তৃণমূলের মোকাবিলায় বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে নীতিগত ভাবে তারা সিপিএমের সঙ্গে সহমত বলেই জানিয়ে দিল আরএসপি। তবে সেই ঐক্যের পথে সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের জোট না কি কৌশলগত সমঝোতা, সেই প্রশ্নে আরও গভীর ভাবে ভাবনাচিন্তা করারই পক্ষপাতী তারা। কারণ, কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি সমঝোতার পথে অন্যতম অন্তরায় আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা!
বিধানসভা ভোটে বামফ্রন্টের বাইরেও বৃহত্তর অংশের মানুষকে সামিল করে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে যথাসম্ভব একজোট করে লড়তে চাইছে সিপিএম। তার জন্য কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করা উচিত কি না, তা নিয়ে দলের রাজ্য কমিটির বৈঠক করার আগে বাম শরিকদের আলাদা করে ডেকে মতামত যাচাই করছেন সিপিএম নেতৃত্ব।
এর আগে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ফরওয়ার্ড ব্লক কিছুটা ইতিবাচক এবং সিপিআই তুলনায় সংশয়ী সুর জানিয়ে এসেছে। আলিমুদ্দিনে শুক্রবার সন্ধ্যায় আরএসপি-র ক্ষিতি গোস্বামী, মনোজ ভট্টাচার্য ও অশোক ঘোষের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র ও বিমান বসু। এই পরিস্থিতিতেই আজ, শনিবার আবার বামফ্রন্টের বৈঠক আছে।
বাম সূত্রের খবর, গত কয়েক বছরের আড় ভেঙে বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আগের চেয়ে উদ্দীপনা বেড়েছে এবং তার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলকে উৎখাত করার লক্ষ্যে ধর্মনিরপেক্ষ, বিরোধী ঐক্যের চাহিদা নানা স্তরেই বাড়ছে— সূর্যবাবুদের এই যুক্তির সঙ্গে ক্ষিতিবাবুরা একমত হয়েছেন। আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, ‘‘কংগ্রেসের প্রশ্নে আগে থেকেই কোনও কট্টর অবস্থান নিয়ে বসে থাকা উচিত নয়, এটা আমরাও মনে করি।’’
তা ছাড়া, কেরলে আরএসপি এখন আছে কংগ্রেসের জোট ইউডিএফেই। কিন্তু আরএসপি নেতৃত্ব বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোটের উদাহরণ টানছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিহারে লালুপ্রসাদ-নীতীশ কুমার ও কংগ্রেসের জোট সাফল্য পেয়েছে ঠিকই। কিন্তু উল্টো দিকে বিজেপি-র ভোট সব ক্ষেত্রে রামবিলাস পাসোয়ান বা অন্য জোটসঙ্গীর বাক্সে যায়নি।
তাই আরএসপি নেতৃত্বের সংশয়, কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদে যদি তাদের ভাগের আসন ছাড়তে হয়, নিচু তলার কর্মী-সমর্থকেরা সেটা মেনে নেবেন কি? সূর্যবাবুরাও শরিক নেতৃত্বকে বলেছেন, কংগ্রেসের হাইকম্যান্ড কোন দিকে যাবে, তা না বুঝে কোনও সিদ্ধান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রশ্ন নেই!