Advertisement
E-Paper

ফুলের ঘায়ে মূর্ছা বিয়ের মরসুমে

ফুলের দাম শুনে চোখে সর্ষেফুল দেখছেন বরকর্তা, কন্যাকর্তারা। শীত দেরিতে আসায় ফুলের ফলন কম হয়েছে। তাই ফুলের দাম হয়েছে আকাশছোঁয়া। অগত্যা ফুলের বাজেট কাটছাঁট করতে হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৩১

ফুলের দাম শুনে চোখে সর্ষেফুল দেখছেন বরকর্তা, কন্যাকর্তারা।

শীত দেরিতে আসায় ফুলের ফলন কম হয়েছে। তাই ফুলের দাম হয়েছে আকাশছোঁয়া। অগত্যা ফুলের বাজেট কাটছাঁট করতে হয়েছে। কেউ বিয়েবাড়ির সজ্জায় ফুল কম দিয়ে বেলুন, ফিতে ঝুলিয়ে বাহার আনছেন। কেউ আবার শরণ নিচ্ছেন প্লাস্টিক ফুলের। বিয়েবাড়ির দরজা থেকে ছাদনাতলা, সর্বত্র চোখ ধাঁধাচ্ছে প্লাস্টিকের ফুল।

ফুল ব্যবসায়ীরা জানালেন, অন্যান্য বছর এই সময়ে গাঁদা ফুলের কুড়িটি মালার দাম ৪০-৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করত। এ বার তা ১৫০ টাকা। রজনীগন্ধার দামও এ বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কৃষ্ণনগরের ফুল ব্যবসায়ী দেবু বিশ্বাসের কথায়, ‘‘মাস দু’য়েক আগেও রজনীগন্ধা ফুল ২০ -২৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এখন দাম ১২০ টাকা। মাসখানেক আগে গাঁদা ফুলের মালা এক-দেড় টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন প্রায় ১০ টাকা। গোলাপেরও দাম বেড়েছে।’’

Advertisement

শীত দেরিতে এসেছে। তাছাড়া, আকাশ পরিষ্কার না থাকায় সালোকসংশ্লেষে ব্যাঘাত হচ্ছে।
তাই গাছের খাবার তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে। যার প্রভাব ফুলে পড়েছে।

কৃষ্ণেন্দু ঘোড়াই, উদ্যান পালন আধিকারিক

বিয়ের বাজেট বড়িয়ে দিচ্ছে ফুল। আগে বরের গাড়ি সাজাতে হাজার টাকা লাগত এখন তা প্রায় ১৮০০ টাকা লাগছে। ডেকরেটার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, গত বছর অর্কিড-জারবেরা দিয়ে ছাদনাতলা সাজাতে হাজার পাঁচেক টাকা খরচ পড়েছে। এ বার সেই খরচ পড়ছে ১০-১২ হাজার টাকা। ফুল দিয়ে বিয়ের খাট সাজাতে ২-৩ হাজার টাকা খরচ হত। এ বছর খরচ পড়ছে ৫ হাজার টাকা। অনুষ্ঠান বাড়ি ফুল দিয়ে সাজাতে অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়তি খরচ হচ্ছে। কৃষ্ণনগরের ডেকরেটার ব্যবসায়ী দীপক বিশ্বাস জানান, ফুলের দাম দ্বিগুণ, তাই প্লাস্টিক ফুলেই ভরসা করছেন বিয়েবাড়ির কর্তারা।

ফুলচাষি, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এ বার বর্ষায় বেশ কিছু ফুলের গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আবার শীত দেরিতে আসায় মরসুমি গ্ল্যাডিলাস, জিনিয়া, ডালিয়া উৎপাদন কম হয়েছে। জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস, অ্যাস্টারের মতো ফুলের মানও খারাপ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রজনীগন্ধার কুঁড়িতেও কালো দাগ দেখা দিয়েছে। গোলাপ ফুলের মাপ ছোট হচ্ছে। সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নারায়ণ নায়ক জানান, রাজ্যের সর্বত্রই শীতকালীন ফুলের ওপর দেরিতে শীতের প্রভাব পড়েছে। অগত্যা ফুল দিয়ে বাড়ি মুড়ে দেওয়ার সাধ সম্বরণ করছেন বরকর্তা, কন্যাকর্তারা। চাপড়ার বাসিন্দা কামরুল বিশ্বাস বললেন, ‘‘ভেবেছিলাম, একমাত্র মেয়ের বিয়েতে গোটা অনুষ্ঠান বাড়ি ফুল দিয়ে ঢেকে ফেলব। কিন্তু ফুলের বাজারদর শুনে পিছিয়ে আসতে হল। শেষমেশ প্লাস্টিকের ফুল দিয়েই সাজাতে হল বিয়েবাড়ি।’’

নদিয়ার উদ্যানপালন আধিকারিক কৃষ্ণেন্দু ঘোড়াই বলেন, ‘‘শীত দেরিতে এসেছে। তা ছাড়া, আকাশ পরিষ্কার না থাকায় সালোকসংশ্লেষে ব্যাঘাত হচ্ছে। তাই গাছের খাবার তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে। যার প্রভাব শীতকালীন ফুলের উপর পড়েছে। শীত একটু জাঁকিয়ে পড়লেই ফলন স্বাভাবিক হবে।’’ কনকনে শীতের দিকেই এখন হাপিত্যেশ করে তাকিয়ে রয়েছেন লোকজন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy