Advertisement
E-Paper

ঝিল ‘বোজানো’ বন্ধের নির্দেশ দিল পুরসভা

ঝিল বুজিয়ে স্টেশনের চৌহদ্দি বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল আগেই। এ বার সরাসরি কাজে বাধা পেল রেল। সাঁতরাগাছি স্টেশন সংলগ্ন যে ঝিলটিতে কাজ শুরু করেছিল দক্ষিণ-পূর্ব রেল, তা বন্ধ করে দিল হাওড়া পুরসভা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৫ ০০:৫১

ঝিল বুজিয়ে স্টেশনের চৌহদ্দি বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল আগেই। এ বার সরাসরি কাজে বাধা পেল রেল। সাঁতরাগাছি স্টেশন সংলগ্ন যে ঝিলটিতে কাজ শুরু করেছিল দক্ষিণ-পূর্ব রেল, তা বন্ধ করে দিল হাওড়া পুরসভা। শনিবার হাওড়ার পুর-কমিশনার ও মেয়র পারিষদের (নিকাশি) নেতৃত্বে পুরসভার একটি দল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরে অবিলম্বে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। খড়্গপুর শাখার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার বা ডিআরএম-কে চিঠি দিয়ে আপাতত কাজ বন্ধ রেখে আলোচনায় বসার জন্য অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি, পুরসভার পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় স্থানীয় জগাছা থানায়।

সাঁতরাগাছিকে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অন্যতম টার্মিনাল স্টেশন হিসেবে গড়ে তুলতে গত কয়েক মাস ধরে কাজ শুরু করেছেন রেল-কর্তৃপক্ষ। প্রথম ধাপ হিসেবে স্টেশনের সঙ্গে পাশের কোনা এক্সপ্রেসওয়ের যোগাযোগের জন্য স্টেশন সংলগ্ন ঝিলের মাঝামাঝি অংশে মাটি ফেলে সেখান দিয়ে রাস্তা তৈরি কাজ শুরু করা হয়। একই সঙ্গে স্টেশনের উত্তর দিকে প্ল্যাটফর্ম বাড়াতে তার পাশ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমমুখী আর একটি চওড়া রাস্তা তৈরির জন্য ঝিলের মাঝখান দিয়ে শালবল্লা পুঁতে কাজও শুরু হয়।

এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাধার বলে পরিচিত ওই ঝিল বুজিয়ে ফেলার খবর পেয়ে শুক্রবারই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মেয়র পারিষদ (নিকাশি) শ্যামল মিত্র। এর পরেই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। শনিবার দুপুরে পুরকমিশনার নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ও শ্যামলবাবুর নেতৃত্বে পুরসভার একটি দল
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। এলাকা ঘুরে দেখে তাঁরা ডেকে পাঠান প্রকল্পটিতে কর্মরত ঠিকাদার সংস্থার কর্তাদের। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পরে কমিশনার সেখানে দাঁড়িয়েই খড়্গপুর ডিআরএম-কে চিঠি লিখে আগামী ২৫ নভেম্বর পুরভবনে বৈঠকে আসাতে অনুরোধ করেন। সেই সঙ্গে আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেন।

Advertisement

পরে পুর-কমিশনার বলেন, ‘‘এই ঝিল বুজিয়ে ফেললে পুরসভার ৪৬ ও ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড জলমগ্ন হবে। কারণ এলাকার সমস্ত জমা জল ওই ঝিলে গিয়ে পড়ে। ঝিল বুজে গেলে তা আর হবে না। ঘটনাটি আমরা হাইকোর্টের গ্রিন বেঞ্চকে জানাবো।’’

কিন্তু পুর-কমিশনার কী রেলের কাজ বন্ধ করতে বলতে পারেন?

পুর-কমিশনারের দাবি, ‘‘কাজটি হচ্ছে পুর-এলাকাতেই এবং এর জন্য বিপদে পড়তে চলেছেন এলাকার মানুষই। তা ছাড়া কাজ শুরু আগে রেল তো পুরসভার সঙ্গে আলোচনা পর্যন্ত করেনি। তাই মেয়র নির্দেশ দেওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি।’’

স্থানীয় পুর-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই যে এই কাজ শুরু করা উচিৎ ছিল, তা মানছেন রেল মন্ত্রকের আওতাধীন মূল নির্মাণকারী সংস্থা ইরকন। ওই সংস্থার ম্যানেজার (সিভিল) মনোজকুমার মণ্ডল বলেন, ‘‘ঝিলের যে সব জায়গা বোজানো হয়েছে বা হবে, তা পরবর্তী কালে খুঁড়ে তুলে দেওয়া হবে। তবে এটা ঠিকই যে বিষয়টি নিয়ে আগেই স্থানীয় পুর-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার ছিল।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy