সুন্দরবনে বিভিন্ন বেসরকারি লজ ও হোটেল পরিবেশ বিধি ভাঙছে বলে অভিযোগ করেছিলেন রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা। এ বার সেই বিধি ভাঙার অভিযোগ উঠল সরকারি ট্যুরিস্ট লজের বিরুদ্ধে! ওই এলাকায় নির্মাণ-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের পর্যটন দফতর।
অন্য কেউ নয়, নিয়মবিধির তোয়াক্কা না-করে লজ গড়ে তোলার অভিযোগ তুলেছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল বা জাতীয় পরিবেশ আদালতই। ওই আদালতের বিচারপতি প্রতাপ রায় ও বিশেষজ্ঞ-সদস্য পি সি মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন, গদখালিতে পরিবেশ বিধি ভেঙে লজ গড়ে তুলেছে পর্যটন দফতর। সেই লজ ভাঙা হবে না কেন? বুধবার ওই বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য সরকারকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে নতুন একটি হলফনামা পেশ করে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
সুন্দরবনের দূষণ নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে জাতীয় পরিবেশ আদালতের পূর্বাঞ্চলীয় বা কলকাতা বেঞ্চ। সেই মামলায় অবৈধ হোটেল, কাটা তেলে চলা ভুটভুটি বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে গদখালিতে নদীর ধার ঘেঁষে তৈরি হওয়া ওই লজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তা নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্টও তলব করেছিল ডিভিশন বেঞ্চ।
এ দিন সুন্দরবনের পরিবেশ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল লক্ষ্মী গুপ্ত আদালতে একটি রিপোর্ট পেশ করেন। সরকারি সূত্রের খবর, লজটি জেলা পরিষদ তৈরি করলেও আদতে সেটি রাজ্যের পর্যটন দফতরের বলে রিপোর্টে জানিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। প্রায় দু’কোটি টাকা খরচ করে গড়ে তোলা বাংলোটি না-ভেঙে অন্য কিছু করা যায় কি না, সেই আর্জিও জানিয়েছিল জেলা প্রশাসন। তবে জেলা প্রশাসনের আর্জির ভিত্তিতে এ ব্যাপারে কোনও নির্দেশ দেয়নি আদালত। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া হলফনামার ভিত্তিতেই ১৪ অক্টোবর এ ব্যাপারে পরবর্তী শুনানি হবে।
গদখালি লজ প্রসঙ্গে পর্যটনমন্ত্রী ব্রাত্য বসু এ দিন বলেন, ‘‘ওই প্রকল্পে আমরা উপকূল-বিধি মেনেই পরিবেশ দফতরের ছাড়পত্র নিয়েছিলাম। এর পরে আলোচনা করেই ফের হলফনামা জমা দেওয়া হবে।’’
গদখালি লজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তো উঠছেই। সেই সঙ্গে ঝড়খালিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত ইকো-ট্যুরিজম বা পরিবেশ-পর্যটন প্রকল্প নিয়েও এ দিন আদালতে সরব হন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। এই মামলায় তাঁকে আদালত-বান্ধব হিসেবে নিয়োগ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। ঝড়খালি প্রকল্পের ব্যাপারে তাঁকে আলাদা একটি হলফনামা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান সুভাষবাবু। সরকারি প্রকল্পে পরিবেশ বিধি ভাঙার ব্যাপারে আদালতের বাইরে তাঁর মন্তব্য, ‘‘সরকারই যদি বিধি না-মানে, সাধারণ মানুষের বিধি ভাঙার প্রবণতা আটকানো যাবে কী ভাবে?’’ সুন্দরবন রক্ষায় আলাদা কমিটি গড়া যায় কি না, সেই বিষয়েও আদালতে একটি রিপোর্ট দেবেন তিনি।
সজনেখালি ট্যুরিস্ট লজ নিয়েও এ দিন আদালতে প্রশ্ন তোলেন সুভাষবাবু। তাঁর অভিযোগ, ওই লজে উপকূল-বিধি ভাঙা হয়েছে। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আইনজীবী অর্পিতা চৌধুরী আদালতে বলেন, ওই লজ তৈরি হয়েছিল উপকূলীয় বিধি তৈরির আগে। ফলে সেটির জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার প্রশ্ন নেই। সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণের সমস্যা নিয়ে এ দিন আদালতে একটি রিপোর্ট পেশ করেন অর্পিতাদেবী। তিনি আদালতে বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০০১ সালেই সুন্দরবন এলাকায় প্লাস্টিক ব্যবহারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। সেই বিধি ঠিকমতো বলবৎ হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনের কাছে ফের নোটিস পাঠানো হয়েছে।