কথায় বলে ওষুধ-পথ্যি । পথ্য থেকে পথ্যি এসেছে। পথ্য আয়ুপ্রদায়ী। শুধু ওষুধ খেলেই তো হবে না, সঙ্গে উপযুক্ত খাদ্য চাই। পুরনো বাংলায় দুধ-মা চালু শব্দ। কোনও কারণে গর্ভধারিণী মায়ের স্তন্যে টান পড়লে আর কেউ নবজাতককে দুধ খাওয়াতেন। বেবিফুডের রমরমা ছিল না, কাজেই দুধ-মা প্রাণদায়িনী। রবিঠাকুরের ‘দেবতার গ্রাস’-এ আছে রাখালের কথা, মা সূতিকার জ্বরে ভুগেছিলেন। মাসি ‘অন্নদা তখন/ আপন শিশুর সাথে দিয়ে তারে স্তন/ মানুষ’ করেছিল যত্নে। বনফুলের ছেলেবেলায় ‘মেলিন্স’ ফুড এসে গেছে। কিন্তু সব বাচ্চার পেটে সয় না। মুসলমান মজুর চামরুর বউ ছেকাছিনি ভাষায় বনফুলের মাকে বললে, ‘তার মেয়ে একটা থনের দুধই খেয়ে উঠতে পারে না।’ প্রথমে আপত্তি ছিল কিন্তু বাচ্চার পথ্যের কথা ভেবে ব্রাহ্মণ্য সংস্কারের জলাঞ্জলি। বনফুল তাঁর আত্মজীবনী ‘পশ্চাৎপট’-এ লিখেছেন কলেজ জীবনে লিবারেল বনফুলকে তাঁর মা বলতেন, ‘ ও ম্লেচ্ছ, হবেই তো! ছেলেবেলায় মুসলমানীর দুধ খেয়েছে যে !’ সিক্সথ ইয়ারে বনফুলের মা বাধ্য হয়ে ম্লেচ্ছ হলেন, সেও পথ্যের জন্য। বনফুলের ডবল নিমোনিয়া। জ্বর কমল, শরীর দুর্বল। ডাক্তার-লেখক বনবিহারী মুখোপাধ্যায় নিদান দিলেন কলকাতা থেকে মণিহারী গ্রামে যাও। রোজ মুর্গি আর তিন চার চামচ কড লিভার ওয়েল খেও। মৈথিল ঠাকুর মুর্গি রাঁধতে নারাজ। মা মুর্গি রাঁধতে শুরু করলেন। উনিশ শতকে হিন্দুবাঙালি রামপাখির মাংস ‘ঘরে’ খেত না, লিবারেলরা ‘বাইরে’ খেত। বিশ শতকে মুর্গির পথ্যরূপে গৃহপ্রবেশ, ক্রমে তা কবজি ডোবানো খাদ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।