবরাহ করবে।

এ দিন বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, কোচবিহার ও দার্জিলিঙের কার্শিয়াঙে একটি করে নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরি হবে। উত্তরবঙ্গের কালচিনি ও মেটিয়ালিতে একটি করে মডেল স্কুল করা হবে। কোচবিহার ও রায়গঞ্জে গড়া হবে একটি করে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়। জলপাইগুড়ির বানারহাটে প্রথম হিন্দি মাধ্যম কলেজ হবে। কোচবিহারে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। অমিতবাবু এ দিন বাজেটে জানিয়েছেন, ২০১৪-১৫ বর্ষে উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়ি, ঘোকসাডাঙা, নিশিগঞ্জ, বানারহাট, চোপড়া, মানিকচক এবং কুমারগঞ্জে ৭টি সরকারি কলেজ তৈরি করা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, চোপড়াতে সেতু নির্মাণের কাজ আগামী অক্টোবর মাসেই শেষ হয়ে যাবে। ২০১৫ সালের মার্চে শেষ হবে পাহাড়িপুর, কাছুয়া, কাহালাই ও পাতাপুরে সেতু নির্মাণের কাজ। মানিকচকে ১.৮ কিলোমিটার লম্বা ভুতনী সেতু ও কোচবিহারের কালজানির উপরে সেতু তৈরির কাজ শীঘ্রই শুরু করা হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন।

উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও নজর দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গের ডিলারদের জন্য শিলিগুড়িতে ‘অ্যাপিলেট অ্যান্ড রিভিশনাল বোর্ড’-এর একটি বেঞ্চ স্থাপন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এত দিন আপিল ও শুনানির জন্য ওই ব্যবসায়ীদের কলকাতায় আসতে হত। নতুন বোর্ড স্থাপন হলে উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের আপিল ও শুনানির জন্য আর কলকাতায় আসতে হবে না। শিলিগুড়ি ট্যাক্সেসন বার অ্যসোসিয়েশনের সম্পাদক সঞ্জীব চক্রবর্তী জানান, বাজেটে যা ঘোষণা হয়েছে তাতে বিক্রয় কর সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা শিলিগুড়িতেই সমাধান সম্ভব হবে।

অমিতবাবু আরও যে সব প্রকল্প নিয়ে জানিয়েছেন, তাতে অগস্টে জলপাইগুড়ির স্পোর্টস কমপ্লেক্সটির নির্মাণ শেষ হয়ে যাবে। কোচবিহারের রাজবাটী ও দার্জিলিঙের লেবঙের স্টেডিয়াম উন্নয়নের কাজ নেওয়া হয়েছে। বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর ও কোচবিহারের স্টেডিয়াম গুলির সংস্কারের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরে দু’টি নতুন স্টেডিয়াম তৈরি হবে। গজলডোবায় নতুন যুব আবাস নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এডিবি-র সহায়তায় নেপাল-বাংলাদেশ ও ভুটান-বাংলাদেশ করিডরের উন্নতি সাধনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির জন্য বাস কেনার ব্যবস্থা হয়েছে। মালদহ ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বাঁধ সারানোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হলদিবাড়ির মজহারশরিফ নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও নজর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অমিতবাবু জানান, একটি মেগা পর্যটন প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতরের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে। ২০টি কটেজ, ১টি স্বল্পব্যয়ের হোটেল এবং ১টি যুব আবাসের কাজও চালু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় আশার আলো দেখছেন উত্তরবঙ্গের শিল্পোদ্যোগী ও ব্যবসায়ীরা। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)-এর উত্তরবঙ্গ জোনের চেয়ারম্যান প্রমোদকুমার সাহা বলেন, “এই সরকার উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য খুবই ভাল পদক্ষেপ করছে। এত দিন উত্তরবঙ্গের প্রতি অবহেলা, বঞ্চনার যে অভিযোগ ছিল তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। আমাদেরও প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছে।”

ফেডারেশন অব চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, নর্থ বেঙ্গল (ফোসিন)-এ মুখপাত্র বিশ্বজিৎ দাসও মনে করেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের কাজের সুযোগ আরও বাড়ল। তিনি বলেন, “বরাদ্দ বাড়ানোয় উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে তা অত্যন্ত সহায়ক হবে। এর ফলে আরও ভাল কাজ করতে পারবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy